তিরুপতি মন্দিরের মাথায় 'মাতাল'মত্ত অবস্থায় এক ব্যক্তি চড়ে বসলেন তিরুপতির শ্রী গোবিন্দরাজস্বামী মন্দিরের চূড়ায়। নিরাপত্তারক্ষীদের নজর এড়িয়ে শুক্রবার রাতে কুট্টাডি তিরুপতি নামে ওই ব্যক্তি উঠে পড়েন মন্দিরের মাথায়। বিষয়টি নজরে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়। কিন্তু ওই মাতাল কিছুতেই নামতে নারাজ।
কেবল মন্দিরের চূড়ায় চড়ে বসাই নয়, পাঁচিল টপকে ভিতরেও ঢোকার চেষ্টা করছিলেন মদের নেশায় চূড় হয়ে থাকা ওই ব্যক্তি। তবে ঠিক সময়ে বিষয়টি নজরে আসে নিরাপত্তা কর্মীদের। সে সময়ে উপস্থিত ভক্তরাও কেউ কেউ তাঁকে মন্দিরের মাথায় দেখতে পান। তারপরই চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং দমকলও। কিন্তু তুট্টাডি তিরুপতি কিছুতেই মন্দিরের মাথা থেকে নামতে রাজি হচ্ছিলেন না।
জানা যায়, ৪৫ বছরের ওই মাতাল ব্যক্তি তেলঙ্গানার নিজামাবাদ জেলার কুর্মাওয়াড়ার পেড্ডামাল্লা রেড্ডি কলোনির বাসিন্দা। তিনি শুক্রবার অন্য ভক্তদের মতোই মন্দিরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে রাখা টেন্টের খুঁটি ব্যবহার করে নাদিমি গোপুরামে ওঠেন। ঘটনার সময়ে তিনি মত্ত অবস্থায় ছিলেন। তাঁকে নীচে নামার শত অনুরোধ সত্ত্বেও কুট্টাডি নামতে রাজি হননি। তাঁর দাবি ছিল, আরও মদ এনে দিতে হবে তাঁকে। তবেই নিরাপত্তা কর্মী ও পুলিশের কথা শুনে নেমে আসবেন। অন্তত একটি মদের বোতল না দিলে তিনি কারও কথাই শুনবেন না বলে নাছোরবান্দা করতে থাকেন।
মাতালের কাণ্ডকারখানা দেখতে ভিড় বাড়তে শুরু করে মন্দির চত্বরে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সমস্যাজনক হতে পারে বুঝে শেষ পর্যন্ত একটি মদের বোতল আনা হয় ওই ব্যক্তির জন্য। সেটি দেখে তবেই কুট্টাডি নীচে নেমে আসেন। তাঁকে নিরাপদে নীচে নামিয়ে আনেন নিরাপত্তা কর্মীরা। তাঁর কোনও চোট-আঘাত লাগেনি বলেই খবর।
এরপর পুলিশ ওই ব্যক্তিকে তিরুপতি ইস্ট থানায় নিয়ে যায়। যেখানে মত্ত অবস্থায় থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। মামলা রুজু করে পুলিশ। তিরুপতি ইস্টের DSP এম ভক্তবৎসলম মাইড়ু জানিয়েছেন, কীভাবে ওই ব্যক্তি উপরে উঠলেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছেন। তাঁর মানসিক সমস্যা রয়েছে বলেও অনুমান করা হচ্ছে।