
Tiger Hill New Travel Guidelines: মরশুমের শুরুতেই পাহাড়প্রেমীদের জন্য মন খারাপের খবর! তীব্র দাবদাহের হাত থেকে বাঁচতে উত্তরবঙ্গের এই অন্যতম প্রধান শৈলশহরে যখন ভিড় জমাচ্ছেন কাতারে কাতারে পর্যটক, ঠিক সেই সময় ব্যাপক যানজটের কবলে পড়ল দার্জিলিং। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সোনাদার পর থেকে ঘুম হয়ে খোদ দার্জিলিং শহর পর্যন্ত গাড়ির চাকা যেন চলছেই না। দীর্ঘক্ষণ জ্যামে আটকে থেকে চরম নাকাল হচ্ছেন দেশ-বিদেশের পর্যটক থেকে শুরু করে পাহাড়ের সাধারণ মানুষ ও নিত্যযাত্রীরা। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, এদিন কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং যাওয়ার পথে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (GTA) চিফ এগজিকিউটিভ অনীত থাপার কনভয়ও প্রায় দেড় ঘণ্টা যানজটের জালে আটকে পড়েন।
এই চরম অচলাবস্থা কাটাতে এবং যানজট সমস্যার একটি স্থায়ী বিহিত খুঁজতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে জেলা প্রশাসন। দার্জিলিংয়ের মহকুমা শাসক (SDO) বনমালী রায় আগামী সোমবার জেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের মেগা বৈঠক ডেকেছেন। মহকুমা শাসকের কড়া নির্দেশে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে হিমালয়ান ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন কমিটি ও গোর্খা একতা চালক সংগঠন সহ পাহাড়ের সমস্ত প্রধান গাড়িচালকদের সংগঠনগুলিকে। এছাড়াও পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি জিটিএ, পরিবহণ দফতর ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারাও এই জরুরি বৈঠকে হাজির থাকবেন। সোমবারের এই বৈঠক থেকেই দার্জিলিংয়ের যানজট জট খোলার একটি বাস্তবসম্মত রুটম্যাপ খোঁজার চেষ্টা করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
যানবাহন চলাচলের খতিয়ান নিলে দেখা যাচ্ছে, শিলিগুড়ি থেকে পাহাড়গামী গাড়িগুলি সোনাদা পর্যন্ত অনায়াসে ও নির্বিঘ্নে চলে এলেও আসল বিপত্তি শুরু হচ্ছে ঘুম স্টেশন ছোঁয়ার আগে থেকেই। প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে তৈরি হচ্ছে গাড়ির এক অন্তহীন মিছিল। এই দীর্ঘ ট্রাফিক জ্যামে পর্যটকদের বিলাসবহুল গাড়ি থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রীবাহী বাস এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণের লরিগুলি টানা ৩-৪ ঘণ্টা মাঝরাস্তায় আটকে থাকছে। পাহাড়ের পর্যটন ব্যবসায়ীদের একাংশ অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় দার্জিলিংয়ের এই ভয়াবহ ট্রাফিকের ছবি ও আতঙ্ক দেখে বহু পর্যটক মাঝপথেই তাঁদের দার্জিলিং ভ্রমণের বুকিং ও সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা পাহাড়ের অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা।
পাহাড়ের অভিজ্ঞ যানচালকদের একাংশের দাবি, ঘুম থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত এই যানজটের মূলে রয়েছে হেরিটেজ টয়ট্রেন। আসলে ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বা হিলকার্ট রোডের একপাশ দিয়েই চলে গিয়েছে টয়ট্রেনের সমান্তরাল লাইন। আবার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে টয়ট্রেনের লাইনটি সরাসরি মূল রাস্তা পারাপার বা ক্রস করেছে। পর্যটন মরশুম চাঙ্গা থাকায় এখন পাহাড়ে প্রচুর সংখক টয়ট্রেন জয়রাইড ও সাধারণ ট্রিপে চলাচল করছে। ফলে ধীরগতির টয়ট্রেন যখনই মূল রাস্তা দিয়ে পারাপার করে, তখন সুরক্ষার খাতিরে দু’দিকের সমস্ত গাড়িকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আর পাহাড়ি সর্পিল রাস্তায় একবার একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়লেই তার রেশ ধরে পেছনে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার জুড়ে গাড়ির পাহাড় তৈরি হয়ে যায়।
এদিকে যানজটের এই ক্ষত মেরামত করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঐতিহ্যবাহী টাইগার হিলে (Tiger Hill) গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে শুক্রবার একগুচ্ছ নয়া কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে দার্জিলিং সদর ট্রাফিক পুলিশ। আগে টাইগার হিলে সূর্যোদয় দেখার জন্য গাড়ি যাওয়ার নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা বাঁধা ছিল না। পুলিশের ইস্যু করা কুপন নিয়ে পর্যটকবাহী গাড়িগুলি ভোর সাড়ে ৫টা বা তার পরেও অনায়াসে টাইগার হিলে প্রবেশ করতে পারত। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শনিবার থেকে পর্যটকবাহী গাড়িগুলিকে ভোর সাড়ে চারটের (৪:৩০ AM) মধ্যে টাইগার হিলে পৌঁছানো এক্কেবারে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এরপরে আর কোনও গাড়িকে কোনও অবস্থাতেই টাইগার হিলের রাস্তায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পুলিশের অফিসিয়াল কুপন পকেটে থাকলেও ভোর সাড়ে ৪টের ডেডলাইন পার হলে আর ছাড় মিলবে না বলে নয়া নির্দেশিকায় সাফ জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।