হাসিনার ইলিশ কূটনীতিতেই ভরসা তারেকের?পয়লা বৈশাখ প্রত্যেকটি বাঙালি কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন। এই দিনটি বাঙালিরা নানা ধরনের আনন্দের মধ্যে দিয়ে কাটায়। এটা বছরের শুরুর দিন, তাই মনে করা হয় এই দিনটা যদি খুব ভাল ভাবে কাটানো যায় তা হলে গোটা বছরটাই ভাল কাটবে। তাই নতুন জামাকাপড় পরা, পুজো দেওয়া, কোথাও বেড়াতে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা প্রকার খাবার খেয়ে বাঙালিরা দিনটি উদ্যাপন করেন। এই দিন পঞ্চপদ রান্না করে খাওয়ার রেওয়াজ প্রায় সব বাঙালি ঘরেই দেখা যায়। আর বছরের প্রথম দিন যদি পাতে থাকে ইলিশ, তাহলে তো কথাই নেই। ইলিশ নামটা খাদ্য রসিক বাঙালির কাছে একটা আবেগ, একটা সুখকর অনুভূতি। কথায় আছে মাছে ভাতে বাঙালি আর সেই বাঙালির মাছেদের রাজা ইলিশ। এটি এমন একটি মাছ যাকে ভাজা, ঝোল, সরষে বাটা, ভাপা নানা রকম ভাবে খাওয়া যায়। আর ইলিশের মধ্যে সেরা পদ্মার ইলিশ। এবছরের নববর্ষে রাজ্যের মানুষ বাংলাদেশের ইলিশ দিয়ে উদযাপন করতে পারে, এমন একটা সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে হালফিলে। সত্যিই কী এমনটা ঘটছে? চলুন জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশ সরকার কী বলছে।
প্রসঙ্গত, হাসিনার আমলে প্রতিবার পুজোয় সময় বাংলাদেশ থেকে পদ্মার ইলিশ আসত ভারতে। মহম্মদ ইউনূসের সময়ও দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব বাড়লেও সেই ধারা বজায় ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে জিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন খালেদা জিয়ার পুত্র তথা বিএনপি প্রধান তারেক রহমান। সূত্রের খবর, এবার পয়লা বৈশাখেই ভারতে আসতে পারে বাংলাদেশি ইলিশ। তাহলে কি দীর্ঘ সময়ের পর অবশেষে কাটতে চলেছে দু’দেশের সম্পর্কের বরফ?
বাংলাদেশি ইলিশ নিয়ে যা বললেন মৎস্যমন্ত্রী
ভারতে ইলিশ রফতানির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, সরকার বাণিজ্যিকভাবে কোনও ইলিশ রফতানি করে না। ভারতে বিভিন্ন উৎসবে যে ইলিশ পাঠানো হয়, তা মূলত সৌজন্যমূলক উপহার। এবারও পয়লা বৈশাখে ভারতের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ইলিশ পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সরকার প্রধান বা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে ইলিশ রফতানি।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান আজ মঙ্গলবার সতিন দিনের ভারত সফরে নয়াদিল্লি আসছেন। তাঁর সঙ্গে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তার আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সোমবার দেখা করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার প্রণয়কুমার বর্মা। এতে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানিসহ বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই আবহে পাল্টা সৌজন্য হিসেবে তারেকের বাংলাদেশ ভারতে ইলিশ রফতানি করলে ভোজনপ্রিয় বঙ্গবাসীর কাছে তা যে বিরাট খুশির খবর হবে তা বলাই বাহুল্য।