গৌতম গম্ভীরদক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ভারতীয় দল টেস্ট সিরিজে একেবারেই ভাল খেলতে পারেনি। ফলে প্রোটিয়ারা ২-০ ব্যবধানে হোয়াইট ওয়াশ করেছে, যা দলের আত্মবিশ্বাস এবং খেলার ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। গৌতম গম্ভীর প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি দ্বিতীয় ক্লিন সইপ। গত বছর নিউজিল্যান্ড সফরে পরাজয়ের পর গম্ভীরের কোচিং এবং কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন খেলোয়াড় এবি ডি ভিলিয়ার্স বলেন যে তিনি সবসময় গম্ভীরকে একজন আবেগপ্রবণ খেলোয়াড় হিসেবে দেখেছেন। তিনি বলেন, 'ভারতীয় দলের পরিস্থিতি বোঝা সহজ নয়। নেতৃত্বের দিক থেকে জিজি (গৌতম গম্ভীর) কেমন তা আমি জানি না। আমি সবসময় ওকে একজন আবেগপ্রবণ খেলোয়াড় হিসেবে জানি। আর যদি ড্রেসিংরুমে সেই আবেগপ্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে একজন আবেগপ্রবণ কোচকে সাধারণত দলের জন্য ভালো নয় বলেই মনে করা হয়।'
রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ ব্যাপারে মুখ খুলেছেন এবি ডিভিলিয়ার্স। তিনি বলেন, 'কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে গম্ভীর একই কোচ বা পর্দার আড়ালে একই নেতা। এখানে কোনও সঠিক বা ভুল বলে কিছু নেই; কিছু খেলোয়াড় একজন প্রাক্তন ক্রিকেটারকে তাদের কোচ হিসেবে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, আবার অন্যরা এমন একজন কোচের সঙ্গে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন যিনি হয়তো খেলেননি কিন্তু কোচিংয়ে ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।'
এ ব্যাপারে দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ক্রিকেটার আরও বলেন, 'এটা সহজ প্রশ্ন নয়, কারণ আমি কখনও শুক্রির (আফ্রিকান কোচ) অধীনে খেলিনি বা জিজি, মর্নে মরকেল, অথবা রায়ান টেন ডোয়েশ্যাটের সঙ্গে ভারতীয় ড্রেসিংরুমে ছিলাম না। কাগজে-কলমে সবকিছুই ভালো দেখাচ্ছে, কিন্তু পর্দার আড়ালে পরিবেশ কেমন তা আমি জানি না। আমি শুধু এটুকু বলতে পারি যে প্রতিটি খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতা আলাদা।'
গম্ভীরের মতো হলেও গ্যারি কাস্টেনের কোচিং-এ খেলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন, 'গ্যারি কার্স্টেনের অধীনে খেলা আমার সবসময়ই ভালো লেগেছে। তিনি নিজে একজন প্রাক্তন খেলোয়াড় এবং অনেক দিক দিয়ে গৌতম গম্ভীরের মতোই। কিছু খেলোয়াড় এমন কোচের সাথে বেশি আত্মবিশ্বাসী বোধ করে যিনি নিজেও একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড়। এমন একজন কোচের উপস্থিতি তাদের অতিরিক্ত অনুপ্রেরণা দেয় এবংতারা দল এবং কোচের জন্য আরও কঠোর পরিশ্রম করতে ইচ্ছুক।'
ভারতের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ হলো এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং নতুন উদ্যম, আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ় মানসিকতা নিয়ে দলকে মাঠে নামান। আবেগ এবং বোধগম্যতার সঠিক ভারসাম্যই কেবল দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।