বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়ির কাছে এসে হুমকি দিচ্ছে। অভিযোগ করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। ওয়াই চ্য়ানেলের ধর্নামঞ্চ থেকে বলেন, 'আমার বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে লুম্পেন পার্টির লোকজন হুমকি দিচ্ছে। বলছে আমি যেন হার্ট অ্য়াটাকে মরি। তবে আমি অত সহজে মরব না। আগে বিজেপিকে সরাব তারপর মরব।' মমতার আরও দাবি, জ্যোতি বসু বা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যরা ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পর তাঁদের বাড়ির সামনে এমন করা হত না। বিজেপি এসে এখন এই সংস্কৃতি চালু করেছে।
২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার দুই মামলায় গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সচিন কুমার সিং। বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও হেনস্থার অভিযোগে তাঁকে জেরা করছে পুলিশ। শীঘ্রই আদালতে তোলা হবে।
ফের ইভিএমএ কারচুপি ও ভোটলুটের অভিযোগ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার ওয়াই চ্য়ানেলে ধরনা মঞ্চ থেকে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান তিনি। বলেন, '১৭৭ আসনে ভোটে কারচুপি হয়েছে।' একইসঙ্গে নাম না করে দলের একাংশকেও বেঁধেন তিনি। বলেন, 'আমি যাদের জন্য সবচেয়ে বেশি করেছি সেই তারাই এখন গদ্দারদের সঙ্গে লাইন দিয়েছে। তোমাদের এলাকায় ৭ হাজার বাড়ি ভাঙা হয়েছে। আমি বলার পরও তোমরা যাওনি।'
ওয়াই চ্য়ানেলে ধরনায় বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তা গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস কোনও রাজনৈতিক দলই নয়। মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় লড়াই করেছিলেন সেটা ঠিক। তবে ওই দলটার অস্তিত্ব আর নেই। তাঁর কথায়, 'ভোটের ছয় মাস আগেই বলেছিলাম, তৃণমূল নেই, থাকবে না, মুছে যাচ্ছে, মুছে গিয়েছে। আজও একই কথা বলছি। তবে রাজ্যবাসীর দুর্ভাগ্য, ভালো বিরোধী দল নেই। সেটা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।'
সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছাত্র সংসদের ইউনিয়ন রুম থেকে উদ্ধার দু’ব্যাগ উই ধরা নগদ টাকা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ভর্তি-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে টাকার উৎস খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে বিজেপি।
উত্তর কলকাতার TMC সাংসদ যদি আপনার দলে আসতে চান, তাহলে নেওয়া হবে? প্রশ্ন সাংবাদিকের। আরেক সাংবাদিক মনে করিয়ে দিলেন, 'আপনার বন্ধু'। শুনেই হেসে ফেললেন তাপস রায়। বললেন, 'বন্ধু বলে আমার বয়স বাড়িয়ে দিও না। অনেক বড়'। আর কী বললেন?
'তৃণমূল কংগ্রেস দলটার অস্তিত্ব থাকা উচিত নয়। এমন দল গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। দলটি দুই ভাগে বিভক্ত এখন। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের কথা কেউ শুনছেন না। অভিষেকের কথা শোনার তো প্রশ্নই নেই।' মন্তব্য করলেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়। তিনি বলেন, 'তৃণমূল দলটা উঠে গেলে ৮০ বিধায়কের কী হবে সেটা তাঁরাই বলতে পারবেন। সেটা নিয়ে তো আমরা মাথা ঘামাব না। তবে বেশিরভাগ বিধায়ক যদি সই করে তা স্পিকারকে জমা দিতে পারেন।'
তৃণমূলের সঙ্গে বিশ্বাঘাতকতা করা 'গদ্দার'-দের কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মমতা। তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতাদের উদ্দেশ্যে ক্ষোভপ্রকাশ করে মমতা বলেন, "যাদের জন্য সবকিছু করেছি তারা এখন গদ্দারের সঙ্গে লাইন করছে।"
ধর্মতলার সভা থেকে ৪ জুন রাজ্যজুড়ে মানবশৃঙ্খল কর্মসূচির ডাক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মনীষীদের মূর্তিতে মাল্যদান করে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের জড়ো হওয়ার আহ্বান জানালেন।
মমতার অভিযোগ, জ্যোতি বসু বা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যরা রাজ্যের ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর তাঁদের আক্রমণ করা হয়নি। কিন্তু তাঁকে কটূ কথা বলা হচ্ছে। তবে বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে তিনি সরিয়েই ছাড়বেন- এই দাবি করেন।
মঙ্গলবার ফের একবার বিরোধী মেজাজে দেখা গেল মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে। এদিন দুপুর ২টো নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে ওয়াই চ্যানেলে পৌঁছান মমতা। তারপরেই দেখা যায় ধর্নাস্থলের কাছে ব্য়াপক বিশৃঙ্খলা। নেত্রীর পাশে থাকতে দেখা গিয়েছে মদন মিত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, নয়না বন্দ্য়োপাধ্যায়, অশোক দেব, মালা রায়ের মতো নেতৃত্বকে। ধর্নাস্থল থেকে মমতা বলেন, "আমাকে মাইক পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এই অত্যাচার, এই অনাচার মানা যায় না। মঞ্চ তৈরি করতে দেওয়া হয়নি। TMC-কে রাজনৈতিক কার্যকলাপ করতে দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু আমরা দমে যাব না।" পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, "এই দুঃশাসন, এই নৃশংসতা, যেভাবে তারা ভোট লুট করেছে এবং এখন আমাদের বিধায়ক ও কাউন্সিলরদের পুলিশ দিয়ে হুমকি দিচ্ছে। ওরা এখন TMC ভাঙার চেষ্টা করছে।"