Bangladeshi Family Arrested: দশ বছর ভারতে গা-ঢাকা দিয়ে থেকে দেশে পালানোর পথে শিলিগুড়িতে ধৃত বাংলাদেশি দম্পতিBangladeshi Family Arrested: চিকিৎসার নাম করে এপারে এসে পাক্কা দশ বছর কাটিয়ে দেওয়া। শুধু কাটিয়ে দেওয়াই নয়, জালয়াতির আশ্রয় নিয়ে আধার, ভোটার কার্ড এমনকি ভারতীয় পাসপোর্টও বাগিয়ে ফেলেছিলেন দম্পতি। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। শনিবার ফুলবাড়ি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে ফেরার পথে বিএসএফের খাঁচায় ধরা পড়ল ওই বাংলাদেশি পরিবার। ধৃতদের নাম আজম আলি ও রিমা আক্তার। সঙ্গে ছিল তাঁদের নাবালিকা কন্যাও।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশের মঠেরগঞ্জ এলাকা থেকে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়েই ভারতে ঢুকেছিলেন আজম ও রিমা। কিন্তু ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও আর ওপারে যাওয়ার নাম করেননি তাঁরা। উল্টে ভারতের নাগরিক সেজে বেঙ্গালুরুতে আস্তানা গাড়েন। সেখানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাজও জুটিয়ে ফেলেছিলেন তাঁরা। দীর্ঘ এক দশকে পরিচয় ভাঁড়িয়ে নিশ্চিন্তে থাকার পর সম্প্রতি জন্মভিটেয় পরিজনদের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা করেন ওই দম্পতি। সেই মতোই এদিন ফুলবাড়ি সীমান্ত দিয়ে পার হওয়ার সময় নথিপত্রে অসঙ্গতি মেলায় সন্দেহ হয় বিএসএফ জওয়ানদের। শুরু হয় ম্যারাথন জেরা, আর তাতেই থলি থেকে বেরিয়ে পড়ে বিড়াল।
জেরার মুখে ধৃতরা স্বীকার করেছেন, তাঁরা আসলে ওপার বাংলারই বাসিন্দা। দশ বছর ধরে এদেশের জাল পরিচয়পত্র সম্বল করেই বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। বিএসএফের তরফে তাঁদের নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। রবিবার ধৃতদের জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করা হবে। প্রশ্ন উঠছে, কড়া নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে এই দম্পতি ভারতীয় পাসপোর্ট ও আধার কার্ড তৈরি করে ফেললেন? এর নেপথ্যে কোনও বড়সড় চক্র সক্রিয় কি না, তা জানতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
সম্প্রতি ভুয়ো ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে তিনি বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেই জন্য গত শনিবার বিকেলে শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফুলবাড়ির বাংলাবান্ধা সীমান্তে এসে পৌঁছয় ওই পরিবার। সীমান্তে অভিবাসন দপ্তরে নথি জমা দিতেই সন্দেহ হয় সেখানকার আধিকারিকদের। এরপর অভিবাসন দফতরের আধিকারিকরা ওই পরিবারটিকে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করেন, এবং পুরনো নথি ও তথ্য বের করা হতে থাকে।
সন্ধ্যায় অভিবাসন দপ্তর নিশ্চিত হয় যে ওই পরিবারটি আদতে বাংলাদেশি। এরপর অভিবাসন দপ্তরের তরফে ওই পরিবারটিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দম্পতির কন্যাকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সেই রাতেই ধৃতদের এনজেপি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয় অভিবাসন দপ্তর। রবিবার ধৃতদের জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে পাঠায় পুলিশ। এনজেপি থানার পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে ধৃতদের রিমান্ডে নেওয়া হবে।