আলু চাষিদের হাল খারাপবাজারে আলুর দাম কমেছে। কিন্তু তাতে মাথায় হাত পড়েছে আলু চাষিদের। রাজ্যের একাধিক জেলায় আলু চাষ করে এখন গাঁটের কড়ি গুনতে হচ্ছে বহু চাষিকে। কারণ আলু কেনার লোক নেই। অগ্যতা লোকসান করেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের।
২-৩ টাকা দরে আলু বিক্রি হচ্ছে
পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা থেকে সুমন মণ্ডল এক আলু চাষি জানান, রাজ্যে আলু উৎপাদনের গড় হিসেবে পরিচিত চন্দ্রকোণা। এখানে আজ মাঠ থেকে জ্যোতি আলু বিক্রি হয়েছে কুইন্টাল প্রতি ২০০ টাকা দরে। অর্থাৎ প্রতি কেজি আলু বিক্রি করে চাষি পেয়েছেন মাত্র ২ টাকা। অন্যদিকে, K22 আলু আজ মাঠে বিক্রি হয়েছে ৩০০ টাকা প্রতি কুইন্টাল।
বিঘা প্রতি লোকসান হচ্ছে চাষিদের
ওই আলু চাষি জানান, অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে প্রতি বিঘায় আলু চাষ করতে কৃষকদের খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু তারা বিঘা প্রতি আলু বিক্রি করে ২৩-২৪ হাজার টাকার বেশি ঘরে তুলতে পারছে না। অর্থাৎ প্রতি বিঘায় প্রায় ১৬-১৭ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে চাষিদের। তাঁর দাবি, "মাঠেই প্রচুর পরিমাণে আলু এখনও পড়ে রয়েছে। ঘাটালে এই নিয়ে কৃষকেরা বিক্ষোভও দেখিয়েছে। এরমধ্যে বৃষ্টি এলে প্রচুর আলু আরও নষ্ট হবে।"
রাজ্য কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
আলু চাষিদের স্বস্তি দিতে উত্তরবঙ্গ থেকে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকারও। রাজ্য সরকারের টাস্ক ফোর্স টিমের সদস্য কমল দে bengali.aajtak.in-কে বলেন, তারকেশ্বর থেকে ট্রেনে করে ইতিমধ্যেই অসম ও ত্রিপুরায় আলু পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এরফলে রাজ্যের কৃষকেরা কেজি প্রতি প্রায় ৫টাকা করে আলুর দাম পাচ্ছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এই টাকার অঙ্ক ৬-৭ টাকা হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার সরাসরি কৃষকদের থেকে আলু কিনছে। সেক্ষেত্রে ৭-৮ টাকা করে কেজি প্রতি দাম পান কৃষকেরা। যদিও সূত্রের দাবি, রাজ্যের হিমঘর বর্তমানে আলু বোঝাই। ফলে আর আলু নেওয়ার তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই।
বাজারে আলুর দাম কত?
শিয়ালদা কোলে মার্কেটে সোমবার প্রতি কেজি জ্যোতি আলুর পাইকারি রেট রয়েছে সাড়ে ৭টাকা। কিন্তু খুচরো বাজারে এই দাম রয়েছে ১২-১৪ টাকা। অর্থাৎ যে আলু ১৪ টাকায় সাধারণ মানুষ কিনছে, সেই আলু কৃষক মাঠ থেকে বিক্রি করছেন ২-৫ টাকার মধ্যে। এরপর নানা হাত ঘুরে বাজারে আসতেই বাড়ছে দাম। আর কপাল চাপড়াচ্ছেন কৃষকেরা।