07 March, 2025
BY- Aajtak Bangla
বাজার থেকে কেনা ঘিয়ে আগের মতো সেই খাঁটি সুবাস অনেক সময় পাওয়া যায় না। চড়া দাম দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে ভেজাল বা রাসায়নিক মেশানো ঘি হাতে আসে বলে অভিযোগ করেন অনেকেই। তবে সামান্য ধৈর্য আর সঠিক পদ্ধতি জানলে বাড়িতেই তৈরি করা সম্ভব সুগন্ধি ও দানাদার ঘি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরে তৈরি ঘি শুধু স্বাদেই নয়, গুণেও অনেক ভালো। রান্না, মিষ্টি বা ভাতের সঙ্গে সামান্য ঘি—সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার খাবারের স্বাদ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ভালো ঘি তৈরির প্রথম শর্ত হলো সঠিক দুধ নির্বাচন করা। ঘি বানানোর জন্য সবসময় ফুল-ফ্যাট গোরুর দুধ ব্যবহার করা ভালো। এই ধরনের দুধ থেকে বেশি পরিমাণে মালাই বা সর পাওয়া যায়।
প্রতিদিন দুধ ফুটিয়ে ঠান্ডা করলে উপরে যে পুরু সর জমে, তা আলাদা করে একটি পাত্রে তুলে রাখুন। এই মালাই ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন এবং এভাবে প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন জমালে ঘি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ ক্রিম পাওয়া যাবে।
মালাই জমে গেলে সেটি ফ্রিজ থেকে বের করে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনতে হবে। এরপর মিক্সার বা হ্যান্ড বিটার দিয়ে ভালো করে ফেটাতে হবে। কিছুক্ষণ পরই দেখবেন সাদা ননী বা মাখন আলাদা হয়ে গেছে।
এই মাখন আলাদা করে নিয়ে ঠান্ডা জলে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এতে বাড়তি দুধের অংশ বেরিয়ে যায় এবং তৈরি ঘি অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকে।
এবার একটি ভারী তলার কড়াইতে সেই মাখন অল্প আঁচে বসান। মাখন ধীরে ধীরে গলে যেতে শুরু করবে। এই সময় মাঝেমধ্যে নাড়তে থাকুন যাতে নিচে লেগে না যায়।
কিছুক্ষণ পর ফেনা কমে গিয়ে নিচে সোনালি রঙের মিল্ক সলিডস জমা হতে শুরু করবে এবং একটি সুন্দর সুগন্ধ বের হবে। তখনই বুঝতে হবে ঘি তৈরি হয়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস বন্ধ করতে হবে, না হলে পুড়ে তেঁতো হয়ে যেতে পারে।
সামান্য ঠান্ডা হলে একটি শুকনো ছাঁকনি দিয়ে ঘি ছেঁকে কাচের বোতল বা বয়ামে সংরক্ষণ করুন। ব্যবহারের সময় সবসময় শুকনো চামচ ব্যবহার করলে ঘি অনেকদিন সতেজ থাকবে। বাড়িতে তৈরি এই ঘি যেমন সাশ্রয়ী, তেমনই স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ।