Middle East War: যুদ্ধের ধাক্কায় জ্বালানি ফুরোচ্ছে, ঠেকায় পড়ে ভারতের স্মরণাপন্ন বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা-মলদ্বীপ

ঠেকায় পড়ে এখন ভারতের কাছে সাহায্য চাইতে আসতে হচ্ছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মলদ্বীপকে। জ্বালানি চেয়ে ভারতের স্মরণাপন্ন হতে হচ্ছে এই প্রতিবেশী দেশগুলিকে।

Advertisement
যুদ্ধের ধাক্কায় জ্বালানি ফুরোচ্ছে, ঠেকায় পড়ে ভারতের স্মরণাপন্ন বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা-মলদ্বীপভারতের স্মরণাপন্ন বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মলদ্বীপ
হাইলাইটস
  • ভারতের স্মরণাপন্ন বাংলাদেশ
  • সাহায্য চাইছে শ্রীলঙ্কা, মলদ্বীপও
  • ঠেকায় পড়ে 'পায়ে ধরছে' প্রতিবেশী দেশগুলি

কয়েকমাস আগেই ভারতের চারপাশের পরিবেশ ছিল অনেকটাই প্রতিকূল। কিছু দেশ 'India Out' আন্দোলনও জোরদার করে তুলেছিল। কিন্তু ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এক নীরব পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ, মলদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা এখন জরুরি জ্বালানি সহায়তার জন্য ভারতের দিকে ঝুঁকছে। ভারতও অতীতের তিক্ততা ভুলে 'Neighbourhood First' নীতিকে সামনে রেখে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। 

হরমুজ প্রণালী দিয়ে যে অপরিশোধিত তেল যায়, তার প্রায় ৯০%ই এশিয়ার জন্য নির্ধারিত। ফলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো জ্বালানি আমদানি নির্ভর দেশগুলির দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে ইরান 'বন্ধু' ভারতকে তেল ও LPG ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে দিয়েছে। যা বড় স্বস্তি এনেছে। সঙ্কটের মধ্যেও ভারত ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পাঠিয়েছে এবং মলদ্বীপের অনুরোধ বিবেচনা করছে। পাশাপাশি ভূটান ও নেপালে সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। 

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, প্রতিটি অনুরোধের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমানে ভারতের কাছে প্রায় ২ মাসের জ্বালানি মজুত রয়েছে। তাই আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তায় ভারত এখনও অপরিহার্য। 

ভারতের দিকে ঝুঁকে বাংলাদেশ
ইরান যুদ্ধের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে, যেখানে ৯৫% তেল এবং ৩০% গ্যাস আমদানি করা হয়। গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। অর্থনীতির মূল ভিত্তি পোশাক শিল্পও ডিজেলের অভাবে সঙ্কটে পড়েছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে। ৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার মধ্যে ৪টির কাজও বন্ধ। এই পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ভারতের কাছে সাহায্য চেয়েছে। 

ভারত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ বাড়িয়েছে। অসমের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে এই জ্বালানি পাঠানো হচ্ছে। ১০ মার্চ ৫,০০০ টন ডিজেল পাঠানো হয়েছে এবং আরও ১০,০০০ টন ও ৭,০০০ টনের চালান পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মুহাম্মদ ইউনূসের সময়ে অবস্থার অবনতি তারেকের আসায় কিছু উন্নতি হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। 

Advertisement

শ্রীলঙ্কা ও মলদ্বীপ
মলদ্বীপ মহাম্মদ মুইজ্জুর সময়ে 'India Out' ক্যাম্পেন চালেছিল। এখন জ্বালানি সঙ্কট ও পর্যটন খাতে ধাক্কার কারণে দেশটি ভারতের কাছে সাহায্য চাইতে বাধ্য হচ্ছে। 

শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে এই সঙ্কট ২০২২ সালের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। দেশটি তার ৬০% জ্বালানি আমদানি করে এবং এক মাসের বেশি মজুত নেই। ফলে জ্বালানির দাম ৩৩% বাড়াতে হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মার্চের মাঝামাঝি মোদীকে ফোন করে দ্রুত ২০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ও ১৮ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল চেয়ে পাঠায়। 


 

POST A COMMENT
Advertisement