২৫ হাজার টাকার ক্ষেত্রে প্রায় ৫ হাজার টাকা নিয়মিত বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে বড় ফান্ড তৈরি হতে পারে।How to Build Wealth with 25000 Salary: মাসে ২৫ হাজার টাকা আয়। এই আয়ের মধ্যেই ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা, সম্পত্তি গড়ে তোলা। অনেকের কাছেই কঠিন মনে হয়। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এই আয়ের মধ্যেও ধীরে ধীরে সম্পদ তৈরি করা সম্ভব। বয়সভিত্তিক বিনিয়োগই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। প্রথমেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ সঞ্চয়ের জন্য আলাদা করে রাখতে হবে। সাধারণভাবে ‘৫০-৩০-২০’ নিয়ম অনুসরণ করা যেতে পারে। অর্থাৎ, আয়ের ৫০ শতাংশ প্রয়োজনীয় খরচ, ৩০ শতাংশ ব্যক্তিগত খরচ এবং অন্তত ২০ শতাংশ সঞ্চয় ও বিনিয়োগে রাখা উচিত। ২৫ হাজার টাকার ক্ষেত্রে প্রায় ৫ হাজার টাকা নিয়মিত বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে বড় ফান্ড তৈরি হতে পারে।
২০-৩০ বছর বয়স: ঝুঁকি নেওয়ার সময়
এই বয়সে চাকরি শুরু হয়। দায়-দায়িত্ব তুলনামূলক কম থাকে। তাই ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময়ের বিনিয়োগের বড় অংশ ইক্যুইটি বা শেয়ার বাজারভিত্তিক ফান্ডে রাখা যেতে পারে। মাসিক SIP (Systematic Investment Plan) শুরু করলে কম টাকাতেই বড় রিটার্ন পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতির জন্য অন্তত ৬ মাসের খরচ সমান একটি ইমার্জেন্সি ফান্ড তৈরি করা জরুরি।
৩০-৪০ বছর
এই সময়ে পরিবার, বাড়ি, সন্তানের পড়াশোনার খরচ বাড়তে শুরু করে। ফলে বিনিয়োগেও ভারসাম্য দরকার। ইক্যুইটির পাশাপাশি ডেট ফান্ড, রিকারিং ডিপোজিট বা পিপিএফ-এ বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত। এই বয়সে লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ খুব গুরুত্বপূর্ণ—যেমন সন্তানের শিক্ষা, বাড়ি কেনা বা ভবিষ্যতের বড় খরচ।
৪০-৫০ বছর বয়স: ঝুঁকি কমানো দরকার
এই বয়সে আয় স্থিতিশীল থাকলেও ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। তাই ইক্যুইটির অনুপাত কমিয়ে সুরক্ষিত বিনিয়োগে জোর দেওয়া উচিত। ফিক্সড ডিপোজিট, সিনিয়র সিটিজেন স্কিম (ভবিষ্যতের জন্য), বন্ড; এই ধরনের ইনস্ট্রুমেন্টে বিনিয়োগ বাড়ানো ভালো। পাশাপাশি অবসরকালীন তহবিল তৈরি করাও জরুরি।
হিসাব কী বলছে?
ধরা যাক, মাসে ৫ হাজার টাকা SIP-এ বিনিয়োগ করা হচ্ছে এবং গড়ে ১২ শতাংশ রিটার্ন মিলছে। ২০ বছরে সেই টাকার পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। অর্থাৎ, ছোট সঞ্চয়ই দীর্ঘমেয়াদে বড় সম্পদে পরিণত হতে পারে।
বোনাস টিপস
১. যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিনিয়োগ শুরু করুন
২. নিয়মিত বিনিয়োগ বজায় রাখুন
৩. এক জায়গায় সব বিনিয়োগ করবেন না
৪. অপ্রয়োজনীয় খরচ কমান
৫. বিমা (লাইফ ও হেলথ) অবশ্যই রাখুন
মনে রাখবেন, টাকা জমানোর জন্য আয়ের পরিমাণ নয়, ধারাবাহিকতা এবং পরিকল্পনাই আসল। অনেক কম মাইনে পাওয়া মানুষও তাই বেশ বড় অঙ্কের টাকা ব্যাঙ্কে জমিয়ে ফেলতে পারেন। মাথায় রাখবেন, আজকের বিনিয়োগই ভবিষ্যতের আয় হতে পারে।