'একটা সময় যাদবপুরে সুনাম ছিল গোটা দেশে। জাতীয়তাবাদের ভিতে তৈরি হয়েছিল ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দেওয়ালে লেখা হচ্ছে দেশবিরোধী কথা। ছাত্ররা পড়াশুনো ছেড়ে রাস্তায় আন্দোলন করছে। আমরা অরাজকতা চাই না'। বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
রাজ্যে প্রথম দফার ভোট শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। এখন জোরকদমে চলছে দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচার। শহরে রয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর এই আবহেই তৃণমূলের তরফে বিজেপির মহিলা কর্মীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল। ঘটনাস্থল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের কালীঘাট। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী।
১৪২টি আসনে দ্বিতীয় পর্বের ভোটগ্রহণ ২৯ এপ্রিল। এই দফায় একদিকে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটিগুলি রয়েছে, তেমনই BJP-র জন্য রাজনৈতিক পরীক্ষার জায়গা। BJP এবং তৃণমূলের মধ্যে এটি মরণ-বাঁচন লড়াই। এই কেন্দ্রগুলিতে যে জিতবে, সে-ই কি বাংলা শাসন করবে?
প্রথম দফায় ভোটগ্রহণের পর সাংবাদিক সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে অমিত শাহ দাবি করেন, প্রথম দফার ভোট থেকেই প্রমাণিত নির্বাচন কমিশনের কারণে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি হয়েছে। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন।
শুক্রবার ফুরফুরে মেজাজে পাওয়া গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। দেখা গেল নৌকায় চেপে গঙ্গাবক্ষে বেড়ালেন তিনি। নিজে ক্যামেরা হাতে ছবি তুললেন হাওড়া ব্রিজ এবং বিদ্যাসাগর সেতুর। মর্নিং ওয়ার্কারদের সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করলেন। তাঁকে দেখতে জনতার ভিড় উপচে পড়েছে। নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন গঙ্গাবিহারের ভিডিও। সঙ্গে ক্যাপশনে নরেন্দ্র মোদী লিখেছেন, 'গঙ্গার সঙ্গে বাংলার নাড়ির টান, রয়েছে আত্মিক যোগ। এই সভ্যতার ইতিহাস বহন করছে গঙ্গানদী।' তাঁর নৌকাতেই গঙ্গাবক্ষে বেড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অথচ এখনও যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না মাঝি গৌরাঙ্গ বিশ্বাস। নৌকার মালিক মহম্মদ ইফতেকার আহমেদের বিস্ময়ও যেন কাটছেই না তাঁদের।
তাঁর নৌকাতেই গঙ্গাবক্ষে বেড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না মাঝি গৌরাঙ্গ বিশ্বাস। নৌকার মালিক মহম্মদ ইফতেকার আহমেদকেই বা কী বার্তা দিলেন মোদী? অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন তাঁরা।
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা বহুদিন ধরেই নানা নামে পরিচিত। কেউ একে ভালোবেসে বলেন ‘সিটি অফ জয়’, আবার ব্রিটিশ লেখক রুডইয়ার্ড কিপলিং একসময় একে বলেছিলেন ‘সিটি অফ ড্রেডফুল নাইট’। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কে শহরটি নতুন এক তকমা পেয়েছে, ‘বস্তির শহর’।
রাজ্যে প্রথম দফা ভোট সম্পন্ন। আত্মবিশ্বাসী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে অমিত শাহ। এই মুহূর্তে নরেন্দ্র মোদী রয়েছে কলকাতাতেই। আর শুক্রবার ভোরেই তিনি বেরিয়ে পড়লেন গঙ্গাবিহারে। নৌকায় চেপে ঘুরলেন হুগলি নদীতে। ক্যামেরা হাতে নিজেই ছবি তুললেন হাওড়া ব্রিজের।
পশ্চিমবঙ্গ এবার তৈরি হচ্ছে দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় রেকর্ড ৯০ শতাংশের বেশি ভোটদানের রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় দফার প্রচারকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে উঠেছে। শুক্রবার বাংলার হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক আঙিনায় একদিকে যেমন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একাধিক কর্মসূচি রয়েছে, তেমনই পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ময়দানে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভোটের উত্তাপে ফুটছে বাংলা। সঙ্গে দোসর হয়েছে তাপদাহ। গরমের চোটে একবারে হাঁসফাঁস অবস্থা দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। ইতিমধ্যেই তাপমাত্রা পেরিয়ে গিয়েছে ৪০ ডিগ্রির গণ্ডি। পাশাপাশি আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিও রয়েছে। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগার। যদিও এমন দাবদাহের মধ্যেও ভাল খবর দিয়েছে হাওয়া অফিস। তাদের পক্ষ থেকে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে কালবৈশাখী ঝড়ও হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এতকিছুর পরও গরমের অস্বস্তি বজায় থাকবে।
এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে ভোটের প্রচারে আসছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে ২ দিন প্রচার করবেন বাংলায়। আগেই জানিয়েছেন, 'দিদি সবচেয়ে কঠিন লড়াই লড়ছেন।'