আলিপুরদুয়ারে কংগ্রেসে মারামারিভোট আবহে এবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল আলিপুরদুয়ারের কংগ্রেস ভবন। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে কার্যত দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ল জেলা নেতৃত্ব। প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভের জেরে গত শুক্রবার জেলা পার্টি অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী। রবিবার সেই তালা ভাঙতে গিয়েই রক্তারক্তি কাণ্ড বাঁধল দুই শিবিরের মধ্যে। বাঁশ, লাঠি আর ঘুষির লড়াইয়ে ভাঙল প্রাক্তন সভাপতির নাক, রক্তে ভেসে গেল দলীয় কার্যালয়ের মেঝে। পরিস্থিতি সামলাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী নামাতে হয় প্রশাসনকে।
ঘটনার সূত্রপাত জেলা সভাপতি মৃণ্ময় সরকারকে প্রার্থী করা নিয়ে। বিরোধীদের দাবি, মৃণ্ময়বাবু আদতে ‘বহিরাগত’, তাঁকে কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এই দাবিতেই গত কয়েকদিন ধরে উত্তপ্ত ছিল এলাকা। রবিবার বিকেলে মৃণ্ময় গোষ্ঠী তালা ভেঙে পার্টি অফিসের দখল নিতে গেলে পালটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা কাউন্সিলর শান্তনু দেবনাথের অনুগামীরা। দু’পক্ষের বচসা মুহূর্তে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। অভিযোগ, মৃণ্ময় গোষ্ঠীর এক সমর্থকের ঘুষিতে নাক ফেটে যায় শান্তনুবাবুর। এরপরই দু’পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘটনায় দুই শিবিরের অন্তত চারজন গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এই ঘটনায় শান্তনু দেবনাথ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “আবারও তালা ঝুলবে পার্টি অফিসে। বহিরাগত প্রার্থী দিয়ে কোনওভাবেই ভোট পরিচালনা করতে দেব না।” অন্যদিকে, প্রার্থী মৃণ্ময় সরকারের পালটা চ্যালেঞ্জ, “যাঁদের যেমন সংস্কৃতি, তাঁরা তেমনই রূপ দেখাচ্ছেন। তবে ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাওয়ার পাত্র আমি নই। শেষ দেখে ছাড়ব।” ভোটের মুখে দলের এমন কঙ্কালসার চেহারা প্রকাশ পাওয়ায় তীব্র অস্বস্তিতে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব।