
উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলায় এক ব্যতিক্রমী ঘটনাকে ঘিরে চর্চা তুঙ্গে। যোগেশ নামে এক যুবক নিজের বিবাহবিচ্ছেদ উদযাপন করতে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ দণ্ডবত যাত্রা করে সকলকে চমকে দিয়েছেন। সাধারণত এমন যাত্রা দেখা যায় মানত পূরণ বা কোনও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার আশায়, কিন্তু যোগেশের ক্ষেত্রে ছবিটা একেবারেই উল্টো।
মাত্র দু’বছরের দাম্পত্য জীবনেই ক্রমাগত অশান্তি ও মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছিল তাঁকে। ছোটখাটো মতবিরোধ ধীরে ধীরে বড় আকার নেয়, যা তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। অবশেষে সম্পর্ক ভাঙনের পথে এগোলে তিনি ভানপুরের বাডওয়া মাতা মন্দিরে এক অদ্ভুত মানত করেন, বিবাহ থেকে মুক্তি পেলে দণ্ডবত যাত্রা করে মন্দিরে পৌঁছবেন।
আইনগত বিচ্ছেদ সম্পন্ন হতেই নিজের প্রতিশ্রুতি রাখতে এক ভোরবেলায় যাত্রা শুরু করেন যোগেশ। খাবার বা জল ছাড়াই, বারবার মাটিতে শুয়ে প্রণাম করে এগিয়ে চলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পরিবারের সদস্য ও গ্রামের মানুষজন, যারা ভক্তিগান গেয়ে তাঁকে উৎসাহ জোগান। প্রায় সারাদিনের পরিশ্রমের শেষে সন্ধ্যায় মন্দিরে পৌঁছন তিনি। ততক্ষণে তাঁর হাঁটু রক্তাক্ত, শরীর ক্লান্তিতে অবসন্ন।
তবুও মুখে ছিল এক অদ্ভুত শান্তি ও মুক্তির অনুভূতি। প্রার্থনা শেষে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই ঘটনা শুধু স্থানীয় স্তরেই নয়, বৃহত্তর সমাজেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আধুনিক দাম্পত্য জীবনের চাপ ও মানসিক যন্ত্রণার প্রতিফলনই এই ঘটনা, যেখানে বিশ্বাসই শেষ আশ্রয় হয়ে ওঠে।