প্রতীকী ছবি বর্তমান সময়ের দ্রুতগতি ও ব্যস্ত জীবনযাত্রায় বেশিরভাগ মানুষ ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন। হয় তারা কম ঘুমাচ্ছেন অথবা তাদের গভীর ঘুম হচ্ছে না। এর অনেক কারণ থাকতে পারে। দেরিতে ঘুমানো এবং সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার পর মানুষ প্রায়ই সকালে ক্লান্ত ও অলস বোধ করে।
একটি সুস্থ শরীরের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম ঠিক ততটাই অপরিহার্য, যতটা অপরিহার্য সুষম খাদ্য এবং শরীরচর্চা। চিকিৎসাবিজ্ঞান পরামর্শ দেয় যে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা গভীর ঘুম প্রয়োজন। তবে, আধুনিক জীবনযাপন এবং স্ক্রিনের সামনে অতিবাহিত সময়ের আধিক্য মানুষের ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পর্যাপ্ত ও ভাল ঘুম শরীর ও মনকে সঠিকভাবে কাজ করার শক্তি যোগায়। ঘুমের সময়ই শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিজেদের ক্ষয়পূরণ ও মেরামতের কাজ সম্পন্ন করে। ঘুমের অভাবে বিভিন্ন রোগ হয়। আপনিও যদি ঘুমের অভাবে ভোগেন, তাহলে অবিলম্বে এ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া শুরু করা উচিত।
ঘুমের অভাবজনিত অসুস্থতা
দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের অভাব শুধুমাত্র আপনার মানসিক একাগ্রতাকেই ব্যাহত করে না, বরং এটি আপনার শরীরের বিপাকক্রিয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও দুর্বল করে দেয়। দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের অভাব এমন অনেক রোগের জন্ম দিতে পারে, যেগুলোর চিকিৎসা করা বেশ কঠিন।
হৃদরোগ
ঘুমের অভাব রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যার ফলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
টাইপ ২ ডায়াবেটিস
ঘুমের অভাবে শরীরে 'ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স' বা ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থূলতা
যখন ঘুম অসম্পূর্ণ থাকে, তখন 'লেপটিন' এবং 'ঘ্রেলিন'-এর মতো হরমোনগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়; এর ফলে ক্ষুধা বৃদ্ধি পায় এবং শরীরের ওজন বাড়তে শুরু করে।
মানসিক সমস্যা
অনিদ্রা বা ঘুমের অভাব মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং ডিপ্রেশনের মতো গুরুতর মানসিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
আমরা যখন ঘুমাই, তখন আমাদের শরীর রোগ-প্রতিরোধকারী 'সাইটোকাইন' নামক উপাদান তৈরি করে। ঘুমের অভাব শরীরের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়।