
ইরানে এবার একটি বড়সড় সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা ছকে ফেলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গোয়েন্দা কর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ ইউরেনিয়াম বাজেয়াপ্ত করার প্ল্যান করেছেন। ৪৫৩.৫ কিলোগ্রাম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজের কব্জায় করতে চান তিনি। যে ইউরেনিয়ামের জন্যই ইরান শীর্ষ নেতা ও সামরিক কমান্ডারদের জীবন উৎসর্গ করে এত দীর্ঘ যুদ্ধ চালাচ্ছে। আমেরিকা যে কোনও মূল্যে এই ৪৫৩.৫ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম অধিগ্রহণ করতে চায়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এই প্রস্তাবিত অভিযানটি অনুমোদিত হলে মার্কিন সেনারা বেশ কয়েক দিন ইরানের মাটিতে উপস্থিত থাকবে। এই পদক্ষেপটি বর্তমান সংঘাতে একটি বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি করবে বলেই অনুমান।
গোয়েন্দা কর্তারা আরও জানিয়েছেন, এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে ট্রাম্প এই বিকল্পটির ব্যাপারে আগ্রহী। কারণ এটি তাঁর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি চান ইরান যেন কখনওই পারমাণু অস্ত্র তৈরি না করে। তবে এই অভিযানে জড়িত মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিয়েও তাঁর উদ্বেগ রয়েছে।
৪৫৩.৫ কেজি ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে আনুমানিক ১০-১১টি বোমা তৈরি করা যায়। তবে এটি একটি তাত্ত্বিক হিসাব এবং প্রকৃত কার্যকারিতা এর চেয়ে কিছু কমবেশি হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি কূটনৈতির বিকল্পের উপরও জোর দিয়েছেন এবং যুদ্ধ শেষ করার একটি বৃহত্তর চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে এই উপাদান হস্তান্তরের জন্য চাপ দিতে তাঁর উপদেষ্টাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তিনি ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, 'ইরানিরা এই উপাদান রাখতে পারবে না।' আলোচনা ব্যর্থ হলে বলপূর্বক ইউরেনিয়াম অধিগ্রহণের বিষয়েও ইঙ্গিত দেন।
রবিবার রাতে ট্রাম্প একটি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'ইরানকে অবশ্যই আমেরিকার দাবি মেনে নিতে হবে। তাদের আর কোনও দেশই অবশিষ্ট থাকবে না। ওরাই আমাদের হাতে পরমাণু ধূলিকণা তুলে দেবে।'
ইরানের গোপন ইউরেনিয়াম কোথায়?গত বছরের জুন মাসে মার্কিন ও ইজরায়েলি বিমান হামলার আগে ধারণা করা হত, ইরানের কছে ৪০০ কিলোগ্রামেরও বেশি হাই কোয়ালিটির ইউরেনিয়াম এবং প্রায় ২০০ কিলোগ্রাম ফিশন উপাদান ছিল।
IAEA প্রধান রাফায়েল গ্রোসির মতে, এই মজুত সম্ভবত ওই হামলায় লক্ষ্যবস্তু হওয়া ২টি প্রধান কেন্দ্র ছিল। ইসফাহানের একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ এবং নাতাঞ্জের একটি প্ল্যান্ট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রয়োজনে ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র স্থাপনের ক্ষমতাও ইরানের এখনও রয়েছে।
আমেরিকার প্ল্যান কতটা ভয়ানক হতে পারে?
সামরিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ইউরেনিয়া বাজেয়াপ্ত করার যে কোনও প্রচেষ্টা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আমেরিকা পরিচালিত সবচেয়ে জটিল অভিযানগুলির মধ্যে অন্যতম। আমেরিকার শত্রু অঞ্চলে প্রবেশ করতে হবে যেখানে তারা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন এবং ক্ষএপণাস্ত্রের হুমকির সম্মুখীন হবে। স্থলভাবে পৌঁছনোর পর সেনা এলাকাটি ঘিরে ফেলবে ও সুরক্ষিত করবে। একইসঙ্গে বিশেষ টিমকে ধ্বংসাবশেষ, ল্যান্ডমাইন ও অন্যান্য ফাঁদ এড়িয়ে ইউরেনিয়ামের সন্ধান করতে হবে।
ধারণা করা হয়, এই ইউরেনিয়াম ৪০ থেকে ৫০টি বিশেষ সিলিন্ডারে সংরক্ষণ করা আছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী এই ইউরেনিয়াম বাজেয়াপ্ত করতে পারলেও তা সুরক্ষিত সরঞ্জামের মাধ্যমে নিরাপদে পরিবহণ করতে হবে। যার জন্য সম্ভবত একাধিক যানবাহনের প্রয়োজন হবে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রাক্তন কমান্ডার জোসেফ ভোতেল বলেন, 'এটা এমন কিছু নয়, যা দ্রুত করা যায়। এই অভিযানে কয়েক দিন এমনকী, কয়েক সপ্তাহও লেগে যেতে পারে। ইউরেনিয়াম উত্তোলনের স্থানে যদি উপযুক্ত বিমানবন্দর না থাকে তবে সরঞ্জাম পরিবহণ এবং উত্তোলিত পদার্থ অপসারণের জন্য সামরিক বাহিনীকে নিজেদেরই একটি বিমানবন্দর নির্মাণ করতে হবে।
রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ভয়
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানের অস্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। এই ধরনের কোনও পদক্ষেপ ইরানের পক্ষ থেকেও প্রতিশোধ মূলক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্ট করবে।
কূটনৈতিক পথ খোলা
একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান এখনও সম্ভব। যদিও উভয়পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড়। কূটনৈতিক আলোচনার জন্য উপযুক্ত সময় কমে আসছে। আপাতত সিদ্ধান্তটি ট্রাম্পের হাতেই রয়েছে।