মণিপুরে আবার ইন্টারনেট বন্ধনতুন করে হিংসা ছড়াল মণিপুরে। এদিন ভোরে বিষ্ণুপুর জেলার একটি বাড়িতে রকেট বা মর্টার হামলা হয়। এই বিস্ফোরণ দু’টি শিশু মারা গিয়েছে। পাশাপাশি গুরুতর জখম অবস্থায় রয়েছেন তাদের মা বলে খবর।
৭ এপ্রিল ভোরে মোইরাংয়ের ট্রোংলাওবি আওয়াং লেইকাই এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। এটি পাহাড় এবং উপত্যকার সংযোগস্থলের অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চলে অবস্থিত। আর এই ঘটনা সামনে আসার পরই ইম্ফল সহ ৪ জেলায় বন্ধ করা হয়েছে ইন্টারনেট।
কীভাবে ঘটল বিস্ফোরণ?
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিকটবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল থেকে ছোড়া একটি গোলা বিএসএফ কর্মী ওইনাম মালেমনগনবারের বাড়িতে গিয়ে আঘাত করে। বিস্ফোরণের সময় তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান বাড়িতে ছিল। এই ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়। পাশাপাশি গোলার আঘাতে বাড়ির বড় ক্ষতি হয়।
শিশুদের মৃত্যু, মা গুরুতর
আহত অবস্থায় ইম্ফলের হাসপাতালে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসার সময়ই দুই শিশু মারা যায়। মা বিনীতা বর্তমানে শেল স্প্লিন্টার লাগা অবস্থায় গুরুতর জখম হয়ে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণের পরই গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এখনও ঘটনার রেশ রয়েছে এলাকায়।
সংবেদনশলী এলাকা
ট্রোংলাওবি চুরাচাঁদপুর জেলার পাহাড়ি এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। গ্রামবাসীদের দাবি, আগেও পাহাড়ের উঁচু জায়গা থেকে এই ধরনের দূরপাল্লার বিস্ফোরক এখানে এসে পড়েছে।
প্রতিবাদ ও হিংসা
এই হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা দু'টি তেলের ট্যাঙ্কার ও একটি ট্রাক আগুন ধরিয়ে দেয়। এই সব গাড়িগুলি চুরাচাঁদপুরের দিকে যাচ্ছিল।
এছাড়া মোইরাং থানার সামনে বিক্ষোভকারীদের ভিড় জমে। সেখানেও জড় হয়ে যান বিক্ষোভকারীরা।
নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে
এই ঘটনার পরই এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি ও নজরদারি শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বিধায়ক থোংগম শান্তি এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানুষকে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছে।
স্কুল রয়েছে বন্ধ
অশান্তির আশঙ্কায় এই জেলার বেশ কয়েকটি স্কুল আজ পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মাখায় রাখতে হবে, মণিপুরে গত কয়েক মাস ধরে পাহাড়–উপত্যকার বিভাজন ঘিরে জাতিগত উত্তেজনা ও বিচ্ছিন্ন হিংসা বাড়ছে। আর এটিই প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।