12 April, 2026
BY- Aajtak Bangla
রাতের ড্রাইভিং যতটা আনন্দদায়ক, ততটাই চ্যালেঞ্জিং। অন্ধকার রাস্তা আর ক্লান্তি, এই দুইয়ের মিশেলে যে কোনও সময় ঘটে যেতে পারে বড় দুর্ঘটনা। নিরাপদ সফরের জন্য মাথায় রাখুন কিছু জরুরি নিয়ম।
লম্বা পথ পাড়ি দেওয়ার আগে শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিন। রাতে গাড়ি চালানোর পরিকল্পনা থাকলে দিনে অন্তত কয়েক ঘণ্টা গভীর ঘুম মাস্ট। শরীর ক্লান্ত থাকলে মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়, যা হাইওয়েতে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
একটানা বহুক্ষণ গাড়ি চালানো মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। প্রতি দু-তিন ঘণ্টা অন্তর গাড়ি থামিয়ে ছোট বিরতি নিন। স্টিয়ারিং ছেড়ে কিছুক্ষণ হাত-পা ছড়িয়ে হাঁটাহাঁটি করলে একঘেয়েমি কাটে এবং শরীর চাঙ্গা হয়ে ওঠে
শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত জরুরি। ডিহাইড্রেশন বা শরীরে জলের অভাব হলে দ্রুত ক্লান্তি আসে এবং চোখের পাতা ভারি হয়ে যায়। তাই গাড়িতে পর্যাপ্ত জলের বোতল রাখুন এবং মাঝেমধ্যে জল পান করুন।
যাত্রাপথে খাদ্যাভ্যাসের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি। চর্বিজাতীয় বা ভারি খাবার খেলে শরীরে আলস্য আসে। পরিবর্তে ফল, ড্রাই ফ্রুটস বা হালকা এনার্জি বার সঙ্গে রাখুন। এতে এনার্জিও বজায় থাকবে, আবার শরীরও হালকা থাকবে।
গাড়ি চালানোর সময় নিজেকে সজাগ রাখা এক বড় আর্ট। ঘুম কাটাতে হালকা চালের গান বা পছন্দের পডকাস্ট শুনতে পারেন। তবে খুব বেশি শান্ত বা ধীর গতির সুর এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ তাতে তন্দ্রা আসার সম্ভাবনা থাকে।
একা যাওয়ার চেয়ে পাশে একজন সঙ্গী থাকা সবসময় ভালো। মাঝেমধ্যে কথা বলতে থাকলে মস্তিষ্ক সজাগ থাকে। তবে চালকের সঙ্গে গভীর আলোচনায় না গিয়ে হালকা কথোপকথন চালানোই শ্রেয়।
রাতের সফরে গাড়ির হেডলাইট হলো চালকের তৃতীয় চোখ। বেরোনোর আগে দেখে নিন হেডলাইট ও টেললাইট ঠিকমতো কাজ করছে কি না। আলোর অভিমুখ যেন সঠিক থাকে, যাতে সামনের রাস্তা পরিষ্কার দেখা যায়।
পরিচ্ছন্ন উইন্ডশিল্ড ও আয়না দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করে। সামনের কাঁচ নোংরা থাকলে উল্টোদিকের গাড়ির আলোর ঝলকানিতে দৃষ্টিবিভ্রম হতে পারে। তাই সফরের আগে কাঁচ এবং আয়না ভালো করে মুছে নিন।
শরীরের সংকেত কখনোই উপেক্ষা করবেন না। যদি দেখেন বারবার হাই উঠছে বা গাড়ি নিজের লেন ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে, তবে ঝুঁকি না নিয়ে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামান। কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিয়ে শরীর ঝরঝরে করে আবার যাত্রা শুরু করুন।