
নয়া শ্রম আইন লাগু হয়ে গিয়েছে পয়লা এপ্রিল থেকেই। এবার কী ঘটবে? এপ্রিলের যে বেতন ঢুকবে, তাতে দেখা যাবে, খানিকটা কমে গিয়েছে ইন-হল্যান্ড স্যালারি বা টেক হোম মাইনে। ঘাবড়ে গিয়ে CTC চেক করলে দেখবেন, একই রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ওয়েজ রুল বিষয়টি আপনাকে জানতে হবে। এই নিয়মে সিটিসি এক থাকলেও টেক হোম স্যালারি কমে যাবে। খুব সহজ করে বললে, এই নতুন নিয়মে আপনার বেতনের গঠনটাই বদলে যাচ্ছে। দেখে নিন আপনার বেতনের ওপর এর প্রভাব ঠিক কেমন হবে।
সহজ কথায় বদলটা কী?
এতদিন কোম্পানিগুলি বেসিক স্যালারি (Basic Pay) সাধারণত কম রাখত (মোট বেতনের ৩০-৪০ শতাংশ)। বাকি টাকাটা এইচআরএ (HRA) বা অন্যান্য ভাতার নামে দেওয়া হত। এর ফলে কোম্পানিকে প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) বা গ্র্যাচুইটির জন্য কম টাকা দিতে হত। এখন নতুন নিয়মে, বেসিক পে, ডিএ এবং রিটেইনিং অ্যালাওয়েন্স মিলিয়ে আপনার মোট বেতনের অন্তত ৫০ শতাংশ হতেই হবে। যদি আপনার অন্যান্য ভাতা ৫০ শতাংশের বেশি হয়ে যায়, তবে সেই বাড়তি অংশটুকু আবার বেসিক স্যালারির সঙ্গেই জুড়ে দেওয়া হবে।
| আগে যা হত | এখন যা হবে |
| সাধারণত মোট বেতনের ৩০% - ৪০% রাখা হতো। | মোট বেতনের (CTC) অন্তত ৫০% হতেই হবে। |
| HRA, স্পেশাল এলাউন্স ইত্যাদি বাবদ বেশি টাকা দেখানো হতো। | সব ভাতা মিলিয়ে ৫০%-এর বেশি হতে পারবে না। |
| পিএফ (PF) ও গ্র্যাচুইটি কম: বেসিক পে কম হওয়ায়, সেখানে আপনার অবদানও কম হত। | পিএফ (PF) ও গ্র্যাচুইটি বেশি: বেসিক পে বাড়ায়, পিএফ এবং গ্র্যাচুইটির জন্য বেশি টাকা কাটা হবে। |
| প্রতি মাসে হাতে নগদে বেশি টাকা আসত। | প্রতি মাসে হাতে আসা নগদ টাকার পরিমাণ কিছুটা কমবে। |
কেন আপনার ‘টেক-হোম’ স্যালারি কমতে পারে?
মোট বেতন (CTC) কিন্তু একই থাকছে। কিন্তু বেসিক পে বেড়ে যাওয়ায় সেখান থেকে পিএফ (PF) কাটার পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে। যেহেতু পিএফ-এ আপনার নিজের ভাগের অবদান বাড়বে, তাই প্রতি মাসে আপনার হাতে আসা নগদ টাকা বা ‘টেক-হোম পে’ কিছুটা কমে যাবে।
এর ভাল দিক কী?
সাময়িকভাবে হাতে পাওয়া টাকা কমলেও, আপনার ভবিষ্যতের সঞ্চয় কিন্তু অনেক মজবুত হচ্ছে। পিএফ-এ বেশি টাকা জমা হওয়া মানে অবসরের পর আপনি অনেক বড় অঙ্কের টাকা পাবেন। গ্র্যাচুইটি হিসেব করা হয় আপনার শেষ পাওয়া বেসিক বেতনের ওপর ভিত্তি করে। যেহেতু বেসিক পে বাড়ছে, তাই চাকরি ছাড়ার সময় বা অবসরের সময় আপনার গ্র্যাচুইটির অঙ্ক আগের চেয়ে প্রায় ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
কার ওপর প্রভাব সবচেয়ে বেশি?
যাঁদের বার্ষিক আয় ৬ লক্ষ টাকার মধ্যে, তাঁদের ক্ষেত্রে হাতে পাওয়া বেতনের কম পাওয়া বেশি বোঝা যেতে পারে। অন্যদিকে, উচ্চবিত্ত বা উচ্চ আয়ের কর্মীদের ক্ষেত্রে হাতে পাওয়া বেতনের ওপর প্রভাব পড়বে মাত্র ১-২ শতাংশের মতো।
এই ৫০% নিয়ম আপনার বেতন কমাচ্ছে না, বরং সেটিকে নতুনভাবে সাজিয়ে দিচ্ছে। আজকের কিছু নগদ টাকা আসলে আপনার কালকের ভবিষ্যতের জন্য জমা করা হচ্ছে। তাই পরের মাসে ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স একটু কম দেখলে ঘাবড়াবেন না।