BY- Aajtak Bangla
29April, 2026
ই পদের জন্য আপনার দরকার ১ কাপ বেসন, ১ কাপ ময়দা, ১ কাপ ঘি, ২ কাপ চিনি, ১ কাপ জল এবং সুবাসের জন্য সামান্য এলাচ গুঁড়ো। এছাড়া চিনির সিরা পরিষ্কার করতে ১ টেবিল চামচ দুধ এবং সাজানোর জন্য পেস্তা ও বাদাম কুচি হাতের কাছে রাখুন।
প্রথমেই কড়াইতে ঘি গরম করে তাতে বেসন ও ময়দা দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে হালকা করে ভাজতে থাকুন যতক্ষণ না কাঁচা গন্ধ গিয়ে একটা সুন্দর সুবাস বেরোচ্ছে। মিশ্রণের রং সোনালি হয়ে এলে নামিয়ে নিন এবং একটি চালনি দিয়ে ভালো করে চেলে নিন যাতে কোনো দলা না থাকে।
এরপর শুরু হবে রস তৈরির কাজ। একটি গভীর পাত্রে চিনি ও জল মিশিয়ে জ্বাল দিতে থাকুন। সিরা ফুটতে শুরু করলে তাতে ১ চামচ দুধ দিন, দেখবেন চিনির সব ময়লা উপরে ভেসে উঠছে। চামচ দিয়ে সেই ময়লা অনায়াসেই ফেলে দিন, এতে সিরা হবে কাঁচের মতো স্বচ্ছ।
সিরা কতটা ঘন হলো তা বোঝার একটি সহজ উপায় আছে। একটি বাটিতে কিছুটা ঠান্ডা জল নিয়ে তাতে এক ফোঁটা সিরা ফেলুন। যদি সিরাটি জলের নিচে জমাট বেঁধে বলের মতো হয়ে যায় এবং টানলে রাবারের মতো বাড়ে, তবে বুঝবেন আপনার সিরা একদম তৈরি। এবার এলাচ গুঁড়ো মিশিয়ে নামিয়ে নিন।
একটি নন-স্টিক প্যান বা থালায় সামান্য ঘি মাখিয়ে নিন। এবার গরম সিরাটি তাতে ঢালুন। মিশ্রণটি যখন হাত দিয়ে ধরার মতো ঠান্ডা হবে, তখন সেটিকে ফোল্ড করে করে দড়ির মতো টানতে থাকুন। টানতে টানতে যখন এটি সাদাটে ও চকচকে হয়ে আসবে, তখন সেটিকে একটি গোল রিং-এর মতো আকার দিন।
আসল কারিকুরি লুকিয়ে আছে এই ধাপে। একটি বড় থালায় আগে থেকে ভেজে রাখা বেসন ও ময়দার মিশ্রণটি ছড়িয়ে দিন। তার মাঝখানে চিনির ওই রিংটি রাখুন। এবার রিংটি আটার মিশ্রণে বারবার ডুবিয়ে ‘৮’ (8) আকৃতির মতো করে পেঁচিয়ে টানতে থাকুন।
প্রতিবার টানার সময় উপর দিয়ে হালকা করে ময়দার গুঁড়ো ছড়িয়ে দেবেন। এইভাবে ধৈর্য ধরে টানতে টানতে দেখবেন চিনির সিরাটি ধীরে ধীরে সূক্ষ্ম সুতোর মতো বা মিহি আঁশের আকার নিচ্ছে। ঠিক যেমনটা আমরা নামী দোকানের শোনপাপড়িতে দেখে অভ্যস্ত।
যখন দেখবেন প্রচুর আঁশ তৈরি হয়ে গেছে এবং চিনির দড়ি উধাও, তখন বাড়তি আটাগুলো ঝেড়ে ফেলুন। এবার ছোট ছোট বাটি বা চৌকো কোনো ছাঁচে বাদাম কুচি দিয়ে আঁশগুলো ভরে দিন। ওপর দিয়ে হালকা চাপ দিলেই তৈরি আপনার সাধের মিষ্টি।
ব্যস্ত কর্মজীবনে আপনি কোনো সরকারি দফতর বা বেসরকারি সংস্থায় কাজ করুন না কেন, ছুটির দিনে এই রেসিপি ট্রাই করলে পরিবারের সবার মন জয় করা নিশ্চিত। তবে মনে রাখবেন, শোনপাপড়ি ঠান্ডা হওয়ার পর অবশ্যই একটি বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করবেন। তাহলেই দীর্ঘক্ষণ এর মুচমুচে ভাব বজায় থাকবে।