শুক্রবার ফুরফুরে মেজাজে পাওয়া গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। দেখা গেল নৌকায় চেপে গঙ্গাবক্ষে বেড়ালেন তিনি। নিজে ক্যামেরা হাতে ছবি তুললেন হাওড়া ব্রিজ এবং বিদ্যাসাগর সেতুর। মর্নিং ওয়ার্কারদের সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করলেন। তাঁকে দেখতে জনতার ভিড় উপচে পড়েছে। নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন গঙ্গাবিহারের ভিডিও। সঙ্গে ক্যাপশনে নরেন্দ্র মোদী লিখেছেন, 'গঙ্গার সঙ্গে বাংলার নাড়ির টান, রয়েছে আত্মিক যোগ। এই সভ্যতার ইতিহাস বহন করছে গঙ্গানদী।' তাঁর নৌকাতেই গঙ্গাবক্ষে বেড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অথচ এখনও যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না মাঝি গৌরাঙ্গ বিশ্বাস। নৌকার মালিক মহম্মদ ইফতেকার আহমেদের বিস্ময়ও যেন কাটছেই না তাঁদের।
তাঁর নৌকাতেই গঙ্গাবক্ষে বেড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না মাঝি গৌরাঙ্গ বিশ্বাস। নৌকার মালিক মহম্মদ ইফতেকার আহমেদকেই বা কী বার্তা দিলেন মোদী? অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন তাঁরা।
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা বহুদিন ধরেই নানা নামে পরিচিত। কেউ একে ভালোবেসে বলেন ‘সিটি অফ জয়’, আবার ব্রিটিশ লেখক রুডইয়ার্ড কিপলিং একসময় একে বলেছিলেন ‘সিটি অফ ড্রেডফুল নাইট’। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কে শহরটি নতুন এক তকমা পেয়েছে, ‘বস্তির শহর’।
রাজ্যে প্রথম দফা ভোট সম্পন্ন। আত্মবিশ্বাসী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে অমিত শাহ। এই মুহূর্তে নরেন্দ্র মোদী রয়েছে কলকাতাতেই। আর শুক্রবার ভোরেই তিনি বেরিয়ে পড়লেন গঙ্গাবিহারে। নৌকায় চেপে ঘুরলেন হুগলি নদীতে। ক্যামেরা হাতে নিজেই ছবি তুললেন হাওড়া ব্রিজের।
পশ্চিমবঙ্গ এবার তৈরি হচ্ছে দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় রেকর্ড ৯০ শতাংশের বেশি ভোটদানের রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় দফার প্রচারকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে উঠেছে। শুক্রবার বাংলার হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক আঙিনায় একদিকে যেমন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একাধিক কর্মসূচি রয়েছে, তেমনই পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ময়দানে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভোটের উত্তাপে ফুটছে বাংলা। সঙ্গে দোসর হয়েছে তাপদাহ। গরমের চোটে একবারে হাঁসফাঁস অবস্থা দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। ইতিমধ্যেই তাপমাত্রা পেরিয়ে গিয়েছে ৪০ ডিগ্রির গণ্ডি। পাশাপাশি আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিও রয়েছে। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগার। যদিও এমন দাবদাহের মধ্যেও ভাল খবর দিয়েছে হাওয়া অফিস। তাদের পক্ষ থেকে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে কালবৈশাখী ঝড়ও হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এতকিছুর পরও গরমের অস্বস্তি বজায় থাকবে।
এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে ভোটের প্রচারে আসছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে ২ দিন প্রচার করবেন বাংলায়। আগেই জানিয়েছেন, 'দিদি সবচেয়ে কঠিন লড়াই লড়ছেন।'
অন্যদিকে, ২৫ এপ্রিল থেকে রাজ্যে কালবৈশাখীর প্রকোপ বাড়তে শুরু করবে। প্রথমে কিছু জেলায় হালকা বজ্রসহ বৃষ্টি হলেও, ২৬ থেকে ২৯ এপ্রিলের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে, সঙ্গে বজ্রপাতের আশঙ্কাও থাকবে।
রাজ্যে প্রথম দফায় পড়ল ৯১.৭৪ শতাংশ (পৌনে ৮টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য)। প্রথম দফায় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভোটদানের হার দক্ষিণ দিনাজপুরে (৯৪.৭৭ শতাংশ)। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে ভগবানগোলায়।
প্রথম দফা নির্বাচনে নজিরবিহীনভাবে প্রচুর শতাংশ ভোট পড়েছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট হারের শতাংশ ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। নির্বাচন শেষের আগেই বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে জনসভা থেকে বিজেপির জয়ের দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন শুভেন্দুও বড় দাবি করে বলেন, ১৫২টি আসনের নির্বাচনে বিজেপি ১২৫টা সিট পাবে। অন্যদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, আমার চোখ যদি মানুষের ভাষা বোঝে, অলরেডি আমরা জেতার জায়গায় আজকের ভোটেই। সেইসঙ্গে এবার ভোটের হার বৃদ্ধির কারণও জানান মমতা।
বাংলায় প্রথম দফার ভোটের শেষ লগ্নে এসে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আরও কড়া ভাবে ব্যবহারের কথা জানাল কমিশন। ইতিমধ্যেই বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর শুনে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমারকে ফোন করেছেন।