এলাহাবাদ হাইকোর্ট পুত্রবধূ তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ির ভরণপোষণের দায় নিতে বাধ্য নন। নির্দেশ দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১২৫ (বর্তমানে BNSS-এর ধারা ১৪৪) অনুযায়ী যে ব্যক্তিরা ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন, তাঁদের মধ্যে শ্বশুর-শাশুড়িকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এই মামলায় বিচারপতি মদন পাল সিংহের পর্যবেক্ষণ, ভরণপোষণের অধিকার একটি সম্পূর্ণ আইনি বা স্ট্যাটিউটরি অধিকার এবং তা শুধুমাত্র সেই সব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যাদের নাম সংশ্লিষ্ট আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। তিনি বলেন, 'শ্বশুর-শাশুড়ি এই ধারার আওতায় পড়েন না। ফলে তাঁদের জন্য পুত্রবধূর উপর আইনি দায় আরোপ করার কোনও সুযোগ নেই।'
আদালত আরও স্পষ্ট করে জানায়, নৈতিক দায়বদ্ধতা যতই শক্তিশালী বা যুক্তিসঙ্গত মনে হোক না কেন, তা আইনি বাধ্যবাধকতায় রূপান্তরিত করা যায় না। যদি না আইন তা অনুমোদন করে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র নৈতিকতার ভিত্তিতে কাউকে ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে বাধ্য করা সম্ভব নয়।
ঘটনাটি আগ্রার। সেখানকার একটি পরিবার আদালতের ২০২৫ সালের অগাস্ট মাসের এক সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে রিভিশন পিটিশন দায়ের করেছিল। সেখানে পুত্রবধূকে তাঁদের ভরণপোষণ করার দাবি জানিয়েছিলেন এক প্রবীণ দম্পতি। আবেদনে জানিয়েছিলেন, তাঁরা বৃদ্ধ, নিরক্ষর ও আর্থিকভাবে অসহায়। তাই তাঁদের ভরণপোষণের দায় বউমাকে নিতে হবে।
আবেদনকারীরা আরও দাবি করেন, তাঁদের পুত্রবধূ উত্তরপ্রদেশ পুলিশের একজন কনস্টেবল। সে আর্থিকভাবে স্বচ্ছ্বল। ছেলে মারা যাওয়ায় চাকরি সংক্রান্ত সমস্ত সুবিধাও পেয়েছে। তাই তাঁদের ভরণপোষণের দায়িত্ব বউমার উপর বর্তায়। তাঁরা এটাও বলেন, পুত্রবধূর নৈতিক দায়বদ্ধতাকে আইনি দায় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
তবে আদালত এই যুক্তি খারিজ করে দেয়। বিচারপতি জানান, নথিপত্রে এমন কোনও প্রমাণ নেই যে পুত্রবধূর চাকরি সহানুভূতিশীল ভিত্তিতে পাওয়া। ফলে এই যুক্তিও টেকসই নয়।
এছাড়াও আদালত জানায়, মৃত পুত্রের সম্পত্তির উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয় এই ধরনের সংক্ষিপ্ত ভরণপোষণ মামলার আওতায় পড়ে না। সেই বিষয় আলাদা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার্য।
সব মিলিয়ে, আদালতের এই রায় থেকে পরিষ্কার আইন যেখানে নির্দিষ্টভাবে কোনও দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করেনি, সেখানে আদালত শুধুমাত্র নৈতিকতার ভিত্তিতে নতুন আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে পারে না।