রাজ্যে নির্বাচনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হওয়া অজয় পাল শর্মাকে নিয়ে বিতর্ক এবার পৌঁছল সুপ্রিম কোর্টে। উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের এই আইপিএস অফিসারকে পর্যবেক্ষকের পদ থেকে অপসারণের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা হল পিটিশন।
কাশীপুর-বেলগাছিয়ায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিলেন বিজেপি নেতা তথা বলিউড অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। ভোট দিয়ে মিঠুন বললেন, 'আমি সাধারণ মানুষের মতোই, যা করি, লাইনে দাঁড়িয়ে করি। কোনও স্পেশাল ব্যবস্থা নিই না। এবারও ভোট ব্যাপক হবে। ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে মনে করছি। আর যদি ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে, তাহলে বুঝে নিন কী হবে! বাপ আসবে!'
২০২৬ সালের ভোটে নজিরবিহীন কিছু ঘটনা চোখে পড়ছে। এই প্রথমবার ভোটে মোতায়েন করা হয়েছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা NIA। সাধারণত দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় ব্যাঘাত হলে এনআইএ তদন্তে নামে। আজ অর্থাত্ দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন দেখা গেল, ভাঙড়ে ঘুরছেন এনআইএ। অন্যদিকে ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লার দাবি, তাঁরা ভয় পাচ্ছেন না। তাঁর কথায়, ''এনআইএ এখানে এসেছে আমাদের ভয় দেখাতে। এই প্রথম দেখছি,ভোটে এনআইএ, সিবিআই মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু এই সব করে কোনও লাভ হবে না, আমরা ভয় পাচ্ছি না।'
ভোটের সকালে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্র। ভোটগ্রহণের মাঝেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ৭৬ নম্বর বুথে। অভিযোগ ওঠে, ওই বুথ পরিদর্শনে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন BJP প্রার্থী বিকাশ সর্দার। তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, নিরাপত্তারক্ষীদের আগ্নেয়াস্ত্রও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়।
ভোটের দিন সকাল থেকেই ভবানীপুর কেন্দ্রে ঘুরছেন শুভেন্দু। পুজো দেন খিদিরপুরের হনুমান মন্দিরেও। একটা সময়ে চক্রবেড়িয়ায় মুখোমুখি হন প্রতিদ্বন্দ্বী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন, 'আজকে মুখ্যমন্ত্রী নন, আজ উনি শুধু প্রার্থী। নিশ্চয়ই বুথে ঘুরবেন। কিন্তু ৫০-৬০ জন লোক জড়ো করে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন। গুন্ডামিটা বন্ধ করুন। উনি তো ভদ্রলোককে কাউন্সিলার বানাননি। গুন্ডাদের কাউন্সিলার বানালে তো ডান্ডা খেতেই হবে।' ভবানীপুরের ৯০ শতাংশ ভোটারই ভোট দেবেন বলে আশাবাদী BJP প্রার্থী। ৯৬টি ক্যাম্প অফিস বানিয়েছে BJP এবং সর্বোপরি ১২৭টি বুথে এই প্রথম BJP এজেন্ট দিতে পেরেছে বলেও জানান তিনি।
পানিহাটিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে কান্নায় ভেঙে পড়লেন আরজি কর হাসপাতালে নিহত নির্যাতিতার বাবা। স্ত্রী রত্না দেবনাথ এই কেন্দ্রেরই BJP প্রার্থী। মেয়ের ন্যায়বিচারের দাবিতেই তাঁদের এই লড়াই বলে জানালেন শেখররঞ্জন দেবনাথ। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, 'এটা খুবই দুঃখজনক, মেয়ের জন্য ন্যায়বিচার আনতে আমাদের এই পন্থা নিতে হল। তবে আমরা জিতবই আর মেয়ের ন্যায়বিচার ছিনিয়ে আনবই। আমরা জনগণের সঙ্গে রয়েছি।' EVM মেশিন নিয়ে অভিযোগ তোলেন রত্না দেবনাথ। তবে তাঁর বক্তব্য, 'আর যেন কোনও রক্তারক্তি না হয়, যেন নির্বিঘ্ন ভোট হয়।'
অভিষেকের দাবি, হাইকোর্টের অর্ডার থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষদের ভয় দেখাতে এক্তিয়ার বিরুদ্ধ কাজ করা হচ্ছে। এমনিতেই গায়ের জোরে ৩০ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছে। এতে কোনও লাভ হবে না। প্রথম দফায় বিজেপি কুপোকাত হয়ে গিয়েছে। এই দফায় দফারফা হবে।
মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট দিয়ে বেরিয়ে অভিষেক অভিযোগ করেন নানা জায়গায় হুমকি, হুঁশিয়ারি দিয়ে ভোট করানো হচ্ছে। কমিশনকে তোপ দেগে অভিষেক বলেন, 'ভারতীয় সেনার রাফাল আর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা শুধু বাকি আছে। ওটাও করে দিন না। বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যা করা উচিত তা আপনারা বাংলার বিরুদ্ধে করছেন। দ্বিতীয় দফাতেই দফারফা হবে BJP।' তিনি আরও বলেন, 'স্পেশাল অবজার্ভারের কি এক্তিয়ার রয়েছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রেইড করার? তাঁরা তো নির্বাচন কমিশনকে রিপোর্ট দেবে। এসব করে কোনও লাভ হবে না। তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরবে।'
এবারের বঙ্গ ভোটে সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্র ভবানীপুর। যেখানে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে লড়াই হচ্ছে বিরোধী দলনেতার। দ্বিতীয় দফার ভোটে সকাল থেকেই সরগরম ভবানীপুর। এদিন সকালে বুথ পরিদর্শন করে চক্রবেড়িয়ার বুথে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুক্ষণ পরেই সেখানে হাজির হন বিরোধী দলনেতা তথা ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। মমতা যেখানে বসেছিলেন সেখান থেকে ৫০ মিটার দূরে পরিদর্শন করেন তিনি।
ভোটের সকালে নজিরবিহীন চিত্র দেখা গেল ভবানীপুরে। সকাল সকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেরিয়ে পড়েন কালীঘাটের বাড়ি থেকে। পৌঁছে যান চেতলায়। গাড়ি করে কিছুক্ষণ পরিদর্শন করার পর তিনি চক্রবেড়িয়ার রাস্তায় চেয়ার নিয়ে বসে পড়েন। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, 'গণতন্ত্রের পুরো ১২টা বাজিয়ে দিয়েছে। রিগিং করে ভোটে জেতার চেষ্টা করছি BJP।'
বিজেপি রিগিং করছে। এভাবেই ভোটে জেতার চেষ্টা করছে। আজ সকালে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তৃণমূল কর্মীরা মরে গেলেও ছাড়বে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।