রাঘব চাড্ডা'আমায় যখন যখন পার্লামেন্ট বলবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তখন আমি জনতার কথা বলি। এমন বিষয়ে কথা বলি যেগুলি সাধারণভাবে সংসদে তোলা হয় না। কিন্তু জনতার ইস্যুতে কথা বলা, পাবলিক ইস্যুতে কথা বলা কোনও অপরাধ? আমি কি কোনও ভুল করে ফেলেছি?', রাজ্যসভায় আপের ডেপুটি লিডারের পদ হারানোর পর নিরবতা ভেঙে এমনটাই বললেন রাঘব চাড্ডা। পাশাপাশি রাঘবের দাবি, 'আমার স্তব্ধতাকে হেরে যাওয়া ভাববেন না।'
আসলে রাঘবকে ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে আপ। এই বিষয়ে রাজ্যসভায় চিঠি দিয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল। তাদের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, দলের তরফে রাঘবের বদলে ডেপুটি লিডার করা হবে অশোক মিত্তলকে। পাশাপাশি আপ দাবি করেছে, দলের জন্য যেই বলার সময় বরাদ্দ, সেটা যেন রাঘবকে না দেওয়া হয়। আর তাতেই চটেছেন চাড্ডা। তিনি নিজের এক্স প্রোফাইলে এসে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন।
তাঁর অভিযোগ, 'আম আদমি পার্টি রাজ্যসভার সেক্রেটেরিয়েটকে এটা বলেছে যে রাঘব চাড্ডার পার্লামেন্টে বলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক। হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন। আম আদমি পার্টি পার্লামেন্টকে এটা বলেছে, যেন রাঘব চাড্ডাকে পার্লামেন্টে না বলতে দেওয়া হয়। এখন প্রশ্ন হল, কেন কেউ আমার কথা বলার উপর নিষেধাজ্ঞা আনতে চাইছেন না? আমি তো যখনই কথা বলি, তখন সাধারণ মানুষের হয়ে কথা বলি।'
নিজের হয়ে সাফাই দিতে তিনি পার্লামেন্ট তাঁর বলা বিষয়গুলির কথা তুলে ধরেন। চাড্ডা বলেন,, 'আমি তো এয়ারপোর্টে দামি খাবারের কথা তুলি, জোম্যাটো-ব্লিঙ্কিটের রাইডার্সের সমস্যার কথা তুলে ধরি, খাবারে ভেজালের প্রসঙ্গ তুলি, টোল প্লাজা লুট থেকে ব্যাঙ্ক চার্জ নিয়ে কথা বলি। এমনকী মিডল ক্লাসের ট্যাক্সের সমস্যা থেকে কন্টেন্ট ক্রিয়েটারদের সমস্যার কথা তুলে ধরি। এমনকী টেলিকম সংস্থারা কীভাবে ১২ মাসে আমাদের ১৩ বার রিচার্জ করাচ্ছে, ডেটা রোল ওভার দিচ্ছে না, রিচার্জ শেষ হওয়ার পর ইনকামিং বন্ধ করে দেওয়ার মতো বিষয়গুলি আমি তুলে ধরি।'
তাঁর দাবি, এই ধরনের প্রশ্ন তোলার জন্য সাধারণ মানুষের কিছু ভাল হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর প্রশ্ন, কিন্তু এতে আম আদমি পার্টির কোনও লোকসান হয়েছে কি? কেন কেউ তাঁকে বলত দিতে চাইছে না?
পরিশেষে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করেন, 'কিন্তু আপনারা আমায় সাপোর্ট দেন... আপনারা আমায় ভালোবাসা দেবেন। আমি আপনাদের জন্যই রয়েছি।'
মাথায় রাখতে হবে, বেশ কিছু দিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল চাড্ডা। পার্লামেন্টে তাঁর তোলা ইস্যু নিয়ে চর্চার শেষ থাকে না। আর এমন পরিস্থিতিতে আপ তাঁকে পার্লামেন্টে বলতে দিতে চাইছে না। এই ঘোষণার পরই দল বদলের গন্ধ পাচ্ছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। যদিও এখনও এই বিষয়টা সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছুই জানা যায়নি।