EV ক্রেতাদের জন্য সুখবর
PM E-DRIVE Scheme: ভবিষ্যতের জন্য বৈদ্যুতিক যানবাহন সম্ভাবনাময় এবং সাশ্রয়ী পরিবহন মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এগুলোর পরিচালন ব্যয় কম হওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য এগুলো সাশ্রয়ী। এছাড়াও, এগুলো দূষণমুক্ত, যা পরিবেশের জন্য উপকারী। সরকারও বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসারে কাজ করছে এবং এই লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প চালাচ্ছে। ভারত সরকার তার পিএম ই-ড্রাইভ প্রকল্পের নিয়ম ও সময়সীমায় কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। এখন বৈদ্যুতিক যানবাহনে ভর্তুকি পেতে হলে মানুষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। এই প্রকল্পের অধীনে, যারা বৈদ্যুতিক দুই-চাকা এবং তিন-চাকার যান কেনেন, তারা ভর্তুকির সুবিধা পান।
আপনি যদি অদূর ভবিষ্যতে একটি ইলেকট্রিক গাড়ি (EV) কেনার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে আপনার জন্য সুখবর রয়েছে। দেশে ইলেকট্রিক গাড়ির (EV) প্রসারের লক্ষ্যে, সরকার তার জনপ্রিয় স্কিম, পিএম ই-ড্রাইভ (PM Electric Drive Revolution in Innovative Vehicle Enhancement)-এর অধীনে ভর্তুকির মেয়াদ বাড়িয়েছে। এই পদক্ষেপটিকে সাধারণ নাগরিকদের জন্য ইলেকট্রিক গাড়িকে সাশ্রয়ী করার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নতুন সময়সীমা কী?
শিল্প মন্ত্রক ভর্তুকির নিয়মাবলী সংশোধন করেছে। বৈদ্যুতিক দুই-চাকার যান ক্রয়কারী গ্রাহকরা এখন ৩১ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত এই ভর্তুকি নিতে পারবেন। ই-রিকশা এবং ই-কার্ট সহ বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যানের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ মার্চ, ২০২৮ পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে, বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যানের L5 ক্যাটাগরির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ায় ডিসেম্বর ২০২৫-এ এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পিএম ই-ড্রাইভ প্রকল্পের মোট বাজেট ১০,৯০০ কোটি টাকা। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এটি একটি ফান্ড-লিমিটেড প্রকল্প। এর মানে হলো, নির্ধারিত সময়সীমার আগেই বরাদ্দকৃত বাজেট শেষ হয়ে গেলে ভর্তুকি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তাই, বিশেষজ্ঞরা ক্রেতাদের শেষ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
ক্রেতাদের জন্য এর অর্থ কী?
সময়সীমা বাড়ানোর ফলে যারা ইলেকট্রিক যানবাহন কেনার পরিকল্পনা করছেন, তারা সরাসরি উপকৃত হবেন। এই ভর্তুকি গাড়ির অন-রোড মূল্য কমিয়ে দেয়, যা মধ্যবিত্তদের জন্য ইভি কেনা সহজ করে তোলে। ইলেকট্রিক দুই-চাকার গাড়ির জন্য ভর্তুকি প্রতি kWh-এ ২,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ সীমা প্রতি গাড়িতে ৫,০০০ টাকা। তবে, একটি মূল্যসীমা রয়েছে। এই ভর্তুকি শুধুমাত্র সেইসব গাড়ির ক্ষেত্রেই পাওয়া যাবে, যেগুলোর এক্স-শোরুম মূল্য নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে। দুই-চাকার গাড়ির জন্য এই সীমা ১.৫ লক্ষ টাকা এবং তিন-চাকার গাড়ির জন্য ২.৫ লক্ষ টাকা।
গাড়ির দামের লিমিট
সব বৈদ্যুতিক যানবাহন ভর্তুকির জন্য যোগ্য হবে না। সরকার একটি সর্বোচ্চ মূল্যও নির্ধারণ করে দিয়েছে। একটি বৈদ্যুতিক দুই-চাকার গাড়ির এক্স-শোরুম মূল্য ১.৫ লক্ষের বেশি হওয়া উচিত নয়। অন্যদিকে, একটি বৈদ্যুতিক তিন-চাকার গাড়ির এক্স-শোরুম মূল্য ২.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হওয়া উচিত। এই সীমা অতিক্রমকারী কোনো যানবাহন কোনও সরকারি ভর্তুকি পাবে না।
চার্জিং পরিকাঠামোর উপর জোর
সরকার শুধু যানবাহন কেনার উপরই নয়, পরিকাঠামোর উপরও মনোযোগ দিচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় দেশজুড়ে গণ চার্জিং স্টেশনের একটি নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এর ফলে বৈদ্যুতিক গাড়ির মালিকদের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমবে এবং মানুষ দূরপাল্লার যাত্রার জন্য বৈদ্যুতিক গাড়ির উপর নির্ভর করতে পারবে।