বালেন শাহনেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বালেন্দ্র শাহ। শপথ নেওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সরকার ও প্রশাসনে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন তিনি। মোট ১০০ দফা পরিকল্পনার ঘোষণা করা হয়েছে সরকারের তরফে।
বালেন্দ্রর ঘোষণা অনুযায়ী তাঁর লক্ষ্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে সংস্কার ও সুষ্ঠভাবে দেশ পরিচালনা। ছাত্রদের আন্দোলনকে হাতিয়ার করে ক্ষমতায় এসেছেন তিনি। অথচ সেই ছাত্র রাজনীতিতেই নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে তাঁর তরফে। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ
ক্ষমতায় এসেই বালেন শাহ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাস থেকে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তার বদলে ৯০ দিনের মধ্যে ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’ বা ‘ভয়েস অফ স্টুডেন্টস’-এর মতো অরাজনৈতিক সংগঠন গঠনের কথা বলা হয়েছে।
সরকারের দাবি, ছাত্র সংগঠনগুলির কারণে ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে হিংসা, ভাঙচুর চলে। শিক্ষার পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। তবে সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
শুধু ছাত্র রাজনীতি নয়, সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদেরও রাজনৈতিক দলীয় সম্পর্ক রাখার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সরকারি দফতরে থাকা দলীয় ট্রেড ইউনিয়নও বাতিল করা হবে। বালেন্দ্র শাহর সমর্থকদের মতে, এতে প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও গতি আসবে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, এতে কর্মীদের অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে এবং ভিন্নমতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে না।
শিক্ষাক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন
শিক্ষা ব্যবস্থাতেও একাধিক সংস্কার আনা হয়েছে। স্নাতকস্তরে ভর্তি হতে নাগরিকত্বের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষার ফল প্রকাশে নির্দিষ্ট সময়সীমা বাধ্যতামূলক করা হবে।
বিরোধী নেতাদের গ্রেফতার
সংস্কারের পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে নতুন সরকার। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী রমেশ লেখককেও আটক করা হয়েছে।
এছাড়া, এক নাবালিকা গৃহকর্মীর উপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগে বিধায়ক রেখা শর্মাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের পাশে সরকার
জেন জি আন্দোলনে নিহত ২৭ জন ছাত্রের পরিবারের জন্য সরকারি চাকরির ঘোষণা করেছে বালেন শাহ সরকার। প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক: নতুন সূচনা?
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বালেন শাহ। জানিয়েছেন, তিনি ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
তবে অতীতে ‘গ্রেটার নেপাল’ ইস্যু ও ভারতের প্রভাব নিয়ে বালেন শাহর কড়া অবস্থানের কারণে দিল্লি আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, দ্রুত এবং কঠোর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন নেপালের নবীন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর পদক্ষেপ যেমন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তেমনই তৈরি করছে তৈরি হচ্ছে বিতর্কও।