প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)-র বিরুদ্ধে সুর আরও চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় (WB CM Mamata Banerjee)। বুধবার তিনি অভিযোগ করেন, দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত। কেউ কিছু বললে ভয় দেখায়। অফিসারদেরও ভয় দেখাচ্ছে।
এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)-র নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় (WB CM Mamata Banerjee) কটাক্ষ করেন। বলেন, যেমন নোটবন্দি করেছিল, তেমন বুলিবন্দি করেছে। সব বিরোধীদের অনুরোধ করব, এর বিরুদ্ধে লড়ার। বিজেপিরও অনেকে আছে। তাঁদেরও বলব একসঙ্গে আসুন। আমার কথা ভুলে যান। সবাই একসঙ্গে লড়াই করব। কেউ কিছু বললে এজেন্সি লাগিয়ে দেয়। প্রাকৃতিক বিপর্যয় চলছে, সেইসঙ্গে রাজনৈতিক বিপর্যয়ও।
রাকেশ টিকায়েত (Rakesh Tikait) মমতার কাছে আর্জি জানান, বিজেপি-বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীরা যাতে দিল্লির কৃষক আন্দোলনের জায়গায় যান। পরে মমতা জানান, করোনা সংক্রমণ কমলে যাওযার চেষ্টা করবেন। 'বন্ধু' মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে চিঠি দেবেন
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় (WB CM Mamata Banerjee)-এর তোপ, রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কর্মসূচি। সব কাজে রাজ্যকে বুলডোজ করা ঠিক না। তিনি দাবি করেন, রাজ্য় সরকারগুলিরও একট ইউনিয়ন দরকার। কেন্দ্র কোনও রাজ্যকে হেনস্থা করলে, বাকিরা মিলে লড়াই করবে।
দিল্লির কৃষক আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে বিজেপি-বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীরা একজোট হতে চলেছেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় (WB CM Mamata Banerjee)-এর সঙ্গে দেখা করেন দিল্লির কৃষক আন্দোলনের নেতা রাকেশ টিকায়েত। পরে তাঁরা সাংবাদাকিদের সঙ্গে কথা বলেন।
এদিনের বৈঠকে ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, তৃণমূল নেতা যশবন্ত সিং, কৃষক নেতা যুদ্ধবীর সিং। কৃষক আন্দোলন নিয়ে মমতা বলেন, আমাদের সাপোর্ট রয়েছে। সেখানে আমাদের প্রতিনিধি গিয়েছিলেন। সিঙ্গুরে আন্দোলন করেছি। যতদিন না দাবি পূরণ হয়। আমরা আছি। বিরোধী সব মুখ্যমন্ত্রীরা যাতে কোনও কর্মসূচি নেন, উনি অনুরোধ করেছেন। করোনা কমলে আলোচনা করব। বাকি মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলব।
তাঁর আরও অভিযোগ, বাংলার নদীতেও মরদেহ ভেসে আসছে। এভাবে দেশ চলে! বিজেপি খবরদাবি, জবরদস্তি করছে। কালা কানুন আনতে, বেরোজগারি বাড়াতে কাজ করেছে। আমরাও চাই কৃষকদের আন্দোলন শক্ত হোক। আমাদের যা সাপোর্ট দরকার দেব।
মমতার আর্জি, অনেক তরুণ আছেন, যাঁরা মোদীকে দেখে গিয়েছিলেন। তাঁদের বলব দেশ, কৃষককে বাঁচাতে একজোট হন। গণতন্ত্র, লোকতন্ত্রকে রক্ষা করা জন, সবাইকে অনুরোধ করব। স্টেট গভর্মেন্টেরও একটা ইউনিয়ন থাকা দরকার।
কেন্দ্রকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, করোনা, কৃষক, বেকারি ভুল নীতির জন্য আজ ক্ষুধার্ত দেশ। আইন পাশ করিয়ে নেয়। কোভিডের ওষুধ, জিনিসেও জিএসটি নিচ্ছি। সাত মাস ধরে আন্দোলন চলছে। জানুয়ারি থেকে কথা বলেনি কেন্দ্র। ওঁরা তো দেশের মানুষ। ওঁরা আর্জি জানিয়েছেন, যদি ভার্চুয়াল কনফারেন্স করতে পারে। একটা মঞ্চ বানাবেন। সেখানে আমাদের আমন্ত্রণ জানাবেন। বন্ধু মুখ্যমন্ত্রীরা যাতে সবাই মিলে একটি চিঠি পাঠান, তা নিয়ে কথা হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমি কিছুই করতে চাই না। আমি একটা জিনিস করতে তাই, তা হল মোদীকে সরাতে চাই। টিকায় কর লাগিয়ে জীবন আর মৃত্যুর খেলা করছে।
তাঁর অভিযোগ, ভুল নীতির জন্য অনেক মানুষ মারা গিয়েছেন। টিকা কবে আসবে, কী ভাবে আসবে, জানি না। ২৫ শতাংশ টিকা বেসরকারি হাসপাতালকে কেন্দ্র দেবে। কেন দেবে? কোভিড পলিসি কী জানিই না!কেন্দ্র কি সামলাতে পেরেছে?
মমতা বলেন, এখন টিকা দিচ্ছে কেন? নিখরচায় টাকা দেবে প্রধানমন্ত্রীর কৃতিত্ব নেওয়ার কিছু নেই। এক টাকাও বিজেপির নয়। ৩৫ হাজার কোটি টাকা ছিল, যেটা টিকার জন্য। এটা জনতার টাকা। সেই টাকা কোথায় গেল? সুপ্রিম কোর্ট এ ব্য়াপারে জানতে চেয়েছে। আমাদের রাজ্যে ২ কোটি টিকা দিয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক রাজ্য নিজে কিনেছে। আমরাও ২০০ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছি। প্রধানমন্ত্রী ভাষণ ছাড়া কিছুই দেননি। বিহারে ভোটের আঘে তো বলেছিলেন নিখরচায় টিকা দেবেন। তার কী হল? সব কথায় রাজ্য সরকারকে বুলডোজ করা ঠিক নয়।
রাকেশ টিকায়েত জানান, বিপক্ষকে এক করে অন্য কর্মসূচি নেওয়া হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানাই। বাংলায় কৃষকরা যাতে আরও দাম পান, সে ব্যাপারে কাজ করুক। সবজি চাষীরা যাতে দাম পান, দেখুক সরকরা। করোনা কালে সবথেকে বেশি ক্ষতি হয়েছেন। তাঁরা যাতে সাহায্য পান, দেখতে হবে।
রাকেশ টিকায়েত বলেন, বড় জয় পেয়েছেন। আমাদের আশা কৃষকদের সমস্যা আছে, তা সমাধান হবে। কেন্দ্র নিয়ে যে সমস্যা তার ব্যাপারে চিঠি দেওয়া হবে। দিল্লির আন্দোলনকে সমর্থন করবেন। কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে রয়েছেন।
রাকেশ টিকায়েত বলেন, বিজেপিকে ভোট নয়। ক্ষমতায় এলে বিক্রি করে দেবে। বিজেপি থাকলে দেশ বিক্রি হয়ে যাবে। যুদ্ধবীর সিং বলেন, পুঁজিবাদ, ধর্মীয় বাদের বিরুদ্ধে জবাব দিয়েছে বাংলা। দেশ তাকিয়ে ছিল।