SIR ফাইনাল ভোটার লিস্টভারত নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে পোস্ট-SIR সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৬ লক্ষ নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রায় ৬০ লক্ষ নাম এখনও যাচাই প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে। আগামী এপ্রিল ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই পরিবর্তন রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কমিশন জানিয়েছে, ৪ নভেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া ১১৬ দিনের বিশেষ শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া সম্প্রতি শেষ হয়েছে। বুথ লেভেল অফিসাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিতরণ ও তথ্য যাচাই করেন। খসড়া তালিকায় ভোটারের সংখ্যা ৭.৬৬ কোটি থেকে কমে ৭.০৮ কোটিতে নেমে এসেছে।
প্রাথমিকভাবে মৃত্যু, স্থানান্তর, ডুপ্লিকেট নাম এবং ঠিকানা না পাওয়ার কারণে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়ে। পরবর্তী পর্যায়ের যাচাইয়ে আরও ৮ লক্ষ নাম কাটা যায়। সব মিলিয়ে মোট ৬৬ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার কথা জানানো হয়েছে।
এছাড়া ৬০.০৬ লক্ষ ভোটারকে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন রাখা হয়েছে। ফর্মে ত্রুটি বা তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় এই নামগুলির বিষয়ে বিচারিক আধিকারিকরা সিদ্ধান্ত নেবেন। নতুন ফর্ম-৬ ও ফর্ম-৭ জমা পড়লে চূড়ান্ত সংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে।
জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, নদিয়ায় ২.৭৩ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। বাঁকুড়ায় কমেছে ১.১৮ লক্ষ। উত্তর কলকাতার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে মিলিয়ে প্রায় ৪.০৭ লক্ষ নাম বাদ গেছে। আলিপুরদুয়ারে কমেছে ১,০২,৮৩৫ নাম। হুগলিতে ৩,৩৪,৮০৬ নাম বাদ পড়েছে এবং আরও ১,৭৩,০৬৪ নাম এখনও বিবেচনাধীন।
কমিশন জানিয়েছে, ২০০২ সালের পর এটাই সবচেয়ে বড় আকারের তালিকা শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া। লক্ষ্য একটাই, নির্ভুল ও ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি করা। বর্তমানে ৭.০৮ কোটির মধ্যে প্রায় ৬.৪ কোটি ভোটারকে ‘অনুমোদিত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকার হার্ড কপি এসডিও ও বিডিও দপ্তরে পাওয়া যাচ্ছে, তবে সফট কপি এখনও প্রকাশিত হয়নি।
রাজনৈতিক মহলেও এই ইস্যুতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, ৮০ লক্ষ পর্যন্ত নাম বাদ পড়তে পারে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তন্ময় ঘোষ এই প্রক্রিয়াকে বাঙালিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ বলে দাবি করে আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, সব দলকেই সংশোধিত তালিকার ভিত্তিতেই নির্বাচনে লড়তে হবে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বহু আসনে কয়েক হাজার ভোটে ফল নির্ধারিত হয়েছিল। ফলে নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা বা কলকাতার মতো জেলায় ভোটার তালিকার এই বড় পরিবর্তন আগামী নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত।