দেবী লক্ষ্মী কৃপা, অক্ষয় তৃতীয়াAkshay Tritiya 2026 Vastu: আগামী ১৯ এপ্রিল রবিবার পালিত হবে অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্য তিথি। হিন্দুশাস্ত্র মতে, এই দিনের প্রতিটি ক্ষণই পরম শুভ। নতুন কোনও কাজ বা ব্যবসার শ্রীগণেশ করতে পঞ্জিকা উল্টে কোনও বিশেষ মুহূর্ত খোঁজার প্রয়োজন পড়ে না। ভক্তদের বিশ্বাস, এদিন মা লক্ষ্মীর ভাঁড়ার অবারিত থাকে। তাই ধনবৃদ্ধি আর সুখের কামনায় দিকে দিকে চলে কেনাকাটার ধুম। কিন্তু সোনা কেনাই কি কেবল লক্ষ্য? শাস্ত্র বলছে, সোনা-রুপোর সামর্থ্য না থাকলেও মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ ঘরে আনা সম্ভব অতি সাধারণ কিছু জিনিসে।
আসলে অক্ষয় তৃতীয়ার বাজারে সোনা-রুপোর গয়না কেনা সবচেয়ে মঙ্গলজনক হলেও তালিকায় রয়েছে আরও অনেক কিছু। পকেটে রেস্ত কম থাকলেও এই দিনে বাড়ি আনতে পারেন সামান্য সৈন্ধব লবণ, যা ঋণমুক্তি ঘটাতে সাহায্য করে। এছাড়া ঘরের ইতিবাচক শক্তি বাড়াতে কার্পাস বা তুলো, সুখ-সমৃদ্ধির জন্য মাটির পাত্র এবং শুভত্বের প্রতীক হিসেবে যব ও হলদে সরষে কেনাও অত্যন্ত ফলদায়ী। অন্দরমহলে শান্তি ফেরাতে একটি তুলসী চারা কিংবা লক্ষ্মীর প্রতীক কড়ি ও নতুন বাসনও এদিন সৌভাগ্যের চাবিকাঠি হতে পারে। তবে খেয়াল রাখবেন, ভুলের বশেও যেন লোহা, কাঁটাওয়ালা গাছ, ছুরি-কাঁচির মতো ধারালো অস্ত্র কিংবা কালো রঙের কিছু অন্দরে না ঢোকে। এমনকি বাসি মিষ্টি বা স্টিল-অ্যালুমিনিয়ামের বাসন কিনতেও এদিন বারণ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেনাকাটার পাশাপাশি এদিন দান-ধ্যানের মাহাত্ম্যও অপরিসীম। নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী এই গরমে তৃষ্ণার্তকে জলপূর্ণ কলস, মিছরি, ছাতু, কিংবা তালপাতার পাখা ও মাদুর দান করতে পারেন। ফলমূলের মধ্যে তরমুজ বা শসা দান করা যেমন পুণ্যের, তেমনই অভাবীকে ছাতা বা চটি জুতো দিলে অক্ষয় ফল পাওয়া যায়। এবার সোনা কেনা বা শুভ কাজের সবচেয়ে প্রশস্ত সময় শুরু হচ্ছে ১৯ এপ্রিল সকাল ১০টা ৪৯ মিনিটে, যা চলবে ২০ এপ্রিল ভোর ৫টা ৫১ মিনিট পর্যন্ত। ১৯ তারিখ সকালেই রয়েছে চর, লাভ ও অমৃতের যোগ। আবার সন্ধ্যার পর অমৃত যোগ থাকছে রাত ১০টা ৫৭ মিনিট পর্যন্ত। তাই সাধ্য আর সাধের মেলবন্ধনে এবারের অক্ষয় তৃতীয়া আপনার সংসারে অক্ষয় সুখ নিয়ে আসুক।