লকডাউন গুজবের মধ্যেই ছড়াচ্ছে নতুন Covid ভ্যারিয়েন্ট 'সিকাডা', কতটা চিন্তার?

করোনাভাইরাসের নতুন এক ভেরিয়েন্ট নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে। ‘সিকাডা’ নামে চিহ্নিত নতুন এই কোভিড ভ্যারিয়েন্ট ইতিমধ্যেই একাধিক দেশে সীমিত পরিসরে ধরা পড়েছে। তবে চিন্তার কিছু নেই। আপাতত আতঙ্কের কোনও কারণ নেই বলেই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

Advertisement
লকডাউন গুজবের মধ্যেই ছড়াচ্ছে নতুন Covid ভ্যারিয়েন্ট 'সিকাডা', কতটা চিন্তার? আপাতত আতঙ্কের কোনও কারণ নেই বলেই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
হাইলাইটস
  • গ্যাস সঙ্কটের পরিস্থিতিতে অনেকেই লকডাউন নিয়ে আলোচনা করছেন।
  • পেট্রোল-ডিজেল বাঁচাতে পরিবহন ব্যবস্থাতেও কাটছাঁট করা যেতে পারে।
  • সেই বিষয়ে কোনও অফিসিয়াল নোটিফিকেশন নেই কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের।

গ্যাস সঙ্কটের পরিস্থিতিতে অনেকেই লকডাউন নিয়ে আলোচনা করছেন। কেউ কেউ বলছেন, চরম পরিস্থিতি হলে, পেট্রোল-ডিজেল বাঁচাতে পরিবহন ব্যবস্থাতেও কাটছাঁট করা যেতে পারে। সেই বিষয়ে কোনও অফিসিয়াল নোটিফিকেশন নেই কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের। তবে কঠিন পরিস্থিতিতে লকডাউনের সময়কার কথা মনে করিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। কোভিডকালের মতোই এই পরিস্থিতি সামলে নেওয়া হবে, আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী। তবে এরই মাঝে নতুন করে ভয় ধরাচ্ছে লকডাউন। না, গ্যাস-তেল নিয়ে সেই ভয় আপাতত নেই। এই আলোচনার মূলে সেই কোভিড-ই। 

করোনাভাইরাসের নতুন এক ভেরিয়েন্ট নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে। ‘সিকাডা’ নামে চিহ্নিত নতুন এই কোভিড ভ্যারিয়েন্ট ইতিমধ্যেই একাধিক দেশে সীমিত পরিসরে ধরা পড়েছে। তবে চিন্তার কিছু নেই। আপাতত আতঙ্কের কোনও কারণ নেই বলেই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন স্ট্রেনে এখনও পর্যন্ত তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। ফলে এগুলি যে আগের ভ্যারিয়েন্টগুলির তুলনায় বেশি বিপজ্জনক এমনটাও বলা যায় না।
Covid

গবেষকদের মতে, ‘সিকাডা’ মূলত COVID-19-এর Omicron variant-এর একটি সাব-লাইনের থেকে তৈরি হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাসের গঠনে কিছু নতুন পরিবর্তন বা মিউটেশন হয়েছে। বিশেষ করে ‘স্পাইক প্রোটিন’-এ এই পরিবর্তনগুলি লক্ষ্য করা গিয়েছে; যে অংশটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে ভাইরাসকে সাহায্য করে।

এই নতুন মিউটেশনগুলির কিছু ক্ষেত্রে ‘ইমিউন এস্কেপ’-এর ইঙ্গিত মিলেছে। অর্থাৎ, আগে সংক্রমণ বা টিকা নেওয়ার ফলে শরীরে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডিকে আংশিকভাবে এড়িয়ে যেতে পারে এই ভ্যারিয়েন্ট। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি নতুন কিছু নয়; সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ভ্যারিয়েন্টেই এমন প্রবণতা দেখা গিয়েছে।

কতটা বিপজ্জনক?
এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বলছে, ‘সিকাডা’ ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমণের লক্ষণ মূলত Omicron variant-এর মতোই। হালকা শ্বাসকষ্ট, জ্বর, ক্লান্তি এবং গলা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।
 

 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

A post shared by India Today (@indiatoday)

Advertisement

Delta variant-এর মতো গুরুতর অসুস্থতা বা হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি বাড়ার কোনও স্পষ্ট প্রমাণ এখনও মেলেনি। আবার ওমিক্রনের মতো দ্রুত ছড়ানোর প্রবণতাও এখনো নিশ্চিতভাবে ধরা পড়েনি। ফলে এই মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে বলে মত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

ভারতে ভয়ের কিছু?
ভারতের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকতে বললেও আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। গত কয়েক বছরে ব্যাপক টিকাকরণ এবং একাধিক সংক্রমণ তরঙ্গের ফলে দেশের একটি বড় অংশের মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

তবে নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং জিনোম সিকোয়েন্সিং সিস্টেমের মাধ্যমে নতুন ভ্যারিয়েন্টের উপর নজরে রাখা হচ্ছে। যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

কী করণীয়?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আগের মতোই কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চলাই সবচেয়ে কার্যকর। অর্থাৎ পুষ্টিকর খাবার, ফল খান। গায়ে রোদ লাগান। বাইরে থেকে এসে অবশ্যই হাত ধুয়ে ফেলুন। খুব ভিড় হলে মাস্কও পরতে পারেন। তবে 

বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাঁদের শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা কী বলছেন?
বিজ্ঞানীদের মতে, ভাইরাসের মিউটেশন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন ভ্যারিয়েন্ট তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। ‘সিকাডা’-র আবির্ভাব সেই প্রক্রিয়ারই অংশ।

তবে এখনই এই ভ্যারিয়েন্ট বড়সড় বিপদের কারণ হবে; এমন কোনও ইঙ্গিত নেই। তবুও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা জরুরি। কারণ, সময়ের সঙ্গে ভাইরাসের আচরণ বদলাতেও পারে।

অর্থাৎ, ‘সিকাডা’ ভ্যারিয়েন্ট নতুন হলেও আপাতত নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। সতর্কতা বজায় রাখাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। 

POST A COMMENT
Advertisement