প্রায় ৮৪ হাজার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিল কেন্দ্র, তালিকায় মোবাইল নম্বরও

দেশজুড়ে ডিজিটাল অ্যারেস্টের রমরমা। অনেকে টাকা খুইয়ে সর্বশান্ত হয়েছেন। ডিজিটাল লেনদেনকে হাতিয়ার করে ব্যক্তিগত তথ্যও হাতিয়ে নিচ্ছে দুষ্কৃতীরা। এই অবস্থায় বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

Advertisement
প্রায় ৮৪ হাজার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিল কেন্দ্র, তালিকায় মোবাইল নম্বরও কেন্দ্রের বড় পদক্ষেপ
হাইলাইটস
  • দেশজুড়ে ডিজিটাল অ্যারেস্টের রমরমা
  • অনেকে টাকা খুইয়ে সর্বশান্ত হয়েছেন
  • বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার

দেশজুড়ে ডিজিটাল অ্যারেস্টের চক্র। অনেকে টাকা খুইয়ে সর্বশান্ত হয়েছেন। ডিজিটাল লেনদেনকে হাতিয়ার করে ব্যক্তিগত তথ্যও হাতিয়ে নিচ্ছে দুষ্কৃতীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। প্রায় ৮৪ হাজার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে মন্ত্রকের তরফে। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাইবার শাখা ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার ডিজিটাল স্ট্রাইক অভিযান শুরু করেছে দেশজুড়ে। যার লক্ষ্য সাইবার অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা।

সূত্রের খবর, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত এই অভিযানে ৩,৯৬২টি স্কাইপ আইডি এবং ৮৩,৮৬৭টি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে। এই সব অ্য়াকাউন্টগুলো থেকে বিভিন্ন প্রতারণামূলক কার্যকলাপ চালানো হচ্ছিল। ওই সমস্ত অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে জালিয়াতির ফাঁদ পাতা হত। বিশেষ করে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা এবং ভুয়ো ডিজিটাল গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের মতো ঘটনা। 

এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে টেলিকম দফতর (DoT), বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ এবং টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির সমন্বয়ে। ফলে সাইবার অপরাধীদের ব্যবহৃত ডিজিটাল অবকাঠামোকে বড় আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন।

শুধু অনলাইন অ্যাকাউন্টই নয়, মোবাইল ও নেটওয়ার্ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল সাইবারক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল (NCRP)-এর মাধ্যমে চিহ্নিত ৮.৪৫ লক্ষ সিম কার্ড এবং ২.৩৯ লক্ষ মোবাইল IMEI নম্বর ব্লক করা হয়েছে। এর ফলে প্রতারকদের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যমগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

এছাড়াও, অনলাইন প্রতারণার গোটা ইকোসিস্টেম ধ্বংস করতে ৮২৭টি ক্ষতিকারক মোবাইল অ্যাপ বন্ধ করা হয়েছে। সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে ১.১১ লক্ষেরও বেশি সন্দেহজনক অনলাইন কনটেন্ট সরিয়ে ফেলা বা ব্লক করা হয়েছে, যা মানুষকে বিভ্রান্ত বা প্রতারিত করতে ব্যবহৃত হত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার প্রতারণার ধরন আরও জটিল ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। তাই এই ধরনের সমন্বিত ও দ্রুত পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ছিল। কেন্দ্রের এই ডিজিটাল স্ট্রাইক সাধারণ মানুষের আর্থিক ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা নেবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

Advertisement

POST A COMMENT
Advertisement