এখনও নিখোঁজ পরিচালক উৎসবগত বৃহস্পতিবার থেকে নিখোঁজ পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়। এখনও পর্যন্ত কোনও খোঁজ মেলেনি তাঁর। স্ত্রী মৌপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। আনন্দপুর থানায় মিসিং ডায়েরি করেছেন পরিচালকের স্ত্রী। কতদূর এগোলো সেই তদন্ত? পুলিশ কি কোনও খোঁজ জানতে পারল নিখোঁজ পরিচালকের? bangla.aajtak.in-এর সঙ্গে কথা বলে সবটা পরিষ্কার করে জানালেন পরিচালকের স্ত্রী।
গত ৪ দিন ধরে বাড়ি ফেরেননি পরিচালক তথা চিত্রনাট্যকার উৎসব মুখোপাধ্যায়। নিমতার এক ব্যাঙ্কে যাচ্ছিলেন বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। দুপুর আড়াইটে নাগাদ স্ত্রীর সঙ্গে কথাও হয় তাঁর। আর তারপর থেকেই কর্পূরের মতো উবে গিয়েছেন তিনি। ফোনও সুইচ অফ। পুলিশ জানিয়েছে তাঁর শেষ লোকেশন ট্র্যাক করে বিধাননগর স্টেশন পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু এখনও পুলিশ খোঁজ দিতে পারেনি নিখোঁজ পরিচালকের। উৎসবের স্ত্রী মৌপিয়া বলেন, আমার কাছে কোনও আপডেট নেই। আমি এখনও বুঝতে পারছি না উৎসব কোথায় চলে গেল। আনন্দপুর থানার পুলিশ তদন্ত করছে।
মৌপিয়া আরও বলেন, পুলিশ শেষবার ট্যাক করে উৎসবের লোকেশন পেয়েছিল বিধাননগর স্টেশন। তারপর থেকে পুলিশও আর ট্র্যাক করতে পারছে না। তবে পুলিশ যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। আমি পুলিশি তদন্তে খুশি। স্বামীর চিন্তায় স্ত্রী মৌপিয়া অসুস্থও হয়ে পড়েছেন। তাঁর নিরাপত্তার খাতিরে পুলিশের পক্ষ থেকে একজন মহিলা অফিসার দেওয়া হয়েছে। স্বামীর নিরুদ্দেশ হওয়া নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন স্ত্রী মৌপিয়া। তারই মাঝে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুলভাল খবর ও তথ্য নিয়েও তিনি বেশ বিরক্ত। এইসব বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো নিয়েও তিনি লালবাজার যাবেন বলে জানিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় উৎসবের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি প্রথম জানিয়েছিলেন স্ত্রী মৌপিয়া। উৎসবের বন্ধু ও পরিচিতেরাও সেই পোস্টের মন্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। টলিপাড়ার অনেক তারকাই রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু শোকের মধ্যেও পরিচালক উৎসবের খোঁজ পাওয়া গেল কিনা, তা জানতে চেয়ে পোস্ট করেছেন। মৌপিয়া জানিয়েছেন যে তিনি ইতিমধ্যেই ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি এই বিষয়ে তাঁকে যথাযথ সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
বর্তমানে আনন্দপুরে থাকলেও, উত্তর ২৪ পরগনার নিমতায় একটি বাড়ি রয়েছে পরিচালকের। কিছুদিন আগেই তাঁর বাবা মারা গেছেন। নিমতা এলাকার ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার কথা জানিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন পরিচালক। সঙ্গে ছিল প্রয়াত বাবার ফোনটি। নিজের ফোনটি তিনি রেখে যান বাড়িতেই। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বাড়ি ফিরে না আসায় স্ত্রী মৌপিয়া রাতেই নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করেন আনন্দপুর থানায়। ইতিমধ্যেই পরিচালকের স্ত্রী সকলের কাছে অনুরোধ করেছেন যে যদি তাঁর কোনও বন্ধু জেনে থাকেন যে পরিচালক কোথায় রয়েছেন, যেন তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে তাঁর স্ত্রী চিন্তায় রয়েছেন।