রাতে বাড়বে দুর্যোগ কলকাতায় সন্ধে থেকে বৃষ্টি। দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায়ও বৃষ্টি চলছে। কোথাও কোথাও বইছে ঝোড়ো হাওয়া। এরই মধ্যে রেড অ্যালার্ট জারি করল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। সতর্কবার্তা দুই চব্বিশ পরগনা ও কলকাতার জন্য।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, কলকাতা-সহ উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আগামী ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সোমবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট নাগাদ জারি করা নাউকাস্ট সতর্কতায় ‘রেড অ্যালার্ট’ ঘোষণা করা হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘণ্টায় ৬০-৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এর সঙ্গে বজ্রপাত এবং হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য বিপদের মধ্যে রয়েছে বজ্রপাতের ঝুঁকি এবং গাছ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা। তাই ঝড়বৃষ্টির সময় নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খোলা মাঠ, জলাশয় বা একা দাঁড়ানো গাছের নিচে না যাওয়ার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।
এছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের নানা জেলায় হলুদ, কমলা ও লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গেছে, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর ও পূর্ব বর্ধমান জেলায় মাঝারি বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সেজন্য হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে। এই সব এলাকায় ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত ও বজ্রপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
হাওড়া, হুগলি ও পূর্ব মেদিনীপুরের কিছু অংশে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেখানে আরও তীব্র ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে, বাতাসের গতিবেগ ৫০-৬০ কিমি প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর ও বাঁকুড়া জেলায়। যেখানে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই সব এলাকায় ঘণ্টায় ৬০-৭০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া, প্রবল বৃষ্টি, বজ্রপাত এমনকি কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
সম্ভাব্য বিপদের মধ্যে রয়েছে বজ্রাঘাত, গাছ উপড়ে পড়া এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট। তাই বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খোলা জায়গা, জলাশয় এবং একা দাঁড়ানো গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। ঝড়-বৃষ্টির সময় অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনোর জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।