অজয় শ্রীমাণিপ্রয়াত ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রাক্তন ফুটবল সচিব অজয় শ্রীমাণি। ১৯৭৫ সালে শিল্ড ফাইনালে মোহনবাগানকে ৫-০ গোলে হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। যে রেকর্ড এখনও অক্ষত। সেই সময় ক্লাবের ফুটবল সচিব ছিলেন অজয় শ্রীমানী। বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছিলেন তিনি।
ইস্টবেঙ্গলের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ফুটবল সচিবের নাম অজয় শ্রীমাণি। ফুটবলারদের সঙ্গে তাঁর দারুণ সম্পর্ক ছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গা থেকে ফুটবলার তুলে আনার কাজটাও দারুণ ভাবে করতেন তিনি। আদ্যন্ত মোহনবাগানি হলেও প্রথম দিনই ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে ভালোবেসে ফেলেন লাল-হলুদের প্রাক্তন কর্তা। যদিও এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মোহনবাগানি নই, পুরোপুরি ইস্টবেঙ্গল। আমি এই ক্লাবের সমর্থক হয়েই পৃথিবীতে এসেছি। চলে যাব এই ক্লাবের সমর্থক হয়ে।‘ লাল-হলুদের ফুটবল সচিব ছিলেন একেবারে স্বর্ণযুগের কর্তা।
অজয় শ্রীমাণির সময় ইস্টবেঙ্গলের দলে সই করেছিলেন সুভাষ ভৌমিক, সুধীর কর্মকার, গৌতম সরকারের মতো বিখ্যাত ফুটবলাররা। ১৯৭৫ সালে ৫ গোলে ইস্টবেঙ্গলকে জেতানো দলের সদস্যদের দারুণ উপহার দিয়েছিলেন অজয় শ্রীমানী। তাঁর বাড়িতে দুর্গাপুজো হত। সেই পুজোয় ইস্টবেঙ্গলের তৎকালীন সমস্ত ফুটবিলারকেই সোনার আংটি উপহার দেন।
তাঁর সময়, টানা ছয়বার কলকাতা লিগ জিতে মহামেডান স্পোর্টিং-এর রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল লাল-হলুদ ক্লাব। শেষদিকে অনেককিছুই মনে রাখতে পারতেন না সুধীর-হাবিবদের প্রিয় কর্তা। শেষ কয়েক বছরে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে ইস্টবেঙ্গলের ব্যর্থতা বেশ কষ্ট দিয়েছিল তাঁকে। ১৯৭০-৭৫ সাল পর্যন্ত লাল-হলুদের কর্তা ছিলেন অজয় শ্রীমাণি। তাঁর সময়ে ইস্টবেঙ্গল টানা পাঁচ বার লিগ জিতেছে। পাস ক্লাব, পিয়ং ইয়ংয়ের মতো বিদেশি ক্লাবকে মাটি ধরিয়েছে। শিল্ড ফাইনালে মোহনবাগানকে পাঁচ গোল দিয়েছে।