নীলরতন হাসপাতাল।-ফাইল ছবিকলকাতার সরকারি হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। সাম্প্রতিক একের পর এক ঘটনায় সেই উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে। এবার শহরের অন্যতম প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-এর সিসিইউ-তেই ছাদের অংশ ভেঙে পড়ার ঘটনায় বড়সড় বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দু’দিন আগে হাসপাতালের ইউএনবি ভবনের ৬ তলায় হঠাৎই সিসিইউ-র ছাদের একটি অংশ খসে পড়ে। সেই সময় সেখানে অন্তত ১২ জন আশঙ্কাজনক অবস্থার রোগী ভর্তি ছিলেন। বরাতজোরে কেউ গুরুতর আহত হননি, তবে ছাদ ভাঙায় মেঝেতে ফাটল দেখা দেয় এবং গোটা ইউনিটে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
After the RG Kar lift incident, yet another shocking failure has exposed the crumbling state of government hospital infrastructure in West Bengal.
— Amit Malviya (@amitmalviya) April 3, 2026
At Nil Ratan Sircar Medical College and Hospital, a portion of the ceiling collapsed inside the CCU of the Medicine Department in… pic.twitter.com/R1XrrtcWqt
ঘটনার পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। ঝুঁকি এড়াতে সিসিইউ-তে ভর্তি সমস্ত রোগীকে অন্য নিরাপদ ওয়ার্ডে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আপাতত ওই সিসিইউ-তে নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ রাখা হয়েছে। পূর্ত দপ্তর (PWD)-এর তরফে মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে, এবং সম্পূর্ণ সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত ইউনিটের একটি অংশ বন্ধই থাকবে।
সিসিইউ বিভাগের কো-ইনচার্জ ডা. সাত্যকি মজুমদার জানিয়েছেন, আগেই ছাদের একটি অংশে ফাটল ধরা পড়েছিল। সতর্কতার স্বার্থেই দ্রুত রোগীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে পরিষেবা আংশিকভাবে চালু রাখা হয়েছে। বর্তমানে ১৫টি শয্যার মধ্যে ১২ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, রোগীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। হাসপাতালের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ, এইচডিইউ, নিউরো আইসিইউ ও রেসপিরেটরি আইসিইউ, স্বাভাবিকভাবেই পরিষেবা দিচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামতির কাজ জোরকদমে এগোচ্ছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আবারও সামনে এসেছে সরকারি হাসপাতালগুলির জীর্ণ পরিকাঠামোর বাস্তব চিত্র। এর আগে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-এ লিফট বিকল হয়ে পড়া এবং ট্রমা কেয়ার ইউনিটে পরিকাঠামোগত ঘাটতি নিয়েও তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
এদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, বহুদিন ধরেই ভবনের ছাদ ও দেওয়ালে ফাটল ছিল এবং স্তম্ভের গঠনগত সমস্যার ইঙ্গিত মিলছিল, যা আসন্ন বিপদের পূর্বাভাস দিচ্ছিল। তবুও সময়মতো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি তাদের।
বিরোধীদের আরও অভিযোগ, একের পর এক দুর্ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং জবাবদিহিতার ঘাটতির ফল। তাঁদের প্রশ্ন, কতগুলি সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছে, এবং আর কত মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়লে ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পুরনো ভবন, অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ এবং অতিরিক্ত রোগীর চাপ, এই তিনের সমন্বয়েই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রেই স্থায়ী সমাধানের বদলে অস্থায়ী মেরামতির উপর নির্ভর করাই ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, যে হাসপাতালগুলির উপর প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভরসা করেন, সেখানে ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না কেন? বারবার এমন ঘটনার পরও স্থায়ী সমাধান কবে হবে, তা নিয়েই উদ্বেগে রোগী, তাঁদের পরিবার এবং সাধারণ মানুষ।