
চিনতে পারছেন এই জনপ্রিয় সঞ্চালিকাকে?ছোটবেলা বড় মধুর। এই সময়টা সকলের কাছেই এক অন্যরকমের অনুভূতি দেয়। বড় হয়ে যাওয়ার পরও শৈশবের সেই সুখস্মৃতি মাঝে মাঝেই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। সেরকমই এক তারকার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেই মহিলা তখন ১৩ বছরের কিশোরী। নিষ্পাপ সরল মুখ, খোলা চুলে হেয়ারব্যান্ড, কানে রিং দুল, ফ্রক পরে চোখ বন্ধ করে রয়েছে। দু হাতের ওপর রাখা মুখ। এই পোজেই ছবি তুলেছে সে। এই কিশোরীকে এখন সবাই একনামেই চেনে। টলিপাড়ার সকলের খুব প্রিয় মানুষ ইনি।
১৩ বছরের সেই কিশোরীর মুখ এক ঝলক দেখলেই বুঝতে পারবেন কতটা সরলতা ছিল সেই মুখে। তবে সেই সরলতা আজও বজায় রয়েছে একই রকমভাবে। তাঁকে সবাই রান্নাঘরের রানি হিসাবে চেনেন। বড়পর্দাতে কাজ করলেও তাঁর সবচেয়ে বেশি আনাগোনা ছিল ছোটপর্দা জুড়েই। তাঁর সঞ্চলনা করা রান্নার শো একটা সময়ে দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। দীর্ঘদিন সেই কুকারি শো-তে তিনি সঞ্চলনার দায়িত্ব সামলে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছে গিয়েছিলেন।
তবে সেই শো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় যখন চালু হয়, তখন তাঁকে আর সঞ্চালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় না। এই নিয়ে অভিমান জন্মালেও তিনি কিন্তু তা মনের মধ্যে পুষে রাখেননি। বরং নিজের মতো করে ইউটিউব চ্যানেল খুলে রান্না থেকে সংসারের টুকিটাকি সবটা শেখান। বিয়ে করেছেন এক পরিচালককে, যিনি বেশ বিখ্যাত। তাঁর বিয়ে নিয়ে কম বিতর্কের সৃষ্টি হয়নি। তবে এইসব নিয়ে না ভেবে ছেলে ও স্বামীকে নিয়ে তাঁর ভরা সংসার। কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম তাঁর বাড়ির পুজো। যা একা হাতে সামলান সুদীপা চট্টোপাধ্যায়। হ্যাঁ, ১৩ বছরের সেই কিশোরী আসলে সুদীপা চট্টোপাধ্য়ায়। তিনি তাঁর কৈশোর বয়সের ছবি শেয়ার করেছেন সকলের সঙ্গে।

সুদীপা তাঁর মেয়েবেলার ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, ১৩ বছরের আমি। স্বপ্নে ভরা কৈশোর। সেই স্বপ্ন সুদীপার কিছুটা হলেও পূরণ হয়েছে। টানা ১৭ বছর রান্নাঘর শোয়ের দায়িত্ব সামলেছেন একেবারে দক্ষ হাতে। সঞ্চালনার পাশাপাশি অভিনয়ও করেছেন সুদীপা। আর শুধু তাই কেন পরিচালনা এবং চিত্রনাট্যের দিকেও নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন তিনি। তবে এখন তিনি এসবের মধ্যে আর নেই। ছেলে আদিকে বড় করে তোলার পাশাপাশি তিনি এখন শাড়ির বুটিকও চালান।