সোমবার শুনানির সময় মুখ্যসচিব ও ডিজিপিকে সরাসরি ভর্ৎসনা করে শীর্ষ আদালত।মালদার মোথাবাড়ি ঘটনায় রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)। সোমবার শুনানির সময় মুখ্যসচিব ও ডিজিপিকে সরাসরি ভর্ৎসনা করে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি বলেন, 'নিজেদের এতটাও উঁচুতে রাখবেন না, যে প্রধান বিচারপতিও আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না।'
এদিন মালদায় বিচারক ঘেরাও কাণ্ডের শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। অভিযোগ, SIR-এর সঙ্গে যুক্ত বিচারকদের প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে ঘেরাও করে রাখা হয়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, রাতেই হস্তক্ষেপ করতে হয় প্রধান বিচারপতিকে (Chief Justice of India)। আদালত এ দিন প্রশ্ন তোলে, এত বড় ঘটনায় কেন সময়মতো প্রশাসনের শীর্ষস্তরে যোগাযোগ করা গেল না?
ভিডিও কনফারেন্সে হাজির ছিলেন মুখ্যসচিব। জানান, তিনি তখন দিল্লিতে বৈঠকে ছিলেন। কলকাতা থেকে কোনও ফোন পাননি। তবে এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। বিচারপতি বাগচী (Justice Bagchi) বলেন, 'সন্ধ্যার সময় ফোন আসতেই যদি মোবাইল নম্বর শেয়ার করে নিতেন, তা হলে প্রধান বিচারপতি এবং হাইকোর্ট প্রশাসনের অনেক সুবিধা হত।'
মুখ্যসচিব তখন দাবি করেন, তাঁর নম্বর যে কেউ পেতে পারেন, সহজলভ্য। তার জবাবে বিচারপতি বলেন, 'আপনারা নিজেদের এতটাও উঁচুতে রাখতে পারেন না যে প্রধান বিচারপতির পক্ষেও যোগাযোগ করা সম্ভব হবে না। নিজেদের একটু নিচে নামান।' বিশ্লেষকরা বলছেন আদালতের পর্যবেক্ষণে একটি বিষয় স্পষ্ট। প্রশাসনের 'অ্যাক্সেসিবিলিটি' নিয়েই প্রশ্ন তুলছে আদালত।
শুধু তিরস্কারেই থামেনি শীর্ষ আদালত। মুখ্যসচিব ও ডিজিপিকে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের মন্তব্য, 'সিভিল প্রশাসন এবং পুলিশের ব্যর্থতার কারণেই বিচারকদের বিশেষ ক্ষমতা দিতে হয়েছে।'
শুনানিতে আরও উঠে আসে, বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ ঘটনা শুরু হলেও রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত তা শীর্ষ আদালতের নজরে আসেনি। এই সময়ের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর কথায়, 'এটাই কি আমলাতন্ত্রের কাজের ধরণ? এ রাজ্যে বিশৃঙ্খলা চলছে।'
ফিল্ডে থাকা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ। জেলা শাসক ও পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকলেও কার্যত কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। বিচারপতি বাগচি বলেন, 'রেজিস্ট্রি থেকে এসপিকে ফোন করা হলে তিনি জানান, সেখানে মহিলারা রয়েছেন, পদক্ষেপ নিলে সমস্যা হতে পারে।' আদালতের মতে, এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
যদিও এই মুহূর্তে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি আদালত। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির রিপোর্টের অপেক্ষা করার কথা জানিয়েছে বেঞ্চ। তবে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনে আরও সতর্ক থাকতে হবে প্রশাসনকে।
এদিকে, রাজ্য সরকারের তরফেও হলফনামায় জমা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শাহজাহান কাদরি ও মাফতুল ইসলাম নামে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, বিচারকদের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তাঁরা জড়িত। বর্তমানে তাঁরা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য NIA-র হাতে তুলে দেওয়া হবে।
ঘটনার পেছনে কারা উস্কানি দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই জমায়েত 'স্বতঃস্ফূর্ত' নয়, বরং 'পরিকল্পিত'। 'কারা দায়ী, তা খুঁজে বার করুন। আমরা এই ঘটনার শেষ পর্যন্ত দেখতে চাই,' বার্তা শীর্ষ আদালতের।