
নাসিকের তথাকথিত ‘ভন্ড বাবা’ অশোক খারাটকে ঘিরে সামনে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। ভাগ্য গণনা, তন্ত্র-মন্ত্র ও জ্যোতিষচর্চার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে তিনি যে ভয়াবহ অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়েছে মহারাষ্ট্র জুড়ে।
অভিযোগ, গত প্রায় এক দশক ধরে এক মহিলাকে ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণ করেছেন অশোক খারাট। শুধু তাই নয়, ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে জোর করে তাঁকে গর্ভপাত করানো হয় বলেও দাবি। এই ঘটনার ভিত্তিতেই প্রথমবার তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়।
প্রশ্ন উঠছে, এতদিন ধরে এমন নির্যাতন চললেও ভুক্তভোগীরা কেন মুখ খোলেননি? তদন্তে উঠে আসছে, খারাটের বিস্তৃত প্রভাববলয়ই ছিল এর মূল কারণ। রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে তুলে তিনি এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পেতেন অনেকেই।
এই প্রেক্ষাপটে মহারাষ্ট্র মহিলা কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন রূপালী চাকানকারের নামও উঠে এসেছে। তাঁর সঙ্গে খারাটের ঘনিষ্ঠতার একাধিক ছবি সামনে এসেছে, যা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। অভিযোগ, এক সাংবাদিক খারাটের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর তাঁকে ফোন করে চাপ দেওয়া হয়েছিল সেই প্রতিবেদন প্রত্যাহার বা খণ্ডন করার জন্য।
সাংবাদিক দত্ত খেমনার প্রশ্ন তুলেছেন, 'যদি মহিলা কমিশনের দায়িত্বে থাকা কেউ এভাবে অভিযুক্তকে আড়াল করার চেষ্টা করেন, তাহলে সাধারণ মহিলাদের সুরক্ষা কোথায়?' জানা গিয়েছে, রূপালি চাকানকার খারাটের ট্রাস্টের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। যদিও বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে এবং বিতর্কের জেরে তাঁকে পদ ছাড়তে হয়েছে।
অন্যদিকে, নাসিকের এক বাসিন্দা রামকৃষ্ণ মদনের অভিজ্ঞতাও সামনে এসেছে। সন্তানের আশায় স্ত্রীকে নিয়ে খারাটের কাছে গেলেও, পরে তিনি আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি। এখন গোটা ঘটনার সত্য প্রকাশ্যে আসায় নিজেকে ভাগ্যবান বলেই মনে করছেন তিনি।
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে খারাটের বিপুল সম্পত্তি নিয়ে। অভিযোগ, মানুষের দুর্বলতা ও সমস্যাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে গত ২০ বছরে তিনি প্রায় ১৫০০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। আরটিআই কর্মী বিজয় কুম্ভারের দাবি, এই অঙ্ক আরও বেশি হতে পারে।
এই অর্থ দিয়েই নাসিক জেলার সিন্নার এলাকায় ‘শিবনিকা ট্রাস্ট’ গঠন, মন্দির নির্মাণ এবং প্রায় ১২ একর জুড়ে বিলাসবহুল খামারবাড়ি তৈরি করেন খারাট। বিদেশ থেকে আমদানি করা দামী আসবাবপত্রে সাজানো সেই বাড়ি তাঁর বিলাসী জীবনেরই প্রমাণ বহন করে।
বর্তমানে অশোক খারাটকে ঘিরে তদন্ত জোরকদমে চলছে। তাঁর সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিও পুলিশের নজরে রয়েছেন। যে কোনও সময় আরও গ্রেফতারি হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।