বাড়িতেই বানান চকোবারChocobar Recipe Without Cream: গ্রীষ্মের দাবদাহে প্রাণ ওষ্ঠাগত। এই মরসুমে আট থেকে আশি, সকলেরই মন টানে ঠান্ডা ঠান্ডা আইসক্রিমে। আর আইসক্রিম যদি হয় চকোবার, তবে তো কথাই নেই! কিন্তু বাজারের আইসক্রিমে মেশানো কৃত্রিম রং আর কেমিক্যাল নিয়ে অনেকেই চিন্তায় থাকেন। অথচ স্বাস্থ্যকর উপায়ে বাড়িতে বানাতে গেলে আবার দামি ক্রিম বা কনডেন্সড মিল্কের ঝক্কি পোহাতে হয়।
কেমন হতো, যদি এই সমস্ত দামি উপকরণ ছাড়াই এক্কেবারে পকেট ফ্রেন্ডলি উপায়ে দোকানের মতো ক্রাঞ্চি চকোবার ঘরেই তৈরি করা যেত? জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘আজ তক’-এর একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই এক চটকদার ও সহজ রেসিপি। কোনো ক্রিম বা কন্ডেন্সড মিল্ক ছাড়াই মাত্র কয়েকটি সাধারণ উপাদানে এবার ঘরোয়া উপায়েই তৈরি হবে পুষ্টিকর ও হাইজেনিক আইসক্রিম।
কী কী উপকরণ লাগবে?
দোকানের মতো পারফেক্ট স্বাদ পেতে রান্নাঘরে থাকা এই সাধারণ জিনিসগুলি হাতের কাছে গুছিয়ে নিন:
দুধ: আইসক্রিমের ক্রিমি টেক্সচারের জন্য ফুল ক্রিম মিল্ক ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো।
চিনি: স্বাদ ও মিষ্টির পরিমাপ অনুযায়ী।
কর্নফ্লাওয়ার বা কর্নস্টার্চ: মিশ্রণটিকে ঘন করার জন্য।
মিল্ক পাউডার: ক্রিমের অভাব পূরণ করে আইসক্রিমকে রিচ বানাতে।
ভ্যানিলা এসেন্স: বাজারের আইসক্রিমের মতো মন মাতানো গন্ধের জন্য।
মিল্ক চকলেট ও ডার্ক চকলেট: ওপরের খাস্তা আস্তরণ বা কোটিং তৈরির জন্য।
মাখন বা বাটার: চকলেটের স্তরটিকে মসৃণ করতে সামান্য একটু মাখন লাগবে।
রোস্টেড পিনাট বা চিনেবাদাম (ঐচ্ছিক): চকোবারের কামড়ে যদি বাদামের ক্রাঞ্চ পছন্দ করেন, তবে রোস্টেড আমন্ড বা চিনেবাদাম কুচি ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া চাইলে কোকো পাউডারও ব্যবহার করা যায়।
তৈরি করার সহজ পদ্ধতি
১. ম্যাজিক বেস তৈরি: প্রথমে একটি পাত্রে অল্প একটু ঠান্ডা দুধ আলাদা করে তুলে রাখুন। এবার সেই ঠান্ডা দুধে কর্নফ্লাওয়ার ভালো করে গুলে নিন, যাতে কোনও দলা বা ল্যাম্পস না পাকায়। এরপর ওই মিশ্রণেই মিল্ক পাউডার এবং চিনি মিশিয়ে একটি মসৃণ স্লারি বা বেস তৈরি করে রাখুন।
২. দুধ জ্বাল দেওয়া: এবার বাকি দুধটুকু গ্যাসে বসিয়ে ভালো করে গরম করুন। দুধ ফুটে উঠলে আগে থেকে তৈরি করে রাখা কর্নফ্লাওয়ার ও মিল্ক পাউডারের মিশ্রণটি আস্তে আস্তে ঢেলে দিন। এই সময় চামচ বা খুন্তি দিয়ে অনবরত নাড়তে হবে, যাতে তলা ধরে না যায়। অনবরত নাড়াচাড়া করতে করতে মিশ্রণটি যখন বেশ ঘন হয়ে আসবে, তখন গ্যাস বন্ধ করে দিন।
৩. ফ্লেভার যোগ করা: মিশ্রণটি সামান্য ঠান্ডা হয়ে এলে তার মধ্যে কয়েক ফোঁটা ভ্যানিলা এসেন্স মিশিয়ে দিন। এটি আইসক্রিমে হুবহু নামী ব্র্যান্ডের মতো ফ্লেভার এনে দেবে।
৪. মোল্ডে জমানো: এবার তৈরি হওয়া আইসক্রিমের মিশ্রণটি সাধারণ তাপমাত্রায় এনে আইসক্রিম মোল্ড বা ছাঁচের মধ্যে ঢেলে দিন। মাঝখানে আইসক্রিমের কাঠি বা স্টিক গুঁজে দিয়ে ডিপ ফ্রিজারে রেখে দিন কয়েক ঘণ্টার জন্য। সবচেয়ে ভালো হয় যদি সারা রাত বা ওভারনাইট ফ্রিজে রেখে জমিয়ে নিতে পারেন।
৫. চকলেটের জাদুকরী কোটিং: ডাবল বয়লার পদ্ধতিতে অথবা মাইক্রোওয়েভে মিল্ক চকলেট এবং ডার্ক চকলেট একসঙ্গে গলিয়ে নিন। এবার সেই গলানো চকলেটের মধ্যে সামান্য মাখন বা বাটার মেশান, এতে কোটিংটা দারুণ গ্লসি ও স্মুদ হবে। যাঁরা বাদাম পছন্দ করেন, তাঁরা এই মেল্টেড চকলেটে সামান্য চিনেবাদাম কুচি মিশিয়ে দিতে পারেন। পুরো মিশ্রণটি একটি লম্বা গ্লাসে ঢেলে রাখুন।
৬. ডিপ অ্যান্ড রেডি: ফ্রিজার থেকে আইসক্রিম মোল্ড বের করে সামান্য জলে ধরলেই আইসক্রিমগুলো সহজে বেরিয়ে আসবে। এবার জমে যাওয়া আইসক্রিমটি চটজলদি ওই গ্লাসের গলানো চকলেটে ডুবিয়ে বা ডিপ করে নিন। আইসক্রিম যেহেতু প্রচণ্ড ঠান্ডা, তাই চকলেটের স্তরটি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই জমে শক্ত হয়ে যাবে। ব্যস, তৈরি আপনার সাধের চকোবার!
শেফ স্পেশাল জরুরি কিছু টিপস:
মসৃণ টেক্সচারের জন্য: কর্নফ্লাওয়ার সবসময় ঠান্ডা দুধে গুলবেন। গরম দুধে দিলে দলা পাকিয়ে যাবে। আর দুধ ফোটানোর সময় অনবরত নাড়তে হবে।
কড়কড়ে চকোলেট শেল: আইসক্রিম যেন ফ্রিজে খুব ভালোমতো জমে পাথর হয়ে থাকে। নরম থাকলে চকলেটে ডোবানোর সময় গলে যাবে। আর ডিপ করার কাজটি খুব দ্রুত করতে হবে।
গ্রীষ্মের অলস দুপুরে বা রাতের খাবারের পর ডেজার্ট হিসেবে এই হোমমেড চকোবার ছোট-বড় সবার মন জয় করতে বাধ্য। কম খরচে ও কম উপকরণে তৈরি এই রিফ্রেশিং ট্রিট একদিকে যেমন স্বাস্থ্যকর, তেমনই সুস্বাদু।