ইরান যুদ্ধের মধ্যে কৃষকদের জন্য স্বস্তির বার্তা কেন্দ্রেরইরান যুদ্ধের মধ্যে প্রবল আশঙ্কার মধ্যে পড়েছিলেন ভারতীয় কৃষকেরা। কারণ, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই পশ্চিম এশিয়া থেকে সার সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে চড়চড় করে ভারতে বেড়েছে সারের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা। বিশেষত, নাইট্রোজেন সার নিয়ে শঙ্কা ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে এবার কৃষকরা স্বস্তি পেতে পারেন। কারণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের উপর শুল্ক ছাড় দেওয়ার ঘোষণা করল কেন্দ্র। এরফলে পেট্রোকেমিক্যালও শুল্কমুক্ত হবে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই করছাড় ২ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
শুল্ক কত করা হল?
কেন্দ্র সরকারের তরফে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের উপর শুল্ক কমিয়ে ০ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ ওই পণ্যগুলি আমদানি করতে সরকার আপাতত কোনও ট্যাক্স বাবদ অর্থ নেবে না। এরফলে সার ও রাসায়নিক শিল্পগুলি চাঙ্গা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এমন একটি সময়ে কেন্দ্রের তরফে এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হল, যখন সারের দাম বৃদ্ধির জোরাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে কৃষকদের জন্য এটি বড় স্বস্তি।
কোন কোন পণ্যে শুল্ক মুকুব করা হল?
অর্থ মন্ত্রকের তরফে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, মিথানল, ফেনল, পিভিসি এবং পলিপ্রোপিলিনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক পদার্থসহ প্রায় ৪০টি পেট্রোকেমিক্যাল কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানির উপর শুল্ক মকুব করা হয়েছে। এরফলে বৈশ্বিক সঙ্কটের মধ্যে একাধিক শিল্প স্বস্তি পেতে পারে।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত সার কোম্পানিগুলোকে উল্লেখযোগ্যভাবে স্বস্তি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মতো রাসায়নিক পদার্থ সার উৎপাদনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর ফলে উৎপাদন খরচ কমবে এবং সরবরাহ উপরও চাপ কমে যাবে। এছাড়াও, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের উপর কৃষি পরিকাঠামো করও তুলে নেওয়া হয়েছে। এটি সার খাতকে অতিরিক্ত সুবিধা দেবে।
সার ছাড়াও, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের আওতায় এমন কয়েকটি রাসায়নিক পণ্যের উপর থেকে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে, যা মোটরগাড়ি শিল্পের জন্য প্লাস্টিকের যন্ত্রাংশ এবং সিট ফোম তৈরি করতেও ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও, যে পণ্যের উপর থেকে শুল্ক তুলে নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে এই রাসায়নিক পদার্থগুলো মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও, এই শুল্ক ছাড়ের ফলে পাইপ, রঙ-এর মতো ইন্ডাস্ট্রিগুলিও লাভবান হবে।