
কয়লা পাচার মামলার তদন্তে ফের তৎপর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা ‘ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি’ (আই-প্যাক)-এর সঙ্গে যুক্ত একাধিক প্রতিষ্ঠানে একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।
সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অভিযান চালানো হয় হায়দ্রাবাদ, বেঙ্গালুরু এবং দিল্লি, এই তিন শহরে। আই-প্যাকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি সংস্থার অন্যতম পরিচালক ঋষি রাজ সিংয়ের বেঙ্গালুরুর বাসভবনেও নজর দেয় ইডি।
এই তল্লাশি পশ্চিমবঙ্গের বহুচর্চিত কয়লা চোরাচালান মামলার তদন্তেরই অংশ। গত কয়েক বছরে এই মামলায় একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে ইডি এবং গ্রেফতারও হয়েছে বেশ কয়েকজন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে আই-প্যাক ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত রয়েছে বলে জানা যায়। ফলে এই তল্লাশি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতেও একই মামলার অর্থপাচার সংক্রান্ত তদন্তে ইডি আই-প্যাকের কলকাতা দফতর এবং সংস্থার আরেক পরিচালক প্রতীক জৈনের বাসভবনে তল্লাশি চালিয়েছিল। সেই সময় ঘটনাটি বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়, বিশেষ করে যখন অভিযোগ ওঠে যে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের কয়েকজন নেতা সল্ট লেকের আই-প্যাক অফিসে উপস্থিত ছিলেন।
ইডির দাবি ছিল, ওই সময় গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং পাল্টা কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।
পরবর্তী সময়ে, তদন্তে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে ইডি একটি নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানায়। সেই সূত্রে প্রথমে হাইকোর্ট এবং পরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্রীয় সংস্থাটি, যাতে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) দিয়ে স্বাধীন তদন্ত করানো যায়।
ইডির অভিযোগ, এই মামলায় অপরাধলব্ধ প্রায় ১০ কোটি টাকা হাওয়ালা মারফত আই-প্যাকের কাছে পৌঁছেছিল। পাশাপাশি, ২০২২ সালের গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে কাজ করার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের কাছ থেকেও সংস্থাটি অর্থ গ্রহণ করেছিল বলে দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থা।