জলপাইগুড়ি বৃদ্ধা খুন মামলাJalpaiguri Elderly Woman Beheaded News 2026: সাতাত্তর বছরের বৃদ্ধার ধড় পড়েছিল বাড়ির পিছনে, কিন্তু নিখোঁজ ছিল মুণ্ড। গত চারদিন ধরে ড্রোন থেকে ডুবুরি। সব নামিয়েও যা খুঁজে পায়নি পুলিশ, সেই রহস্যের জট এবার খুলতে শুরু করেছে। জলপাইগুড়ির বাহাদুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চয়চণ্ডী কামাত গ্রামের সামিদা খাতুন (৭৩) খুনের ঘটনায় অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল মেজ জামাই আলামিন হক। সোমবার রাতে শিলিগুড়ির ভারতনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জেরায় খুনের কথা স্বীকার করলেও, কেন এই নৃশংসতা, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় তদন্তকারীরা। মঙ্গলবার ধৃতকে জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
সম্পত্তি বিবাদ বনাম তন্ত্রসাধনা: মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৌভনিক মুখোপাধ্যায় জানান, খুনের নেপথ্যে দুটি জোরালো সম্ভাবনা উঠে আসছে। প্রথমটি হলো পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিবাদ। মৃত বৃদ্ধা সম্প্রতি তাঁর বাপের বাড়ির সূত্রে এক বিঘা জমি পান, যা তিনি মেজ ও ছোট নাতিকে দিতে চেয়েছিলেন। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবারের বাকিদের সঙ্গে আলামিনের বিবাদ চরমে ওঠে। দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি আরও ভয়ানক, ‘কালা জাদু’ বা তন্ত্রবিদ্যা। পুলিশের সন্দেহ, তান্ত্রিক রফিকুল ও হামিদুলের সঙ্গে যোগসাজশে বৃদ্ধাকে বলি দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
কাটামুণ্ডের সন্ধানে তল্লাশি: গত শনিবার সামিদা খাতুনের দেহ উদ্ধারের পর থেকেই পুলিশ কুকুর ও ড্রোনের সাহায্যে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। এমনকি স্থানীয় পুকুরে ডুবুরি নামিয়েও বৃদ্ধার কাটামুণ্ড পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীদের দাবি, মুণ্ডটি না পাওয়ার কারণেই তন্ত্রসাধনার তত্ত্বটি আরও জোরালো হচ্ছে। ধৃত আলামিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইতিমধ্যে দুই তান্ত্রিকের হদিস পেয়েছে পুলিশ। তাঁদের খোঁজেও তল্লাশি শুরু হয়েছে। ২০২৬-এর এই আধুনিক সময়ে দাঁড়িয়েও ডাইনি প্রথা বা কালা জাদুর মতো অন্ধকার দিকটি ভাবিয়ে তুলছে প্রশাসনকে।
শিলিগুড়িতে পলাতক জামাই: ঘটনার দিন থেকেই ঘরজামাই আলামিন এলাকা থেকে বেপাত্তা ছিল। পুলিশ তার গতিবিধির ওপর নজর রেখে জানতে পারে সে শিলিগুড়িতে গা ঢাকা দিয়েছে। ভারতনগর এলাকা থেকে তাকে পাকড়াও করার পর জলপাইগুড়ি নিয়ে আসা হয়। সহকারী সরকারি আইনজীবী মৃন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই খুনের ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং বৃদ্ধার কাটামুণ্ডটি কোথায় লুকানো হয়েছে, তা জানতেই আলামিনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই শিউরে ওঠা ঘটনায় গোটা চয়চণ্ডী কামাত গ্রাম এখন আতঙ্কে থমথমে।