
Gold Silver Price Drop: বিশ্ববাজারের টালমাটাল পরিস্থিতির প্রভাবে ভারতীয় বাজারে সোনা ও বিশেষ করে রুপোর দামে বড়সড় পতন লক্ষ্য করা গেল। গত কয়েক দিনের লাগামছাড়া উর্ধ্বগতির পর এই হঠাৎ পতন বিনিয়োগকারীদের কপালে যেমন চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, তেমনই খুচরো ক্রেতাদের মুখে ফুটিয়েছে চওড়া হাসি। মূলত আন্তর্জাতিক স্তরে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার হালকা আভাসই এই মূল্যবান ধাতুর দামকে নিচের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

রুপোর দামের গ্রাফ বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, এটি নিজের রেকর্ড উচ্চতা থেকে এক ধাক্কায় অনেকটা নিচে নেমে এসেছে। এক সময় যা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছিল, আজ সেই রুপোর বাটের দাম কেজি প্রতি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বড় বড় বিনিয়োগকারীরা যখন মুনাফা আয়ের আশায় বিক্রি বাড়াতে শুরু করেছেন, তখনই বাজারে জোগানের তুলনায় চাহিদা কিছুটা থিতিয়ে পড়ায় এই 'ক্র্যাশ' বা ধস আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। বিশেষ করে গয়না ও শিল্পক্ষেত্রে রুপোর ব্যাপক ব্যবহারের কারণে এই দামের পতন সামগ্রিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।

সোনাও পিছিয়ে নেই এই দৌড়ে। ২৪ ক্যারেট বা খাঁটি সোনার ১০ গ্রামের দামেও লক্ষ্য করা গেছে বড় অঙ্কের পতন। কদিন আগেও যেখানে বিয়ের মরসুমের কেনাকাটা করতে গিয়ে ক্রেতাদের পকেট ফাঁকা হওয়ার জোগাড় ছিল, সেখানে আজকের রেট কার্ড কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে। বিয়ের মরসুম চলাকালীন এই পতন গয়না ব্যবসায়ীদের কাছেও একটি সুযোগ তৈরি করেছে, কারণ দাম কমলে সাধারণত শোরুমগুলোতে ভিড় বাড়তে দেখা যায়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পতনের পিছনে রয়েছে গ্লোবাল মার্কেটের বেশ কিছু টেকনিক্যাল কারণ। যখনই মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা সামান্য কমে বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার নিয়ে কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়, তখনই সোনা ও রুপোর মতো নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্র থেকে টাকা সরিয়ে শেয়ার বাজারের দিকে ঝুঁকতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। আজকের বাজারেও সেই একই প্রবণতা প্রকট হয়েছে, যার ফলস্বরূপ স্ক্রিনে লাল সংকেত দেখাচ্ছে এই দুই ধাতুর দাম।

তবে এই পতন কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। ইতিহাস সাক্ষী আছে যে, বুলিয়ন মার্কেটে বড় পতনের পর অনেক সময় দ্বিগুণ গতিতে দাম বাড়তে শুরু করে। তাই যারা ভাবছেন এই সুযোগে বড়সড় বিনিয়োগ করবেন, তাদের জন্য এটি সোনার সময় হলেও অত্যন্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বাজারের এই অস্থিরতা আগামী কয়েক দিন বজায় থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছে খোদ খনি ও ধাতু গবেষণা সংস্থাগুলো।

পরিশেষে বলা যায়, সাধারণ মানুষের জন্য এটি একটি 'উইন্ডো অফ অপরচুনিটি'। ২৪ ক্যারেট সোনার ১০ গ্রামের লেটেস্ট রেট চেক করে অনেকেই আজ দোকানে ভিড় করার পরিকল্পনা করছেন। রুপোর বিশাল ধসকে কাজে লাগিয়ে বড় কোনো সম্পদ তৈরির এটাই সেরা মুহূর্ত কি না, তা নিয়ে চায়ের ঠেকে এখন জোর চর্চা। দিনশেষে বাজারের রাজা ক্রেতারাই, আর বর্তমান দরপতন তাদের হাতেই ক্ষমতার চাবিকাঠি তুলে দিচ্ছে।