লক-আপে অত্যাচারে বাবা-ছেলের মৃত্যু, ৯ পুলিশকর্মীকে ফাঁসির সাজা শোনাল আদালতLock Up Death Punishment To Cop: রক্ষকই যখন ভক্ষক হয়ে ওঠে, তখন তার সাজাও হওয়া উচিত দৃষ্টান্তমূলক। ২০২০ সালে তামিলনাড়ুর সাতানকুলাম থানা এলাকায় পুলিশি হেফাজতে ব্যবসায়ী পি জয়রাজ এবং তাঁর ছেলে জে বেনিকসের মৃত্যুতে দেশজুড়ে তোলপাড় হয়েছিল। সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের চার বছর পর সোমবার ঐতিহাসিক রায় দিল মাদুরাইয়ের বিশেষ আদালত। ধৃত ৯ পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধেই খুনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। এই ঘটনাকে ‘বিরলতম অপরাধ’ (Rarest of Rare) বলে উল্লেখ করেছে আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত ২০ জুন, ২০২০। লকডাউনের বিধিনিষেধ অমান্য করে দোকান খোলা রাখার ‘অপরাধে’ বাবা ও ছেলেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। অভিযোগ, থানার লক-আপে সারারাত ধরে তাঁদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে ক্রমাগত আঘাত এবং অকথ্য মারধরে রক্তাক্ত হয়ে পড়েন দু’জনেই। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও গুরুতর চোট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। প্রথমে ছেলে বেনিকস এবং কয়েক ঘণ্টা পরেই বাবা জয়রাজ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
সিবিআই তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। চার্জশিটে জানানো হয়, পুলিশকর্মীরা ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে এই অত্যাচার চালিয়েছিলেন। এদিন প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক জি মুথুকুমারন অভিযুক্ত ইনস্পেক্টর এস শ্রীধর, সাব-ইনস্পেক্টর রঘু গণেশ ও বালকৃষ্ণণ সহ ৯ জনকেই দোষী সাব্যস্ত করেন। মামলার দশম অভিযুক্ত জনৈক স্পেশাল সাব-ইনস্পেক্টর বিচার চলাকালীন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। দীর্ঘ ৬ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর এই রায়ে অন্তত বিচার পেল নিহত পরিবারটি, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।