
জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিকে ন্যায়ের দেবতা এবং ধীরগতিসম্পন্ন গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শনি একটি রাশিতে প্রায় আড়াই বছর অবস্থান করে। যখন শনি কোনও রাশির চতুর্থ বা অষ্টম ঘরে প্রবেশ করে, তখন সেই রাশির জন্য শনি ধাইয়া পর্ব শুরু হয়, যা জীবনের বিভিন্ন দিককে প্রভাবিত করে। বর্তমানে শনি মীন রাশিতে অবস্থান করছে এবং ২০২৬ সালেও এই রাশিতেই থাকবে। এই গোচরের কারণে সিংহ ও ধনু রাশি শনি ধাইয়ার প্রভাবের অধীনে রয়েছে। এই দুটি রাশির জন্যই পরিস্থিতিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
শনি ধাইয়া কখন শুরু -কখন শেষ?
সিংহ ও ধনু রাশির জাতকদের জন্য শনি ধাইয়া ইতিমধ্যেই ২৯ মার্চ, ২০২৫ থেকে শুরু হয়েছে। ৩ জুন, ২০২৭-র পর এই রাশির জাতকরা সাময়িক স্বস্তি পাবেন। তবে, ২০ অক্টোবর ২০২৭ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৮ পর্যন্ত ধাইয়ার প্রভাব পুনরায় ফিরে আসবে। এরপরই শনি ধাইয়া পুরোপুরি সমাপ্ত হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।
শনি ধাইয়া চলাকালীন কী ঘটে?
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, এই সময়ে কর্মক্ষেত্রে বাধা, আর্থিক উত্থান-পতন, স্বাস্থ্য সমস্যা এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে টানাপড়েন দেখা দিতে পারে। তবে, এই সময়টি ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং কর্মের গুরুত্ব বোঝার সুযোগও করে দেয়।
শনির অশুভ প্রভাব কমানোর উপায়
শনি মন্ত্র ও চালিসা জপ করা
প্রতিদিন অথবা প্রতি শনিবার 'ওঁ শং শনৈশ্চরায় নমঃ' মন্ত্রটি জপ করুন এবং শনি চালিসা পাঠ করুন। এতে মানসিক শান্তি পাওয়া যায় এবং শনির আশীর্বাদ বজায় থাকে।
দান করা
শনিবার কালো তিল, কালো বস্ত্র, কালো ডাল বা সর্ষের তেল দান করা শুভ বলে মনে করা হয়। এই প্রতিকারটি শনির অশুভ প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।
নিয়মিত হনুমানজির পুজো
বিশ্বাস করা হয় যে, হনুমানজির আশীর্বাদ শনির কষ্ট বা অশুভ প্রভাব লাঘব করে; তাই মঙ্গল ও শনিবার হনুমান চালিসা পাঠ করা অত্যন্ত ফলদায়ক।
অশ্বত্থ গাছের পুজো
শনিবার অশ্বত্থ গাছের নিচে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালান এবং গাছটিকে প্রদক্ষিণ করুন। শনি দোষ প্রশমনে এই প্রতিকারটি অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করা হয়। প্রতিদিন শিবলিঙ্গে জল নিবেদন করুন। শিবলিঙ্গে নিয়মিত জল নিবেদন করলে শনির প্রভাবের ভারসাম্য বজায় থাকে। ভগবান শিবের আশীর্বাদ জীবনে স্থিতিশীলতা নিয়ে আসে।
পশু-পাখিদের অন্নদান
কাক, কুকুর এবং অভাবী পশুপাখিদের অন্নদান করা পুণ্যকর্ম বলে গণ্য করা হয় এবং এর ফলে শনিজনিত সমস্যা হ্রাস পায়।
অভাবীদের সাহায্য
দরিদ্র, বয়স্ক এবং অসহায় মানুষদের সাহায্য করুন। শনি হলেন কর্মের দেবতা; তাই সৎকর্ম করলে তা আপনা-আপনিই তাঁর নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে দেয়।
(Disclaimer: এখানে দেওয়া তথ্য সাধারণ অনুমান এবং তথ্যের উপর ভিত্তি করে। আজতক বাংলা এটি নিশ্চিত করে না।)