
(লিখছেন বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: রুদ্রজিৎ পাল)
বাড়ছে গরম। সেই সঙ্গে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি চরমে উঠেছে। আর এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন শ্বাসকষ্টের সমস্যায়। সবথেকে বড় কথা, তাঁদের আগে কোনও দিনও এই ধরনের সমস্যা ছিল না। বরং তাঁরা হঠাৎ করেই শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাজির হচ্ছেন। এখন প্রশ্ন হল কেন হচ্ছে এই ধরনের সমস্যা?
কেন হচ্ছে?
এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, একাধিক ভাইরাস এখন সক্রিয় রয়েছে। তাদের মধ্যে কোনও একটির জন্য দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ। তারপর ফুসফুসে প্রদাহ তৈরি হচ্ছে। সেই প্রদাহ থেকেই বাড়ছে জটিলতা। শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। এটাই হল হঠাৎ করে শ্বাসকষ্টের সমস্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
তবে কোন ভাইরাস এই সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে, সেটা এখনও পরিষ্কার নয়। কারণ, আমাদের এখানে ভাইরাল প্যানেল টেস্ট খুব কম করা হয়।
মাথায় রাখতে হবে, এই সব রোগীদের শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি জ্বরও থাকছে। এছাড়া গায়ে-হাত-পায়ে ব্যথাও চরমে পৌঁছচ্ছে। সঙ্গে থাকতে পারে কাশি এবং সর্দিও। তাই এই ধরনের লক্ষণ দেখলে সাবধান হতে হবে।
কী করতে হবে?
শ্বাসকষ্ট হলে কোনওভাবেই বাড়িতে থাকা যাবে না। বরং দ্রুত গতিতে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। নইলে বড় কোনও সমস্যার ফাঁদেও জড়িয়ে পড়তে পারেন।
এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসক ইনহেলার দিতে পারেন। পাশাপাশি দেওয়া হতে পারে নেবুলাইজার। সেই সঙ্গে প্রয়োজন মতো ওষুধ খাওয়ারও প্রয়োজন পড়তে পারে। এছাড়া পরিস্থিতি যদি খুব বাড়াবাড়ি দিকে যায়, তাহলে হাসপাতালেও ভর্তি করতে হতে পারে রোগীকে।
কাদের বিপদের আশঙ্কা বেশি?
ভাইরসের আক্রমণের কারণে যে কারও হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তবে ধূমপায়ীরা বা যাঁদের ডায়াবেটিস, প্রেশার, কিডনির অসুখ বা ক্যান্সারের মতো অসুখ রয়েছে, তাঁরা বেশি বিপদে পড়তে পারেন। এছাড়া অ্যাজমা বা সিওপিডি থাকলে তো ঝুঁকির আশঙ্কা অনেকটাই বেশি।
অ্যাজমা রোগীরা সাবধান
অ্যাজমা বা সিওপিডি রোগীরা সাধারণত গরমকালে ভাল থাকেন। তবে তাঁদের এই সময়ও নিয়ম করে ইনহেলার নিয়ে যেতে হবে। নইলে হুট করে শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়তে পারে। তাই আপনারও সাবধান হন। মেনে চলুন চিকিৎসকের বলে দেওয়া নিয়ম। আর একান্তই সমস্যা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। নইলে বিপদ বাড়বে বই কমবে না।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।