অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারীSuvendu Adhikary Amit Shah: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার সবথেকে চর্চিত কেন্দ্র এখন দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর। একদিকে খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আর অন্যদিকে তাঁরই একদা সেনাপতি তথা বর্তমান বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার দিল্লি থেকে সবুজ সংকেত মেলার পর স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, শুভেন্দুর পাল্লা ভারী করতে এবার সশরীরে ময়দানে নামছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বুধবার রাতেই কলকাতায় পা রাখছেন তিনি। আগামী বৃহস্পতিবার ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পেশের দিন হাজরা মোড় থেকে যে মেগা রোড-শোর পরিকল্পনা করেছে গেরুয়া শিবির, তাতে অমিত শাহের উপস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে। ২০২৬-এর এই মহাযুদ্ধে ভবানীপুরই যে ‘এপিসেন্টার’ হতে চলেছে, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।
বিজেপি সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার শুভেন্দু অধিকারী মনোনয়ন পেশ করার আগে হাজরা মোড়ে একটি বিশাল জনসভা করতে পারেন অমিত শাহ। সেখান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ রোড-শো করে সার্ভে বিল্ডিংয়ের কাছাকাছি পর্যন্ত যাবেন তিনি। শেষ ২০০ মিটার পথ হেঁটে গিয়ে মনোনয়ন কেন্দ্রে শক্তি প্রদর্শন করবে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্মতির পর অমিত শাহ এবং নির্বাচনের পর্যবেক্ষক নীতিন নবীনরা যে পরিকল্পনা সাজিয়েছেন, তাতে ভবানীপুরের লড়াইকে জাতীয় স্তরের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুরে মুখোমুখি মমতা-শুভেন্দু। এর আগে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর মনোনয়নের সময় পাশে ছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান বা দিলীপ ঘোষের মতো নেতারা। কিন্তু এবার ভবানীপুরের মাটিতে খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি প্রমাণ করছে যে, এই কেন্দ্রটি দখলের জন্য বিজেপি কতটা মরিয়া। রাজনৈতিক মহলের মতে, হাজরা মোড়ের মতো তৃণমূলের খাসতালুকে দাঁড়িয়ে অমিত শাহের সভা এবং রোড-শো আদতে ঘাসফুল শিবিরের মনোবলে ধাক্কা দেওয়ারই এক কৌশল।
শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্য: বুধবার রাতে কলকাতায় পৌঁছেই রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠক করতে পারেন শাহ। বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে যাতে ভিড়ের কমতি না হয়, তার জন্য দক্ষিণ কলকাতার প্রতিটি মণ্ডলে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। হাজরা থেকে সার্ভে বিল্ডিং পর্যন্ত এলাকাকে গেরুয়া পতাকায় মুড়ে ফেলার প্রস্তুতি চলছে। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবারের ভবানীপুর কেবল একটি কেন্দ্রের মনোনয়ন পেশ নয়, বরং গোটা রাজ্যের কাছে বিজেপির শক্তি পরীক্ষার ময়দান হয়ে উঠতে চলেছে।