লারা, অক্ষয় রবিবার রাত থেকে শোকে বিহ্বল সকলে। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু মেনে নিতে পারেনননি কেউই। শ্যুটিং চলাকালীন সেটে তারকাদের প্রায়শই কোনও না কোনও দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। তবে, বলিউড অভিনেত্রী লারা দত্ত একবার মৃত্যুর মুখ থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিলেন। লারা তাঁর অভিনয় জীবনে বহু গ্ল্যামারাস, হাস্যরসাত্মক এবং অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। কিন্তু তাঁর জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি কোনও ছবির চরিত্রের অংশ নয়, বরং বাস্তব জীবনেরই এক অভিজ্ঞতা। আর এই বিপদ থেকে তাঁকে যিনি উদ্ধার করেছিলেন, তিনি হলেন অক্ষয় কুমার।
সম্প্রতি লারা এমন এক ঘটনার কথা বর্ণনা করেছেন, যখন প্রবল ঢেউয়ে ভেসে গভীর সমুদ্রের দিকে চলে গিয়েছিলেন তিনি। আর ঠিক তখনই তাঁর সহ-অভিনেতা অক্ষয় তাঁকে উদ্ধার করেন। এই ঘটনাটি ঘটেছিল তাঁর ডেবিউ ছবি 'আন্দাজ'-র শ্যুটিং সেটে। 'এশিয়ান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক কানাডা'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লারা তাঁর অভিনয় জীবনের সেই সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করেন।
২০০০ সালে 'মিস ইউনিভার্স' খেতাব জয়ের পর ২০০৩ সালে 'আন্দাজ' ছবির মাধ্যমে লারা বলিউডে পা রাখেন। তিনি জানান যে, একটি নাচের দৃশ্যের শ্যুটিং চলাকালীন হঠাৎ করেই সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায়। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল যে, তিনি সাঁতার জানতেন না। অভিনেত্রী বলেন, "আমি জলের নিচে তলিয়ে যাচ্ছিলাম; আমার পরনে ছিল চামড়ার পোশাক, আমি সাঁতার জানতাম না—তাই পাথরের মতো সোজা নিচে ডুবে যাচ্ছিলাম।"
সেই মুহূর্তে অক্ষয় কুমার যদি সেখানে উপস্থিত না থাকতেন, তবে সেই দুর্ঘটনা আরও অনেক বেশি ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। অক্ষয় বিন্দুমাত্র বিলম্ব না করে লারাকে জাপটে ধরেন এবং টেনে সমুদ্রের পাড়ে নিয়ে আসেন। এরপর লারা 'হাইপোথার্মিক শক'-এ আক্রান্ত হন; ফলে শ্যুটিং বন্ধ করে তাঁকে অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
৩০ বছর বয়সে সাঁতার শেখা
এই ঘটনাটি লারার মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। পরবর্তীতে যখন অক্ষয় কুমার তাঁকে 'ব্লু' ছবিতে অভিনয়ের জন্য সুপারিশ করেন, যে ছবিটির শ্যুটিংয়ের জন্য জলের নিচে কাজ করা আবশ্যক ছিল—তখন লারা প্রথমে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি অক্ষয়কে ফোন করে জানান যে, তিনি ওই ছবিটি করতে পারবেন না। অক্ষয়ের সোজাসাপ্টা উত্তর ছিল, 'সাঁতার শেখো।' লারা হেসে বলেন, '৩০ বছর বয়সে তিনি আমাকে সাঁতার শিখতে বললেন! আমি তো ভেবেছিলাম, আমিই বোধ হয় পাগল।"
তবে শেষমেশ বলিউড ভভিনেত্রী নিজের ভয়কে জয় করেন। ৩০ বছর বয়সে সাঁতার শেখেন এবং 'ব্লু' ছবিতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। অ্যান্থনি ডি'সুজা পরিচালিত এই ছবিটি ২০০৯ সালে মুক্তি পায় এবং সেই সময়ে বলিউডের অন্যতম বৃহৎ জলের নিচে চিত্রায়িত ছবি হিসাবে বিবেচিত হতো। এই ছবিটির শ্যুটিং করা মোটেও সহজ কাজ ছিল না। ছবিটির বেশ কিছু দৃশ্য তো একেবারে সত্যিকারের হাঙরের উপস্থিতিতেই চিত্রায়িত হয়েছিল। এমনকী, একটি বড় দুর্ঘটনা থেকেও অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিলেন অক্ষয় কুমার। ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যের সময় একটি ডুবন্ত জাহাজের সঙ্গে তাঁর মাথার সজোরে ধাক্কা লাগে, আর প্রবল রক্তক্ষরণ সত্ত্বেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান।