ট্রাইব্যুনালে নাম ডিলিটসোমবার রাতে ১২ তম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মাধ্যমেই ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন অ্যাডজুডিকেশন বা বিচারাধীন ভোটারের নামের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে বলে জানান হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে। আর অ্যাডজুডিকেশন থাকা অবস্থায় যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদেরকে পুনরায় ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য অ্যাপ্লাই করতে হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে। সেখানে আবার নতুন করে নামের নিষ্পত্তি হচ্ছে।
এখন মুশকিল হল, অনেক ভোটারের নাম ট্রাইব্যুনাল থেকেও বাদ যাচ্ছে। এই সব ভোটারারা ঠিক কী করবেন? আর সেই উত্তরটাও দিয়ে রেখেছে নির্বাচন কমিশন।
কমিশনের পক্ষ থেকে সিইও মনোজকুমার আগরওয়ার জানান, যাঁদের নাম ট্রাইব্যুনাল থেকে বাদ যাবে, তাঁরা আদালতে যেতে পারেন। সেখানে গিয়ে আবেদন জানাতে পারেন। আদালতই সেই মামলার নিষ্পত্তি করবে। সেই নির্দেশ মতো নেওয়া যাবে ব্যবস্থা।
তাঁরা কি এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন?
এই বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি কমিশন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোট আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তাই এখন আদালতে আপিল করার পর তার দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া বেশ কঠিন কাজ। তাই এই ভোটে ট্রাইব্যুনাল থেকে ডিলিটেড ভোটারদের ভোট দেওয়া খুবই কঠিন কাজ হতে পারে। তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় উঠতে উঠতে এবারের ভোট পেরিয়ে যেতে পারে।
ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি চলছে
মাথায় রাখতে হবে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল ভোটার লিস্ট বেরিয়েছিল। সেখানে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ ছিলেন অ্যাডজুডিকেশন তালিকায়। তাদের নামের নিষ্পত্তি করছিলেন বিচারবিভাগীয় অফিসাররা। আর সেখানে অনেকের নাম বাদ পড়ছে।
সেই সব ডিলিটেড ভোটারদের জন্য ট্রাইব্যুনাল তৈরি করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। সেখানে যাঁরা যাঁরা আবেদন করছেন, তাঁদের নামের নিষ্পত্তি হচ্ছে। অনেকের নাম আবার ভোটার লিস্টে ঢুকছে। আবার কারও কারও নাম হয়ে যাচ্ছে ডিলিট। আর ট্রাইব্যুনাল থেকে ডিলিটেড সেই সব ভোটাররাই আবার কোর্টে আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে কমিশন।
কত মানুষের নাম বাদ পড়ল?
মোট বিবেচনাধীন ছিলেন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটার। এই সব ভোটারদের নামের নিষ্পত্তি ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে বাদ পড়েছেন প্রায় ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জন। আর ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হওয়া চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়েছিল ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের নাম। আর এই দুই যোগ করলে বলা যায়, মোট বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৮৫ জন।