
দেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশে সবসময় যে কালো পোশাক পরা, অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত কমান্ডোদের দেখা যায়, তাদের নিয়েই মানুষের কৌতূহলের অন্ত নেই।

এই কমান্ডোরা আসলে স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা SPG-র সদস্য। তাঁরাই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকেন।

SPG কী? SPG বা স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ গঠিত হয় ১৯৮৫ সালে। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা দেওয়া হল এই বাহিনীর মূল কাজ।

কঠোর প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা এবং সর্বাধুনিক নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য এই বাহিনী বিশ্বের অন্যতম সেরা বাহিনী।

তবে SPG-তে সরাসরি নিয়োগ হয় না। অর্থাৎ আর পাঁচটা চাকরিতে প্রবেশ করার জন্য যেমন পরীক্ষা হয়, এখানে সেসব নেই। এই বাহিনীতে যোগ দিতে হলে আগে থেকেই দেশের অন্যান্য এলিট নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য হতে হয়।

সেই বাহিনীগুলোর মধ্যে আছে সিআরপিএফ (CRPF), বিএসএফ (BSF), সিআইএসএফ (CISF), আইটিবিপি (ITBP) অথবা আইপিএস (IPS)।

এই বাহিনী থেকে অভিজ্ঞ এবং দক্ষ জওয়ানদের বেছে নেওয়া হয় এসপিজি-র জন্য। বিশেষ দল এই জওয়ানদের বেছে নেয়। সেজন্য অনেক আগে থেকেই জওয়ানদের নজরে রাখা হয়।

নির্বাচনের পর শুরু হয় অত্যন্ত কঠিন ট্রেনিং। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকে দীর্ঘ দূরত্ব দৌড়, সাঁতার, মার্শাল আর্ট, আধুনিক অস্ত্র চালানো, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার কৌশল, অন্ধকারে যুদ্ধের কৌশল ও মানসিক দৃঢ়তা। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই তৈরি করা হয় বিশ্বমানের কমান্ডো।

তবে SPG কমান্ডোরা সাধারণত দীর্ঘদিন একই পদে থাকেন না। নির্দিষ্ট সময় দায়িত্ব পালনের পর তাঁদের আবার নিজ নিজ বাহিনীতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর নতুন করে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এসপিজি কমান্ডোদের বেতন তাঁদের পদ ও অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে মাসিক বেতন প্রায় ৮৪,০০০ টাকা থেকে ২.৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

এই বেতনের পাশাপাশি তাঁরা পান বিশেষ ভাতা, ইউনিফর্ম ভাতা এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা।

তবে প্রধানমন্ত্রীর দেহরক্ষী হওয়া সহজ নয়। কঠোর শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা, এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এই এলিট বাহিনীতে সুযোগ পাওয়া যায়। কারণ এসপিজি কমান্ডো হওয়া মানেই দেশের সবচেয়ে দক্ষ ও বিশ্বস্ত নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যে জায়গা করে নেওয়া।