
২০২৬ সালের শুরুতেই ধাক্কা খেল দেশের আবাসন বাজার। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, বড় শহরগুলিতে বাড়ির চাহিদা কমে যাওয়ায় বিক্রির গতি স্পষ্টভাবে মন্থর হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, তা এবার উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করেছে।
প্রপইকুইটির রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে দেশের শীর্ষ ৯টি শহরে মোট বাড়ি বিক্রি হয়েছে ৯৮,৭৬১টি, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম। ২০২৫ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে এই সংখ্যা ছিল ১,১৩,৬০২। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ১৮টি ত্রৈমাসিকের মধ্যে এই প্রথমবার বাড়ি বিক্রি এক লক্ষের নিচে নেমে এল।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে মহারাষ্ট্রের আবাসন বাজারে। পুনেতে বিক্রি কমেছে ২৫ শতাংশ, থানে ২৪ শতাংশ এবং মুম্বইয়ে ২০ শতাংশ। হায়দরাবাদেও পতন দেখা গেছে। সেখানে বিক্রি কমেছে ১৬ শতাংশ, মোট বিক্রি হয়েছে ১১,৫৪৭টি ইউনিট। তুলনামূলকভাবে ছোট বাজার হিসেবে কলকাতা (৩,৮৭২ ইউনিট) ও চেন্নাই (৪,৭৬৫ ইউনিট) এখনও সীমিত পরিসরেই রয়ে গেছে।
তবে এই মন্দার মাঝেও কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে। বেঙ্গালুরু এবং দিল্লি-এনসিআর তুলনামূলকভাবে ভালো পারফর্ম করেছে। বেঙ্গালুরুতে বিক্রি হয়েছে ১৭,৯৯১টি ইউনিট, যা সর্বাধিক। এর পরে রয়েছে পুনে (১৬,১৪৪), থানে (১৫,৯৫৯) এবং দিল্লি-এনসিআর (১২,১৪১)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মন্দার অন্যতম প্রধান কারণ হল অনেক শহরে নতুন প্রকল্পের ঘাটতি বা সরবরাহ কমে যাওয়া। তবে নতুন বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে দিল্লি-এনসিআর আশার আলো দেখাচ্ছে। এই ত্রৈমাসিকে সেখানে ১৭,২২৭টি নতুন ইউনিট চালু হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৮৯ শতাংশ বেশি। বেঙ্গালুরুতেও ১৭,৭৮২টি ইউনিট চালু হয়েছে। যদিও তা গত বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ কম, তবে আগের ত্রৈমাসিকের তুলনায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের শুরুটা আবাসন শিল্পের জন্য কিছুটা চাপের হলেও, নির্দিষ্ট কিছু বাজারে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিতও স্পষ্ট।