ফ্যাক্ট চেক: 'তৃণমূলের দ্বারা প্রহৃত' বৃদ্ধার ২০২১ সালের ছবি ছড়াল সম্পূর্ণ বিপরীত দাবিতে

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ছবির বৃদ্ধা হলেন উত্তর ২৪ পরগনার নিমতার বাসিন্দা শোভা মজুমদার এবং তাঁকে বিজেপি কর্মীরা মারধর করেনি। বরং ২০২১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বিজেপি করার জেরে তাঁকে এবং তাঁর ছেলেকে বেধড়ক মারধর করেছিলেন স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা।

Advertisement
ফ্যাক্ট চেক: 'তৃণমূলের দ্বারা প্রহৃত' বৃদ্ধার ২০২১ সালের ছবি ছড়াল সম্পূর্ণ বিপরীত দাবিতে

রাজ্যে বেজে গিয়েছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা। আর এই আবহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে এক বৃদ্ধার একটি ছবি। সেই ছবিতে ওই বৃদ্ধার চোখ-মুখ ফুলে থাকার পাশাপাশি সেখানে রক্ত জমে থাকতে দেখা যাচ্ছে। ছবিটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, কেবলমাত্র বিজেপি না করার কারণে এই বৃদ্ধাকে নির্মমভাবে মারধর করেছে বিজেপি কর্মীরা। পাশাপাশি, ছবিটি শেয়ার করে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাঙালিদেরকে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার আবেদন করা হচ্ছে।

উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ছবিটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “শুধুমাত্র ভোট স্বার্থে ধর্মের ব্যাপারীরা বাংলার এই মাকে এমন নির্মম ভাবে মেরেছিল! বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আগে এই বাঙালি মায়ের মুখটা একবার অন্তত মনে করবেন! বাংলার মেয়েকে যারা মেরেছে, তাদেরকে বাংলার জনতা কখনোই ক্ষমা করবে না। নির্মম বেদনাময় কাহিনী ভুলে যাবেন না! বিজেপিকে একটিও ভোট দেবেন না!”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ছবির বৃদ্ধা হলেন উত্তর ২৪ পরগনার নিমতার বাসিন্দা শোভা মজুমদার এবং তাঁকে বিজেপি কর্মীরা মারধর করেনি। বরং ২০২১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বিজেপি করার জেরে তাঁকে এবং তাঁর ছেলেকে তৃণমূল কর্মীরা বেধড়ক মারধর করেছিলেন বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।

সত্য উন্মোচন

ভাইরাল ছবি ও দাবির সত্যতা জানতে সেটি নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাইরাল ছবির বৃদ্ধার ছবি-সহ দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও টাইমস অব ইন্ডিয়ায় এই সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই সব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভাইরাল ছবির বৃদ্ধা হলেন উত্তর ২৪ পরগনার নিমতার বাসিন্দা শোভা মজুমদার। ২০২১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নিমতার বাড়িতে ঢুকে বিজেপি কর্মী গোপাল মজুমদার এবং তাঁর ৮৫ বছরের বৃদ্ধা মা শোভা ওরফে শোভারানি মজুমদারকে তৃণমূল কর্মীদের তরফে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ তোলা হয়। 

Advertisement

এরপর এই সংক্রান্ত আরও অনুসন্ধান চালালে ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সংস্থা ANI-র অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে আক্রান্ত বৃদ্ধা শোভা মজুমদারের একটি বিবৃতি পাওয়া যায়। সেখানে ছেলে গোপাল মজুমদার পাশে নিয়ে তিনি জানান, “ওকে (ছেলে) মাথায় বাড়ি দিয়েছে। তৃণমূলরা মেরেছে। আমাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়েছে। মুখে মেরেছে। ভোর সাড়ে চারটের সময় এসেছিল। আমি ভয় পেয়েছি। ওকে (ছেলে) বলেছে স্বীকার করবে না কে মেরেছে।” 

এই ঘটনার প্রায় এক মাস পরে ২০২১ সালের মার্চ নিমতার নিজের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শোভারানি মজুমদার। বৃদ্ধার মৃত্যুর পরে টুইট করে ফের তৃণমূলকেই দায়ী করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, তৎকালীন বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা ও পশ্চিমবঙ্গের সহ-পর্যবেক্ষক অমিত মালব্যও। শাহ তাঁর টুইটে লেখেন, ‘টিএমসি-র গুন্ডাদের নির্মম অত্যাচারে আজ বাংলার কন্যা শোভা মজুমদার মহাশয়ার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই পরিবারের গভীর ক্ষত আর ব্যথা দীর্ঘদিন মমতা দিদিকে বিদ্ধ করবে। হিংসামুক্ত ভবিষ্যত গড়তে, বাংলার মা-বোনেদের জন্য সুরক্ষিত রাজ্য গড়তে বাংলা লড়াই করবে’।

এর থেকে প্রমাণ হয়, ভাইরাল ছবির বৃদ্ধা শোভা মজুমদারকে বিজেপি নয়, বরং তৃণমূল কর্মীরা মারধর করেছিলেন বলে অভিযোগ ছিল।

ফ্যাক্ট চেক

Facebook Users

দাবি

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কেবলমাত্র বিজেপি না করার কারণে এই বৃদ্ধাকে নির্মমভাবে মারধর করেছে বিজেপি কর্মীরা।

ফলাফল

ভাইরাল ছবির বৃদ্ধা শোভা মজুমদারকে বিজেপি কর্মীদের দ্বারা নয়, বরং ২০২১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তাঁকে এবং তাঁর ছেলেকে তৃণমূল কর্মীরা মারধর করেছিল বলে অভিযোগ ছিল।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  • কাক: অর্ধসত্য
  • একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  • অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Facebook Users
আপনার কী মনে হচ্ছে কোনও ম্যাসেজ ভুয়ো ?
সত্যিটা জানতে আমাদেরসংখ্যা73 7000 7000উপর পাঠান.
আপনি আমাদেরfactcheck@intoday.com এ ই-মেইল করুন
POST A COMMENT
Advertisement