Rahul Banerjee Death Production House Statement: 'প্রথমে চিকিৎসক পায়নি, পেলে হয়তো বেঁচে যেত...', রাহুল প্রয়াণের ৩দিন পর বিবৃতি প্রযোজনা সংস্থার

Rahul Arunoday Banerjee Death: রাহুলের দেহের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট সামনে আসে সোমবার দুপুরে। সেই অনুযায়ী, শরীরে অতিরিক্ত বালি ও নোনা জল ঢুকে যাওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার। এই ঘটনার তিন দিন পরে, আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করল 'ভোলে বাবা পার করে গা' ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থা। 

Advertisement
'প্রথমে চিকিৎসক পায়নি, পেলে হয়তো বেঁচে যেত...', রাহুল প্রয়াণের ৩দিন পর বিবৃতি প্রযোজনা সংস্থার  লীনা, শৈবাল, রাহুল (ছবি: ফেসবুক)

গত রবিবার রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ সকলে। শোকের ছায়া বাংলা বিনোদন জগতে। এই মৃত্যু ঘিরে রয়েছে নানা ধোঁয়াশা। উঠে আসছে নানা রকম তত্ত্ব। ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই তুলছেন নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করছেন অনেকেই। রাহুলের দেহের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট সামনে আসে সোমবার দুপুরে। সেই অনুযায়ী, শরীরে অতিরিক্ত বালি ও নোনা জল ঢুকে যাওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার। এই ঘটনার তিন দিন পরে, আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করল 'ভোলে বাবা পার করে গা' ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স। 

একটি দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে প্রযোজনা সংস্থার তরফে বলা হয়, "আমরা, ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স-র পক্ষ থেকে, আমাদের সহকর্মী রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। আমাদের টিমের সকল শিল্পী এবং সদস্য বর্তমানে গভীর শোকে বিহ্বল। ঘটনার সময় ঠিক কী ঘটেছিল, তা সঠিকভাবে বুঝতে আমরা আমাদের শিল্পী ও কলাকুশলীদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছি। তাঁদের অধিকাংশই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাঁদের বক্তব্য একটি নিরপেক্ষ ও সুসংগঠিত পদ্ধতিতে সংগ্রহ করার জন্য আমরা আরও কয়েকটা দিন সময় চেয়ে নিচ্ছি। আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে দেখতে চাই যে, তাঁদের বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্যে কোথায় মিল রয়েছে এবং কোথায় কোনও অসংগতি বা ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে—যাতে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে পারি। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, আমরা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার, তাঁর বন্ধু-বান্ধব অথবা 'আর্টিস্টস ফোরাম’-র পক্ষ থেকে মনোনীত একজন প্রতিনিধির উপস্থিতি ও অংশগ্রহণকে সাদরে স্বাগত জানাই। এই প্রতিনিধি আমাদের সমগ্র কার্যপ্রণালী পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন এবং আমাদের তথ্য সংগ্রহ ও ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ যেন সুষ্ঠু ও পক্ষপাতহীন থাকে, তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করতে পারবেন।" 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "ঘটনার পরই আমাদের সংস্থার পরিচালক ও প্রবর্তক শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় রাহুলের বাড়িতে গিয়েছিলেন, তখন তাঁর পরিবার এমন এক মানসিক অবস্থায় ছিলেন যে, তাঁদের পক্ষে কারও সঙ্গে কোনও কথা বলা বা যোগাযোগ করা সম্ভব ছিল না। এই বিবৃতির মাধ্যমে আমরা তাঁদের এ-ও জানাতে চাই যে- যদি তাঁদের মনে কোনও সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থেকে থাকে, তাহলে আমাদের সাধ্যমতো তার উত্তর দিতে আমরা প্রস্তুত। আমরা এই বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ যে, অবহেলার বিন্দুমাত্র কোনও সম্ভাবনাও যেন আমাদের অনুসন্ধানের বাইরে থেকে না যায়—তা আমরা নিশ্চিত করব। ফেডারেশন বা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পূর্ব-জানানো বা অনুমতির বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সংবাদমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নানাবিধ জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা জানাতে চাই যে—আমাদের যাবতীয় যোগাযোগ, প্রাপ্ত অনুমতিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট নথি সবই আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং মনোনীত প্রতিনিধির কাছে পেশ করব, যদি তাঁরা তা দেখতে ইচ্ছুক হন। তদন্তকাজে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি ও তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করার মাধ্যমে পূর্ণ সহযোগিতা করতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।" 

Advertisement

প্রযোজনা সংস্থার তরফে আরও জানানো হয়, "আরও একটি জল্পনা হল- জলে ডুবে থাকার সময়কাল। কিছু প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে যে, রাহুল ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত জলের নিচে ডুবে ছিলেন। আমাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে আমরা মনে করি যে, এই তথ্যটি সম্ভবত সঠিক নয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা আমাদের আরও জানিয়েছেন যে, রাহুলকে যখন জল থেকে উদ্ধার করা হয়, তখন তিনি জীবিত ছিলেন এবং কথা বলার চেষ্টা করছিলেন—যদিও সম্ভবত তিনি স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারছিলেন না। তাঁকে অবিলম্বে জল থেকে পাড়ে তুলে আনা হয় এবং তাঁর শরীর থেকে জল বের করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা চালানো হয়। এরপর তাঁকে নিকটস্থ একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। দুর্ভাগ্যবশত, সেই সময়ে ওই চিকিৎসাকেন্দ্রে কোনও চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। ফলে, তাঁকে পুনরায় সেখান থেকে দিঘা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে হয়; সেখানেই শেষমেশ তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। আমরা এই ভেবে গভীরভাবে মর্মাহত যে, প্রথম নার্সিংহোমটিতে যদি কোনও চিকিৎসক বা উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকত, তবে হয়তো তাঁর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকত।" 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "আমরা আরও একটি বিষয়ে আলোকপাত করতে চাই। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম এবং জনসমক্ষে ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স-কে প্রায়শই শুধুমাত্র ‘লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের কোম্পানি’ হিসাবে উল্লেখ করা হচ্ছে। আমরা বিষয়টি স্পষ্ট করে দিতে চাই যে, লীনা ২০১০ সাল থেকে এই কোম্পানির সঙ্গে একজন লেখক এবং 'ক্রিয়েটিভ হেড'(সৃজনশীল প্রধান) হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। তিনি ২০১১ সালে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেন। তবে, তিনি কোম্পানির কোনও 'প্রমোটার' বা পরিচালনা সংক্রান্ত নির্বাহী কর্মকর্তা নন। তাঁর ভূমিকা সব সময়ই শুধুমাত্র সৃজনশীল দায়িত্ব পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল—যা এই শিল্পের সকলের কাছেই সুপরিচিত। অতি সম্প্রতি আমাদের অনুষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে তাঁকে সব সময় শুধুমাত্র 'লেখক' হিসেবেই কৃতিত্ব দেওয়া হত। এরপর তাঁকে কোম্পানির অতি সামান্য পরিমাণ শেয়ার এবং 'সহ-প্রযোজক'-এর কৃতিত্ব প্রদান করা হয়। কোম্পানির সাংগঠনিক কাঠামো বা শেয়ার-বিন্যাস পর্যালোচনা করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমরা বুঝতে পারছি যে, পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন হিসাবে লীনার ভূমিকার কারণেই হয়তো এই ধরনের ধারণা বা অনুমান তৈরি হতে পারে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে, লীনা তাঁর চেয়ারপার্সন পদ থেকে সরে দাঁড়াতে ইচ্ছুক—যাতে রাহুলের মৃত্যুর তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনও প্রকার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ বা ধারণার প্রভাব না পড়ে এবং একই সঙ্গে এই সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর দায়িত্ব পালনেও যেন কোনও ব্যাঘাত না ঘটে।" 

বিবৃতিতে আরও রয়েছে, "আমরা গভীর সমবেদনার সঙ্গে স্বীকার করছি যে, সংশ্লিষ্ট পরিবারটি এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে—তারা হারিয়েছে একজন পুত্র, একজন স্বামী এবং একজন বাবাকে। যদিও তাঁদের এই শোক আমরা কখনও লাঘব করতে পারব না, তবুও আমরা এই বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ যে, তদন্ত প্রক্রিয়ায় যেন কোনও ত্রুটি বা ফাঁক না থাকে এবং কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করে যাবো। প্রয়োজনীয় অনুমতি সাপেক্ষে, আমরা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পরিবার এবং তাঁদের প্রতিনিধির কাছে শ্যুটিংয়ের ফুটেজ, পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের নথি এবং প্রাপ্ত সরকারি রসিদ বা স্বীকৃতিপত্রগুলো হস্তান্তর করতে চাই। রাহুল শুধুমাত্র আমাদের সহকর্মীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের একজন বন্ধুও। আমাদের টিমের প্রতিটি সদস্যই এই বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ যে, তাঁর অকাল প্রয়াণের তদন্ত প্রক্রিয়াটি যেন অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং ত্রুটিমুক্ত হয়। আমরা সংশ্লিষ্ট পরিবার এবং তাঁদের প্রতিনিধির কাছে এই বিষয়েও পরামর্শ বা নির্দেশনা কামনা করছি যে, কীভাবে আমরা আমাদের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের প্রক্রিয়াটিকে আরও শক্তিশালী ও নিখুঁত করে তুলতে পারি—যাতে তা যথাসম্ভব নির্ভরযোগ্য এবং অভ্রান্ত হয়ে ওঠে।" 

Advertisement

প্রসঙ্গত, টলিপাড়ার পরিচিত মুখ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দিঘার তালসারিতে 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের শ্যুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয় অভিনেতার। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মৃত্যু নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠে আসে। রবিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে রাহুলের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। ছোটপর্দা, বড়পর্দা, মঞ্চ থেকে ওটিটি, সব মাধ্যমেই নিজের অভিনয় দক্ষতায় সকলের মন বারবার জয় করেছেন। সম্প্রতি নিজের পডকাস্ট চ্যানেলের মাধ্যমের সকলের মনের আরও কাছে পৌঁছান অভিনেতা।  

তাম্রলিপ্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রয়াত অভিনেতার ময়নাতদন্ত হওয়ার পরই দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। রবিবার, রাহুলের স্ত্রী তথা অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার অভিনেতার বিজয়গড়ের বাড়িতে যান রাতেই। এই সময় তাঁকে ও রাহুল-পুত্র সহজকে এখন একা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন সকলকে।  সোমবার তাম্রলিপ্ত হাসপাতাল সূত্রের খবর, যে পরিমাণ বালি ফুসফুসে পাওয়া গিয়েছে তা অস্বাভাবিক। কম সময় জলে ডুবে থাকলে এত বালি পাওয়া যেত না। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, অন্তত এক ঘণ্টা জলের তলায় ডুবে ছিলেন রাহুল। জলের তলায় হয়তো সেই অবস্থাতেই পড়েছিলেন। সেই কারণে হয়তো তাঁর দেহ থেকে এতটা বালি ও নোনা জল মিলেছে। 
 

POST A COMMENT
Advertisement