
ভারতে মোট ১৫,১০৬.৭ কিলোমিটার সীমান্ত। এত বড় সীমান্তকে পাহারা দেওয়া একা বিএসএফ (BSF)বা সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর পক্ষে সহজ নয়। তাই দেশে সেনা ছাড়াও কিছু আধাসেনা বাহিনী রয়েছে, তারাও সীমান্তের সুরক্ষা দেখভাল করে। ভারতের সঙ্গে ইতিমধ্যেই পাকিস্তান ও চিনের যুদ্ধ হয়েছে। পাকিস্তান বা চিনের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত অনেকটাই, কিন্তু জানলে হয়তো আশ্চর্য হবেন, ভারতের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সীমান্ত এলাকা বাংলাদেশের। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তই সবচেয়ে বড়।

১৯৬২ সালে যুদ্ধের পরে ইউনিফায়েড সেন্ট্রাল আর্মড ফোর্স তৈরির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। যাতে ৩ হাজার ৩২৩ কিমি বিস্তৃত পাকিস্তান সীমান্তে নজরদারি চালানো যায়। ২৫ ব্যাটেলিয়ন দিয়ে শুরু হয় যাত্রা। আজ ১৯২ ব্যাটেলিয়নের বিশাল বাহিনী। বিএসএফ-কে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান সীমান্তে মোতায়েন করা হয়। ১৯৭১ সালে যুদ্ধের পরে তৈরি হওয়া নতুন দেশ বাংলাদেশ সীমান্ত পাহারার দায়িত্বও নেয় এই বাহিনী। (ছবি-- AFP)

আজ বিএসএফ-এ প্রায় ১ লক্ষ ৭২ হাজার জওয়ান রয়েছেন। তাঁরা দেশের ৬ হাজার ৩৮৬ কিমি সীমান্ত রক্ষা করেন। এছাড়াও মাওবাদী সন্ত্রাস, জঙ্গি কার্যকলাপ রুখতে জম্মু-কাশ্মীর, পঞ্জাব সহ দেশের অন্যান্য জায়গাতেও মোতায়েন রয়েছে বিএসএফ। (ছবি-- Getty)

১৯৬২ সালের ২৪ অক্টোবর ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশ তৈরি করা হয়। ভারত ও তিব্বত সীমান্ত পাহারা দেওয়ার জন্য। মাত্র ৪টি ব্যাটেলিয়ন দিয়ে শুরু যাত্রা। CRPF আইনের আওতায় তৈরি করা হয়। পরে ১৯৯২ সালে ITBP আইন চালু হয়। ৩৪৮৮ কিমি চিন সীমান্ত পাহারা দেয় ITBP। সিকিম ও অরুণাচলপ্রদেশে চিন সীমান্ত পাহারা অসম রাইফেলস-এর হাত থেকে দায়িত্ব চলে যায় ITBP-র হাতে ২০০৪ সালে। (ছবি: PTI)

ITBP সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি জঙ্গিদমন, অবৈধ অনুপ্রবেশও রুখে দেয়। ৫৬টি সার্ভিস ব্যাটেলিয়ন, ৪ স্পেশালিস্ট ব্যাটেলিয়ন, ১৭টি ট্রেনিং ব্যাটেলিয়ন ও ৭টি লজিস্টিক এস্টাব্লিশমেন্ট রয়েছে। প্রায় ৯০ হাজার জওয়ান রয়েছে এই ফোর্সে। ১৭৩টি বর্ডার আউট পোস্ট ITBP-র নিয়ন্ত্রণে।

১৯৬২ সালে চিনের হামলার পরে ১৯৬৩ সালের মে মাসে স্পেশাল সার্ভিস ব্যুরো হিসেবে সশস্ত্র সীমা বল তৈরি করা হয়। ২০০১ সালের জুনে ভারত-নেপাল সিমান্তের জন্য লিড ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি তৈরি করা হয়। পরে ১৭৫১ কিমি বিস্তৃত নেপাল সীমান্তে নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয় এসএসবি-কে। (ছবি-- PTI)

২০০৪ সালের মার্চে SSB-কে ৬৯৯ কিমি ভারত-ভুটান সীমান্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই বাহিনী RAW, আইবি-র ইন্টেলিজেন্স ডিভিশনকেও সাহায্য করে। নেপাল-ভুটান সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে এই বাহিনীর ঘাঁটি রয়েছে, যেমন, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম ও অরুণাচলপ্রদেশ। (ছবি: PTI)

অসম রাইফেলস হল ভারতের সবচেয়ে পুরনো আধাসামরিক বাহিনী। এই বাহিনী কাউন্টার ইনসারজেন্সি এক্সপার্ট। উত্তর-পূর্ব ভারতে যেকোনও প্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখে দেয় এই বাহিনী। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে এই বাহিনী একাধিক যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি সার্ভিস দিয়েছে বর্মাতে (বর্তমানে মায়ানমার)। চিন যখনই তিব্বতের একটি অংশ দখল করল, তখনই তিব্বত সীমান্তে অসম রাইফেলস-কে মোতায়েন করা হয়। ২০০২ সালে এই বাহিনীকে ১৬৪৩কিমি বিস্তৃত ভারত-মায়ানমার সীমান্ত নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়। (ছবি-- PTI)

অসম রাইফেলস ভারতীয় সেনারই একটি অংশ। এই বাহিনী ভারত-চিন ও ভারত-মায়ানমার সীমান্ত সুরক্ষায় মোতায়েন রয়েছে। অসম রাইফেলস একমাত্র সীমান্তরক্ষী বাহিনী, যারা কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর আওতায় নেই, রয়েছে সেনার আধাসামরিক বাহিনীর আওতায়।